Ajker Patrika

এখনো মব

সম্পাদকীয়
এখনো মব

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে মব সৃষ্টি করে মেদিনী সাগর বিএম মহাবিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদের নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। সংবাদ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা বিএনপির সভাপতির নেতৃত্বে একদল মানুষ ইউএনও কার্যালয়ে ঢুকে নিয়োগ বন্ধের দাবি জানায় এবং একপর্যায়ে বাগ্‌বিতণ্ডার পর নথিপত্র ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ থাকা স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু সেই অভিযোগ জানানোর একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে দেশের প্রচলিত আইনে। ইউএনও কার্যালয়ে দলবল নিয়ে হানা দিয়ে পরীক্ষার খাতা ছিনিয়ে নেওয়া বেআইনি কর্মকাণ্ড ছাড়া কিছুই হতে পারে না। আর একজন বড় দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতার কাছে এ ধরনের কাজ কোনোভাবেই আশা করা যায় না।

ঘটনাগুলো নতুন নয়। আমরা দেখেছি ইউনূস সরকারের পুরো শাসনামলে মব তৈরি করে দাবিদাওয়া আদায় থেকে শিক্ষকদের হেনস্তা, নারী নিগ্রহ থেকে শুরু করে নানা ধরনের মব পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছিল। সে সময় এসব অপকর্মের জন্য অপরাধীদের কোনো ধরনের শাস্তির ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন। তবে মানুষের প্রত্যাশা ছিল নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে এ অপকর্মগুলো আর হবে না। কিন্তু মানুষের সেই কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা যে অধরা থেকে যাচ্ছে, এই ঘটনাটি তারই বড় প্রমাণ।

অভিযুক্তদের মধ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা রয়েছেন বলে জানা গেছে। এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক চরম অবক্ষয় বলতে হবে। দলীয় সরকারের সময়েও যখন সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা এ ধরনের অপকর্ম জারি রাখেন, তার দায়ভার দল এড়িয়ে যেতে পারে না। আর এ ধরনের কাজ চলমান থাকলে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে যাওয়াটা স্বাভাবিক ব্যাপার। যেখানে সরকারি কার্যালয় হওয়া উচিত ছিল সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের শেষ আশ্রয়স্থল, সেখানে খোদ প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার সামনে রাজনৈতিক দাপট দেখিয়ে নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

দল-মতনির্বিশেষে অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখা উচিত। যদিও ইউএনও কার্যালয় থেকে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। কিন্তু বিএনপির হাইকমান্ডকেও এ ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অপরাধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যেখানে রাজনৈতিক দলের নেতাদের উচিত তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের আইন মানার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করা, সেখানে উল্টো তাঁরা আইন ভাঙার নেতৃত্ব দিলেন। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয় কারও কাছেই। হরিপুর থানার পুলিশ মামলা নিয়েছে এবং একাধিক স্থানে অভিযান চালাচ্ছে, যা ইতিবাচক। তবে কেবল মামলা করাই যথেষ্ট নয়, ছিনতাই হওয়া সরকারি নথিপত্র উদ্ধার এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা জরুরি।

আমরা আশা করি, প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থেকে আইনের শাসন কায়েম করবে এবং ভবিষ্যতে যেন কোনো সরকারি কার্যালয়ে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধীরা একই সঙ্গে দুটি অপরাধ করেছে—দেশের আইন ভঙ্গ এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ। তাই দুই জায়গা থেকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যৌক্তিক হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

দুই বছরের কন্যাকে নিয়ে ২৩ তলা থেকে বাবার ঝাঁপ, দুজনেরই মৃত্যু

সব লঞ্চার ‘ধ্বংসের’ পরও এত ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র কীভাবে ছুড়ছে ইরান, আর কত অবশিষ্ট

ইরান এতগুলো দেশে হামলা চালাবে ভাবিনি, আমরা হতবাক: ট্রাম্প

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে বদলি

যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ বিলিয়ন ডলারের রণতরিতে ৩০ ঘণ্টা ধরে আগুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত