Ajker Patrika

কোটি কোটি টাকা নিয়ে দুবাই থেকে পালানোর পথ খুঁজছেন অতি ধনীরা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
কোটি কোটি টাকা নিয়ে দুবাই থেকে পালানোর পথ খুঁজছেন অতি ধনীরা
দুবাই থেকে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে সিডনি কিংসফোর্ড স্মিথ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ক্রু সদস্যদের সঙ্গে যাত্রীরা উল্লাস। ছবি: এএফপি

দুবাইয়ের অতি ধনীরা যেকোনো উপায়ে এই চোখধাঁধানো বাণিজ্যিক কেন্দ্রটি ছাড়তে শুরু করেছেন। চলমান আঞ্চলিক যুদ্ধ যে অদূর ভবিষ্যতে থামছে না, এমন আতঙ্ক থেকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য তাঁরা খরচ করছেন লাখ লাখ ডলার।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই মরু শহরটি দীর্ঘকাল ধরে ধনকুবেরদের কাছে স্বর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। স্বল্প কর, নিরাপত্তা, বিলাসিতা এবং ব্যবসাবান্ধব সরকারের টানে বিশ্বের বিত্তবানেরা এখানে ভিড় করতেন। কিন্তু মাথার ওপর দিয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে যাওয়ার ঘটনায় সেই সুনাম এখন চরম সংকটে। আরব আমিরাতের আকাশসীমা আংশিক বন্ধ থাকায় অনেকে বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে বিকল্প পথে পালানোর চেষ্টা করছেন।

‘যখন আমরা আগুন দেখলাম, তখনই বুঝলাম, এটাই চলে যাওয়ার সময়’—বলছিলেন দুই সন্তানের মা এভরিম (তুরস্কের নাগরিক)। দুবাইয়ের কৃত্রিম দ্বীপ ‘পাম জুমেইরাহ’তে তাঁর বাড়ির পাশের একটি বিলাসবহুল হোটেলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন লেগে যাওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি এই মন্তব্য করেন। এভরিম, তাঁর স্বামী ও দুই সন্তান মিলে ২ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি) খরচ করছেন ওমান হয়ে জেনেভায় যাওয়ার জন্য। ওমানের রাজধানী মাসকাটে পৌঁছাতে তাদের মরুভূমির ভেতর দিয়ে ছয় ঘণ্টা গাড়ি চালাতে হয়েছে।

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আমরা খুব উদ্বিগ্ন ছিলাম...মূলত বাচ্চাদের কথা ভেবে। যখন তারা বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনছিল, তখন তারা খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল।’ তাঁর আশঙ্কা, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সৌদি আরবও এতে জড়িয়ে পড়তে পারে এবং তখন আকাশপথ আরও সংকুচিত হয়ে এলাকা ছাড়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।

দুবাই বিশ্বের উচ্চতম ভবন, বিশাল ইনডোর স্কি-স্লোপ-সংবলিত শপিং মল এবং থিম পার্কের জন্য খ্যাত হলেও বর্তমানে এর নিরাপদ পরিবেশ হুমকির মুখে। গত শনিবার থেকে আমিরাতকে লক্ষ্য করে ৮০০-এর বেশি ড্রোন এবং ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে, যাতে অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছে।

ব্রিটেন ও জার্মানির মতো দেশগুলো তাদের নাগরিকদের ওমান থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিমান পাঠাচ্ছে। বেসরকারি জেট পরিচালনাকারী সংস্থা এয়ার চার্টার সার্ভিসের ব্যবস্থাপক গ্লেন ফিলিপস জানান, দুবাই থেকে পালানোর জন্য বেসরকারি বিমানের চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে। তবে অনেক বিমান বন্ধ বিমানবন্দরে আটকা পড়ায় এবং নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে ভাড়া কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। মাসকাট রুটে মানুষের এত ভিড় যে আমিরাত সীমান্ত পার হতে ৩-৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

দুবাইয়ের ইন্ডাস চফারের অপারেশন কো-অর্ডিনেটর মাইক ডি’সুজা জানান, পশ্চিমা বিত্তবানদের মধ্যে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে সৌদি আরব যাওয়ার হিড়িক পড়েছে। তবে অনেকের জন্য সৌদি আরবের ট্রানজিট ভিসা জোগাড় করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে সাধারণ প্রবাসীদের জন্য এই যাত্রা আরও কঠিন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্রিটিশ প্রবাসী জানান, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও তিন বছরের সন্তানকে নিয়ে মাসকাট থেকে সাধারণ বিমানের টিকিট পাওয়াই এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি এএফপিকে বলেন, টিকিটের দাম আকাশচুম্বী এবং বুকিং করার মুহূর্তে আসন শেষ হয়ে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তারা ভারতের হায়দরাবাদ হয়ে থাইল্যান্ড যাওয়ার টিকিট কাটতে পেরেছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা দুবাইকে ভালোবাসি এবং একে আমাদের বাড়ি মনে করি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা আবার ফিরে আসব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত