জুলাই সনদ নিয়ে সংসদে আলোচনা

জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে দ্বিতীয় মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনা শেষ হলো সমঝোতা ছাড়াই। সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে তারা। সংবিধান সংস্কার হয় না, সংশোধনের মাধ্যমে পরিবর্তন হয়। তবে বিরোধী দল বলেছে, তারা বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার চায়। তারা সংশোধনের বিরোধী নয়।
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে গতকাল রোববার সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের তোলা ৬২ বিধির মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলে সরকারি ও বিরোধী দল।
জয়নুল আবদিন ৬২ বিধিতে যে প্রস্তাব তুলেছেন তা হলো, ‘ভবিষ্যতের পথরেখা’ একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যা সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন আইনকানুন প্রণয়ন, সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জনের বিষয় প্রস্তাব-সংক্রান্ত। যে কারণে ওই জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি কী হবে, সে বিষয়ে সংসদ মুলতবি করে আলোচনা হওয়া প্রসঙ্গে। এর আগে গত ৩০ মার্চ উত্থাপিত একই ধরনের আরেকটি প্রস্তাব আলোচিত হয়েছে বলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সংসদে জানান।
আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, সংসদ নেতার পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানসহ সরকারি ও বিরোধী দলের ৯ জন সংসদ সদস্য ২ ঘণ্টার বেশি সময় আলোচনায় অংশ নেন। তবে দুই পক্ষই সনদ বাস্তবায়নে নিজ নিজ অবস্থানে অনড় ছিল।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রতি ইঙ্গিত করে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘সময়সীমা চলে গেলেও মনখোলা রাখলে এখনো রাস্তা বের করা সম্ভব। আমরা সেই রাস্তা বের করে এগিয়ে যেতে চাই। যতটুকু সংস্কার হওয়ার সংস্কার হবে। সেখানে সংশোধন হওয়ার সংশোধন হবে। আমরা সংশোধনের বিরোধী নই। সংবিধান সংশোধন ও আইন রচনায় আমাদের পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে।’
বিরোধী দল সংবিধান ছুড়ে ফেলার কথা কখনো বলেনি জানিয়ে শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘এই সংসদকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমাদের কেউ এ ধরনের মন্তব্য করেননি। আমরা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ কায়েমের জন্য এই সংবিধানের পরিবর্তন চেয়েছি। ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ ও শাসন পেতে আমরা কথা বলছি। আমরা সংবিধানের বিরোধী নই। সংবিধানের ওই জায়গাগুলো চাইনি—যেটা গত ৫৪ বছরে বারবার ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা আদেশ মানি। গণভোট মানি। সংস্কার পরিষদ মানি। প্রয়োজন ক্ষেত্রে সংবিধানের সংশোধন মানি। জুলাই সনদও সুন্দরভাবে বাস্তবায়নের বিষয়টি মানি। কোথাও অমান্যের বিষয়টি নেই। ১২ ফেব্রুয়ারি দুটি নির্বাচনের আগে তো কেউ বলেননি, সংসদ নির্বাচন মানি না। অথবা গণভোট মানি না। এখানকার সবাই গণভোটের হ্যাঁ-এর পক্ষে কথা বলেছি।’
সরকারি দলকে উদ্দেশ্য করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আসুন আমরা দোষাদোষি আর রেষারেষি ছেড়ে এই দেশের হই। জনগণের হই। আমি বিশ্বাস করি, সকলের অন্তরে দেশপ্রেম আছে। এখানে চরিত্র হননের চর্চা বন্ধ হওয়া দরকার। এই সংসদ পরস্পরের চরিত্র হননের জন্য নয়। এই সংসদ জাতির দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য।’
সংসদ নেতা তারেক রহমানের পক্ষে সংসদে মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জুলাই জাতীয় সনদের গুরুত্বপূর্ণ যেসব প্রস্তাবে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট আছে, সেগুলো উল্লেখ করে নিজেদের যুক্তি তুলে ধরেন। একজন প্রধানমন্ত্রী পদে ১০ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না, এমন বিধান বিএনপি প্রস্তাব করেছিল তারেক রহমানের নির্দেশে। কারণ তাঁরা চান না ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরাচারে সংসদীয় স্বৈরাচারের উৎপত্তি যাতে না হয়।
নোট অব ডিসেন্টসহ যেভাবে সই হয়েছে, বিএনপি জুলাই সনদের সব দফা, অঙ্গীকারনামা শতভাগ পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিএনপি বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। কিন্তু সার্বভৌম বিচার বিভাগ তাঁরা চান না। কারণ সার্বভৌম হলো জনগণ, সংসদ ও দেশ। এর বাইরে কারও সার্বভৌম কর্তৃত্ব থাকতে পারে না। এই সংসদেই বিচার বিভাগের সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগের আইন পাস করা হবে।
সংবিধান সংস্কার বিষয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার হয় না। সংবিধান রহিত হয়, স্থগিত হয়, সংশোধন হয়, বাতিল হয়। সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন হতে পারে।’ এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বিরোধী দল সংবিধানের সংস্কার চায়, সংশোধনী চায় না। পুনর্লিখিত সংবিধান কেউ কেউ চেয়েছিল, যারা বিদেশ থেকে আমদানি হয়েছিল সংস্কার প্রস্তাবসহকারে। আমরা বলেছিলাম পুনর্লিখিত সংবিধান, নতুন সংবিধান, গণপরিষদ—এগুলো একই কথা, সংবিধানে যা কিছু গ্রহণ করতে চায়, তা সংশোধনীতে আনি। তাল ধপ করে পড়িল, নাকি পড়িয়া ধপ করিল, এক কথাই তো। সংশোধনী তো আমরা চাই।’
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা যদি স্বাধীনতা যুদ্ধ, সংবিধান ও নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানকে অস্বীকার করি তাহলে ভবিষ্যতে এই জুলাই সনদকে কেউ না কেউ অস্বীকার করবেন। আমরা সে রকম পথ রেখে যেতে চাই না। এ জন্যই আমরা বারবার বলছি, জুলাই সনদ নিয়ে রাজনীতি করার দরকার নেই। আসুন, আমরা জুলাই সনদের পথ ধরে হাঁটি।’
বিরোধী দলের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনারা বলছেন সংস্কার পরিষদ। আমরা বলছি, জুলাই সনদ পুরোটা বাস্তবায়ন করব। জুলাই সনদের লাইন ধরে আমরা এগিয়ে যাব। এর পথ ধরে হাঁটব। জুলাই সনদ জনগণের মুক্তির সনদ। এই সনদবলে আমরা সংবিধানকে ধারণ করব। সংবিধানকে সংশোধন করে সংস্কারগুলো অন্তর্ভুক্ত করব। আমরা সেই পথ ধরে এগোচ্ছি।’
জামায়াতে ইসলামীর গাজী এনামুল হক বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পাশ কাটিয়ে এ প্রস্তাব আনা হয়েছে। এতে সংস্কার শব্দটি আনা হয়নি। জনগণের সার্বভৌমত্বকে কবর দিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো গণরায়কে উপেক্ষা করা হয়েছে।
এনসিপির আখতার হোসেন বলেন, ‘যে প্রস্তাবটি এই সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে, সেটা উত্থাপনের যোগ্যই নয়। সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের যে স্মৃতিভ্রম হয়েছে, সেটা আমাদের কষ্ট দেয়। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে ঐকমত্য কমিশন হয়েছে। সেই আলোচনার ফলাফল আজকে বিএনপি মানতে চায় না।’
বিএনপির শরিক দল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, ‘আমরা চাই জুলাই সনদের বিষয়গুলো সংবিধানে আসবে। সংসদের রীতিনীতি মেনেই এটা আসবে। আমার মনে হয়, এটা নিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। জুলাইয়ের বিরুদ্ধে আমাদের দাঁড় করানোর পাঁয়তারা করা হচ্ছে। বিষয়টি এমন যে, আমরা জুলাই চাই না। উনারা যেন জুলাইয়ের টেন্ডার নিয়েছেন।’
বিএনপির মীর হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘জুলাই বাস্তবায়ন আদেশে গলদ রয়েছে। এটা নিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্ত ছড়িয়ে জুলাই চেতনার সঙ্গে কতটুকু যায়, তা জানতে চাই। বলা হচ্ছে, বিএনপিকে ফ্যাসিস্ট দলের পরিণতি ভোগ করতে হবে। বিএনপির সবাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এসেছে। এসব কথা বলে আমাদের উত্ত্যক্ত-বিরক্ত ও মব কালচাল সফল হবে না।’
বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘আমরা জুলাই সনদের বিরুদ্ধে নই। অক্ষরে অক্ষরে এই সনদ বাস্তবায়ন করতে চাই।’

সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ও পার্বত্য জেলার আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে পৌনে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের পার্বত্য এলাকার ২৮৮ কিলোমিটার ‘সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প —২য় পর্যায়’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্যোগটি নিয়েছে সড়ক...
১১ মিনিট আগে
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে—রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯.৩০ থেকে ৩.৩০ পর্যন্ত অধস্তন আদালতের কার্যক্রম চলবে। ১-১.৩০ পর্যন্ত যোহরের নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতি থাকবে।
৩ ঘণ্টা আগে
জুলাই জাতীয় সনদে সবাই স্বাক্ষর করেছেন, নিশ্চয় ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেখেই স্বাক্ষর দিয়েছেন। তাহলে একমত হইনি এমন বিষয়ও গণভোটে দেওয়া হলো কেন? আসলে গোঁজামিল দিয়ে জনগণকে গণভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে...
৪ ঘণ্টা আগে
তিন মাসে ১০৪ জনকে অস্ত্রসংক্রান্ত, ৪৮৪ জনকে হত্যাসংক্রান্ত, ১৭৪ জনকে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণ-সংক্রান্ত, ৬১ জনকে ছিনতাইসংক্রান্ত, ডাকাত চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানে ১০৬ জনকে, মানব পাচারবিরোধী অভিযানে ২৬, নাশকতার অভিযোগে ১০ ও অন্যান্য অভিযোগসহ মাদকে জড়িতের...
৫ ঘণ্টা আগে