Ajker Patrika

কমিশনহীন দুদক: মামলাহীন এক মাস, থেমে আছে সিদ্ধান্ত

  • অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগ দেওয়া কমিশন গত ৩ মার্চ পদত্যাগ করে।
  • নতুন কমিশন গঠন না হওয়ায় সংস্থাটির কার্যক্রম কার্যত অচল।
  • এক মাসে কার্যত স্থবির দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম।
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
কমিশনহীন দুদক: মামলাহীন এক মাস, থেমে আছে সিদ্ধান্ত

দুর্নীতি অনুসন্ধান ও তদন্তে রাষ্ট্রের বিশেষায়িত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চেয়ারম্যান ও কমিশনারশূন্য অবস্থায় রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগ দেওয়া কমিশন গত ৩ মার্চ পদত্যাগ করার পর থেকে নতুন কমিশন গঠন না হওয়ায় সংস্থাটির কার্যক্রমে কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, কমিশন না থাকায় সংস্থাটিতে এখন নতুন করে অভিযোগ অনুসন্ধান, মামলা দায়ের, চার্জশিট অনুমোদন, সম্পত্তি ক্রোক কিংবা অভিযুক্তদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পুরোনো নথি ঘাঁটাঘাঁটি ছাড়া কার্যত কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। এই সময়ের মধ্যে দুদকে নতুন একটিও মামলাও করা হয়নি।

দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সংস্থাটির প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তই কমিশনের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। ফলে চেয়ারম্যান ও কমিশনার না থাকায় দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ, অর্থ পাচার, সম্পদ জব্দ বা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জরুরি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার মতো বিষয়গুলো ঝুলে আছে।

এ বিষয়ে দুদকের মুখপাত্র ও মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বলেন, ‘কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপরই দুদকের সার্বিক কার্যক্রম নির্ভরশীল। কমিশন না থাকায় নতুন করে অভিযোগ অনুসন্ধান, মামলা দায়ের কিংবা চার্জশিট দাখিল–কোনোটিই করা যাচ্ছে না। এতে একধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।’

দুদককে আরও স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দুর্নীতি দমন কমিশন আইন সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছিল। ওই সংশোধনের মাধ্যমে তিন সদস্যের পরিবর্তে পাঁচ সদস্যের কমিশন গঠনের বিধান রাখা হয়। একই সঙ্গে ‘সার্চ কমিটি’র পরিবর্তে সাত সদস্যের ‘যাচাই-বাছাই কমিটি’র মাধ্যমে কমিশন গঠনের প্রক্রিয়াও নির্ধারণ করা হয়। সেখানে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বের মতো নতুন বিধানও সংযোজন করা হয়েছিল।

তবে নতুন কমিশন গঠনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী নতুন কমিশন গঠন করতে হলে পাঁচ সদস্যের কমিশন গঠন করতে হবে। কিন্তু এ প্রক্রিয়া নিয়ে এখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংশোধিত অধ্যাদেশ বাতিল হলে কমিশন গঠন হবে দুদকের পুরোনো আইনে।

দুদকের মহাপরিচালক মঈদুল ইসলাম বলেন, গণমাধ্যমে যে খবর এসেছে, তাতে বিএনপি সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা দুদক, বিচার বিভাগসহ কয়েকটি অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে এসব অধ্যাদেশ বাতিল না করে পুরোনো আইনে কমিশন গঠনেরও সুযোগ নেই।

প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর ড. আবদুল মোমেনকে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। একই সময়ে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান সাবেক জেলা জজ মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ। পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ পাওয়া এ কমিশন মেয়াদের মাত্র এক বছর দুই মাস দায়িত্ব পালনের পর গত ৩ মার্চ পদত্যাগ করে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

‘ইলন মাস্কের হাত থেকে বাঁচাতে’ কিশোরী কন্যাকে হত্যা করলেন মা

অবশেষে অনশনরত স্বামীর হাত ধরে ঘরে ফিরলেন সেই স্ত্রী

মার্কিন বাহিনীর নতুন মাথাব্যথা ইরানের ‘অদৃশ্য কমান্ডো’

ক্রুকে উদ্ধারে কী কী প্রযুক্তি ব্যবহার করল যুক্তরাষ্ট্র, ইরানিরা কেন খুঁজে পেল না

চৈত্রসংক্রান্তিতে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সাধারণ ছুটি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত