Ajker Patrika

ট্রাম্পকে আর বিশ্বাস করতে পারছে না রাশিয়া, আতঙ্ক ভর করেছে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৬, ২২: ৩৯
ট্রাম্পকে আর বিশ্বাস করতে পারছে না রাশিয়া, আতঙ্ক ভর করেছে
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে হামলা রাশিয়ার কট্টরপন্থী মহলে গভীর অস্বস্তি তৈরি করেছে। বিগত মাসগুলোতে ট্রাম্পকে ঘিরে মস্কোর একাংশে সতর্ক আশাবাদ দেখা দিয়েছিল। তাঁদের ধারণা ছিল, ট্রাম্পের অনিশ্চিত ও লেনদেনভিত্তিক কূটনীতি ইউক্রেন প্রশ্নে রাশিয়ার পক্ষে কাজে লাগতে পারে। কিন্তু ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের পর সেই প্রত্যাশা ভেঙে পড়ছে।

রুশ কট্টরপন্থীরা এখন ট্রাম্পকে রাশিয়ার জন্যও সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখছেন। তাঁদের অভিযোগ—যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পারমাণবিক আলোচনার পরপরই ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর ওয়াশিংটনের চরিত্রকে আর বিশ্বাস করা যায় না। রুশ জাতীয়তাবাদী ধনকুবের কনস্ট্যান্টিন মালোফিভ বলেছেন, ‘নীতিহীন যুক্তরাষ্ট্র পুরো বিশ্বের জন্য হুমকি। ইউক্রেন নিয়ে আমরা যার সঙ্গে আলোচনা করছি, সেই যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল ইউরোপ চায়, একই সঙ্গে দুর্বল রাশিয়াও চায়।’

‘কর্নেল ক্যাসাড’ নামে পরিচিত প্রভাবশালী যুদ্ধ-ব্লগার বরিস রোঝিন ট্রাম্পকে ‘জবাবদিহি করতে হবে না, এমন ক্ষমতায় উন্মত্ত এক দানব’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এমন কারও সঙ্গে চুক্তির আশা করা বোকামি বা বিশ্বাসঘাতকতা।

একই সুর শোনা গেছে রুশ শিক্ষাবিদ আন্দ্রেই সিদোরভের কণ্ঠেও। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তিনি ট্রাম্পকে ‘বিপজ্জনক মানুষ’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন—ইউক্রেনে রাশিয়া কার্যত আটকে আছে, আর যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থেকেও নিজের কৌশলগত লক্ষ্য পূরণ করছে।

এদিকে রুশ প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিন ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ‘উসকানিবিহীন আগ্রাসন’ বলে নিন্দা করেছে। তবে তারা ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে আক্রমণ থেকে বিরত থেকেছে। পাশাপাশি তারা ইউক্রেন নিয়ে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মস্কো আপাতত সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছে—একদিকে ট্রাম্পকে আলোচনায় যুক্ত রাখা, অন্যদিকে তাঁর নীতির সমালোচনা করা।

এদিকে ‘দাগ থেকে যদি ভালো কিছু হয়’—এমন মনোভব থেকে ট্রাম্পের পদক্ষেপকে কিছু রুশ বিশ্লেষক সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুবিধা হিসেবেও বিবেচনা করছেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিভ ইঙ্গিত দিয়েছেন—মধ্যপ্রাচ্য সংকট দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম বাড়তে পারে। এমন হলে, বেশি দামে তেল বিক্রি রাশিয়ার চাপে থাকা বাজেটের জন্য স্বস্তি আনতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে ব্যস্ত থাকলে ইউক্রেনও মার্কিন অস্ত্র ও গোলাবারুদের সরবরাহ কম পাবে।

কট্টরপন্থীরা আরও দাবি করছেন, ট্রাম্প পদ্ধতিগতভাবে রাশিয়ার মিত্রদের সরিয়ে দিচ্ছেন। তাঁরা সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তার এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করছেন। এমনকি কিউবার ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে তাঁদের মধ্যে।

উগ্র জাতীয়তাবাদী দার্শনিক আলেক্সান্ডার দুগিন একসময় ট্রাম্পকে রাশিয়ার আশা হিসেবে দেখতেন। সেই দুগিনই এখন সতর্ক করে বলেছেন, ‘ইরান টিকে থাকলে পরিস্থিতি ঘুরতে পারে। কিন্তু যদি ভেঙে পড়ে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী লক্ষ্য আমরা।’ তাঁর মতে, ট্রাম্প তাঁর আগের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ আদর্শ থেকে সরে গিয়ে নব্য-রক্ষণশীলদের দিকে ঝুঁকেছেন। ফলে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার ক্ষেত্র দ্রুত সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের পদক্ষেপ রাশিয়ার ক্ষমতাকাঠামোর ভেতরে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ক্রেমলিনের কৌশলগত হিসাবকে আরও জটিল করে তুলেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত