
সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ও পার্বত্য জেলার আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে পৌনে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের পার্বত্য এলাকার ২৮৮ কিলোমিটার ‘সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প —২য় পর্যায়’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্যোগটি নিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। যা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আজ সোমবার উঠছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্যমতে, সরকারি অর্থায়নের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের সচিব এস এম শাকিল আখতার বলেন, প্রকল্পটি একনেক সভার তালিকায় রয়েছে। এর মাধ্যমে পার্বত্য এলাকায় নিরাপদ ও উন্নত সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের আশা করছে সরকার।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে যোগাযোগ সহজ হবে এবং সীমান্ত এলাকায় প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুযায়ী, ২০৩০ সালের জুন নাগাদ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। মোট ২৮৮ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে রয়েছে —খাগড়াছড়ির নাড়াইছড়ি-লক্ষ্যাছড়া: ৩৫ কিমি, রাঙামাটির বৈরাগীপাড়া-বেতলিং: ৪৬ কিমি, মাঝিপাড়া-ঘাসকাপাছড়া: ২৫ কিমি, কারলাছড়া-বড়করদিয়া: ২৮ কিমি, থালীপাড়া-ছাইথাংপাড়া: ৪৬ কিমি, বান্দরবানের ফাতরাজিরা-লিকরি: ১০৮ কিলোমিটার সড়ক।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এসব সড়ক নির্মিত হলে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, কৃষিপণ্য বাজারজাত সহজীকরণ এবং পর্যটন খাতের বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ব্যয়ের বড় অংশ সড়ক নির্মাণে
প্রকল্প ব্যয়ের বড় অংশই সড়ক অবকাঠামো নির্মাণে খরচ হবে। এর মধ্যে ২৭২ কিলোমিটার ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট নির্মাণে প্রায় ১ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা এবং ১৪ কিলোমিটার রিজিড পেভমেন্টে প্রায় ১০৭ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া ৪৫০ কিলোমিটার সাইড ড্রেন নির্মাণে প্রায় ৬৯৩ কোটি টাকা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন অবকাঠামো খাতে উল্লেখযোগ্য ব্যয় ধরা হয়েছে।
অন্যান্য খাতে ব্যয়
প্রকল্পের আওতায়—৩৬ দশমিক ২১ একর জমি অধিগ্রহণে ৮৫ কোটি টাকা, পরামর্শক সেবায় প্রায় ৪৭ কোটি টাকা, ৫টি ক্যাম্প নির্মাণে ১৩ কোটি টাকা, ২টি ডাকবাংলোতে ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, ৩৬টি সামাজিক অবকাঠামো (স্কুল, হাসপাতাল, বিশ্রামাগার) নির্মাণে ১৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয় হবে। এ ছাড়া রিটেইনিং ওয়াল, কালভার্ট, ব্রিজ, হেলিপ্যাড, সাইন পোস্ট ও বনায়নসহ মোট ২২টি খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে।
কী বলছেন সংশ্লিষ্টরা
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় যোগাযোগ উন্নয়ন দেশের সার্বিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করা গেলে কৃষি ও পর্যটন খাত আরও বিকশিত হবে।
এর আগের সরকার তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এলকায় ‘সীমান্ত সড়ক প্রকল্প-১ পর্যায়’ নামের একটি প্রকল্প নিয়েছিল। এই প্রকল্পের আওতায় ৩১৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে ৯৭ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক এবং ২২০ কিলোমিটার সীমান্তবর্তী সড়ক অন্তর্ভুক্ত। প্রথম পর্যায়ের ৩১৭ কিলোমিটারের কাজ ২০২০ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়েছিল।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম পর্যায়ের কাজ ২০২৫ সালের জুনে শেষ হয়েছে। এই প্রকল্পের একটি বিশেষ দিক হলো বান্দরবানের কেওক্রাডং পর্বতশৃঙ্গের ওপর দিয়ে নির্মিত অংশটি, যা বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু সড়ক হিসেবে স্থান পেতে যাচ্ছে। এর উচ্চতা ৯৬৫ মিটার (প্রায় ৩১০০ ফুট)। এর আগে থানচি উপজেলার বাকলাই-লিক্রে সড়কের সাদ্রাহাফং পাহাড়ের রেমংপাড়া স্থানটি ছিল সর্বোচ্চ (৯২২ মিটার)।
দ্বিতীয় পর্যায়ে সড়ক নির্মাণের পর তৃতীয় পর্যায়ে ভারত অংশে ২৮৪ কিলোমিটার এবং মিয়ানমার অংশে ৫২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হবে, যার সঙ্গে ৪১ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক থাকবে।

দুর্নীতি অনুসন্ধান ও তদন্তে রাষ্ট্রের বিশেষায়িত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চেয়ারম্যান ও কমিশনারশূন্য অবস্থায় রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগ দেওয়া কমিশন গত ৩ মার্চ পদত্যাগ করার পর থেকে নতুন কমিশন গঠন না হওয়ায় সংস্থাটির কার্যক্রমে কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন আরও বিলম্বিত হচ্ছে। সরকারের ভেতরে এ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা চলতে থাকায় চূড়ান্ত অবস্থান এখনো নির্ধারণ হয়নি; বরং তা আরও গভীরভাবে যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে এগোবে। এ লক্ষ্যে গঠিত সচিব কমিটি তাদের পর্যালোচনা কার্যক্রম...
১ ঘণ্টা আগে
জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে দ্বিতীয় মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনা শেষ হলো সমঝোতা ছাড়াই। সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে তারা। সংবিধান সংস্কার হয় না, সংশোধনের মাধ্যমে পরিবর্তন হয়। তবে বিরোধী দল বলেছে, তারা বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার চায়। তারা সংশোধনের বিরোধী নয়।
৪ ঘণ্টা আগে
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে—রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯.৩০ থেকে ৩.৩০ পর্যন্ত অধস্তন আদালতের কার্যক্রম চলবে। ১-১.৩০ পর্যন্ত যোহরের নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতি থাকবে।
৪ ঘণ্টা আগে