Ajker Patrika

ইরান শুধু একটি দেশকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে—দাবি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইরান শুধু একটি দেশকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে—দাবি
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান শুধু চীনা জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে বলে একাধিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। পারস্য উপসাগরীয় বন্দরগুলোকে উন্মুক্ত সমুদ্রের সঙ্গে যুক্ত করা এই প্রণালিটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের পথ। অঞ্চলটিতে সংঘাত শুরুর পর থেকেই ইরান এই পথ কার্যত বন্ধ করে রেখেছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে।

এদিকে চীনকে এই প্রণালি ব্যবহারের অনুমতির বিষয়ে ইরানের সরকার বা আইআরজিসি-এর কোনো অফিশিয়াল বিবৃতিতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়নি। রয়টার্স সহ বিশ্ব গণমাধ্যমের খবর বলছে, ইরান আসলে হরমুজ প্রণালিটি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে এবং সকল জাহাজের চলাচল নিষিদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে।

ইরানি বাহিনী সতর্ক করেছে, অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে তা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। ইরানের এলিট বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা এখন প্রণালির ওপর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং প্রয়োজন হলে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা চালানো হবে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি রপ্তানি হয়। বৈশ্বিক তেলের প্রায় ২০ শতাংশই এই পথ দিয়ে এশিয়ার বাজার—বিশেষ করে চীন ও ভারতের দিকে যায়। ফলে দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে।

ইরান-সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছে বেইজিং। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই তাঁর রুশ সমকক্ষ সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে এক আলাপে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন। চীন তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি ও নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। বেইজিং ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা। তাই দীর্ঘ অবরোধ চীনের জ্বালানি নিরাপত্তাকে বড় সংকটে ফেলতে পারে।

এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন—প্রয়োজন হলে মার্কিন নৌবাহিনী ট্যাঙ্কারগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে প্রণালি পার করাবে। তিনি বলেছেন, ‘বিশ্বে জ্বালানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করবে যুক্তরাষ্ট্র।’

বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালি বন্ধ থাকলে তেলের দাম বাড়বে, যা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাজারে মুদ্রাস্ফীতি চাপ বাড়াতে পারে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক উদ্বেগের সময়ে এই ইস্যু ট্রাম্প প্রশাসনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত