Ajker Patrika

জীবিকার খোঁজে অন্য জেলায় ছুটছেন তাঁরা

  • কৃষিনির্ভর এই জেলায় নেই তেমন কোনো কলকারখানা।
  • ঋণের ভার ও অভাব মেটাতে শ্রমিকদের ছুটতে হয় অন্য জেলায়।
আনোয়ার হোসেন শামীম, গাইবান্ধা
জীবিকার খোঁজে অন্য জেলায় ছুটছেন তাঁরা
কাজের সন্ধানে অন্য জেলায় যাওয়ার জন্য গাইবান্ধার বাস টার্মিনালে শ্রমিকেরা। সাম্প্রতিক ছবি। আজকের পত্রিকা

আসছে ঈদ। কিন্তু হাতে নেই টাকাপয়সা। অনেকে আবার ঋণের ভারে জর্জরিত। এই অবস্থায় জীবিকার তাগিদে এখন নিজ জেলা ছেড়ে আশপাশের এলাকায় ছুটছেন গাইবান্ধার শ্রমিকেরা। স্থানীয়রা বলছেন, কৃষিনির্ভর এই জেলায় নেই তেমন কলকারখানা। তাই এ জেলার মানুষের কর্মসংস্থানের অভাব। কাজের সন্ধানে এ জেলার শ্রমিকেরা ছুটে যান বিভিন্ন এলাকায়। কেউ কেউ ঢাকায় গিয়ে পোশাকশ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। কেউ কেউ অন্য জেলায় যান কৃষিশ্রমিকের কাজ করতে।

স্থানীয়রা আরও বলেন, এখানকার সিংহভাগ মানুষ এখনো বাপ-দাদার পেশা—কৃষিকাজের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছেন। জেলায় কৃষিকাজ চলে তিন-চার মাস। বোরো, আমন আর ইরি ধানের মৌসুমে তাঁরা কৃষিকাজ করেন। বছরের বাকি সময়টুকু বেঁচে থাকার তাগিদে শ্রমিকেরা ছুটে যান অন্য জেলায়। আর যাদের পক্ষে সেটাও সম্ভব হয় না, তাঁরা কর্মহীন হয়ে পড়েন। কর্মহীন বসে থাকায় ঋণের ভারে জর্জরিত হন তাঁরা।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিনই এ জেলার শ্রমজীবী মানুষেরা কাজের সন্ধানে বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার জন্য রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালে এসে জড়ো হচ্ছেন। ট্রেন ও বাসে করে যাচ্ছেন বগুড়া, দিনাজপুর, নওগাঁ, জয়পুরহাটসহ দেশের প্রত্যন্ত এলাকায়। তাঁদের আশা—ঈদের আগের কয়েক দিন শ্রম দিয়ে কিছু টাকা আয় করে নেওয়া। যা দিয়ে আসন্ন ঈদটা পরিবার-পরিজন নিয়ে কোনোমতে কাটিয়ে দেওয়া যায়।

কথা বলে জানা গেছে, গাইবান্ধায় এখন ধানের চারা রোপণ শেষ হওয়ায় শ্রমিকদের হাতে কাজ নেই। জেলায় কোনো কল-কারখানা না থাকায় অধিকাংশ শ্রমিকই কর্মহীন রয়েছেন। কর্মহীন বসে থাকায় জড়িয়ে যাওয়া ঋণের কিস্তি, রমজানে পরিবারের জন্য একটু ভালো-মন্দ খাবারের জোগান, ঈদের খরচ—সর্বোপরি জীবন বাঁচানোর তাগিদে দিশেহারা নিম্ন আয়ের এসব মজুর।

কৃষিশ্রমিক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কাজ না থাকায় প্রায় এক মাস বসে আছি। সামনে ঈদ, হাতে কোনো ট্যাকা নাই। তাই জয়পুরহাটের ক্ষেতলাতে ধান লাগানোর জন্য যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘কয়েকটা দিন কাম করলে ঈদটা করা যাবে।’

বাস কাউন্টার মাস্টার বেলাল মিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন শ্রমিকেরা কাজের সন্ধানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তরে যাওয়ার জন্য জেলা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে ভিড় করছে। তাদের অনেকের কাছেই নেই গন্তব্যে যাওয়ার ভাড়া।’ 

গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম বলেন, ‘জেলার কৃষিশ্রমিকেরা কাজের জন্য যাতে জেলার বাহিরে যেতে না হয়। সেজন্য কৃষিভিত্তিক করখানা স্থাপন করার ব্যাপারে আমি একমত। সেটা সরকারিভাবে হোক আর বেসরকারিভাবে হোক। বেসরকারিভাবে করতে চাইলে তাঁদের যেন সরকার সহযোগিতা করে এমন দাবি সংসদে উপস্থাপন করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত