আজ পবিত্র শবে কদর। পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে উম্মতে মুহাম্মদির জন্য এক বিশেষ উপহার এই রজনী। যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে আজ সারা দেশে পালিত হবে এই মহিমান্বিত রাত। পবিত্র রমজানের শেষ দশকের এই বিজোড় রাতে শান্তির নির্মল বার্তা নিয়ে হজরত জিবরাইল (আ.)-এর নেতৃত্বে ধরণিতে নেমে আসেন অগণিত ফেরেশতা। মুমিন হৃদয়ে বেজে ওঠে রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের সুর।
পবিত্র কোরআনের ভাষায়—এই রাতের ইবাদত হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। অর্থাৎ ১ হাজার মাস বা ৮৩ বছর চার মাসের বেশি সময় নিরবচ্ছিন্ন ইবাদত করলে যে সওয়াব পাওয়া যায়, কদরের এই এক রাতে ইবাদত করলে তার চেয়েও অধিক সওয়াব অর্জন করা সম্ভব।
প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, ‘যদি কেউ ঈমানের সঙ্গে সওয়াব লাভের আশায় বিশুদ্ধ নিয়তে কদরের রাতে ইবাদত করে, তবে তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (সহিহ্ বুখারি)। তাই বলা যায়, এই রজনী মুমিন জীবনের প্রকৃত গৌরব ফিরে পাওয়ার এবং গুনাহ থেকে ক্ষমা পেয়ে নতুন করে জীবন সাজানোর সুবর্ণ সুযোগ।
শবে কদর শব্দদ্বয় ফারসি, যার অর্থ—মর্যাদার রাত বা ভাগ্যরজনী। নির্ভরযোগ্য তাফসির গ্রন্থগুলোতে এসেছে, এই রাতে পরবর্তী এক বছরের জন্য মানুষের আয়ু, রিজিক ও ভাগ্যলিপি সংশ্লিষ্ট ফেরেশতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মহান আল্লাহ এই রাতের গুরুত্ব বোঝাতে পবিত্র কোরআনে ‘আল-কদর’ নামে স্বতন্ত্র একটি সুরা অবতীর্ণ করেছেন। মানবজাতির মুক্তির সনদ কোরআনুল কারিম এই রাতেই লওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে অবতীর্ণ হয়েছিল। এই বিবেচনায়
শবে কদর অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফেরার এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ।বর্তমান বিশ্ব আজ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। সংঘাত, যুদ্ধবিগ্রহ আর অশান্তির দহনে দগ্ধ মানবতা। পবিত্র শবে কদরের এই শান্তিময় প্রহরে আমাদের প্রার্থনা হওয়া উচিত বিশ্বশান্তি ও মানবতার মুক্তি। ব্যক্তিগত ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি সমাজ ও দেশের কল্যাণ কামনায় আমাদের হাত তোলা প্রয়োজন মহান রবের দরবারে।
শবে কদর আমাদের শেখায় ধৈর্য, সংযম ও ভ্রাতৃত্ববোধ। ধনী-গরিবনির্বিশেষে মসজিদের কাতারে এক হয়ে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে যে সাম্যের শিক্ষা আমরা পাই, তা যেন সারা বছর আমাদের যাপিত জীবনে প্রতিফলিত হয়। নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও তওবা-ইস্তিগফারের মাধ্যমে আমরা যদি এই রাতের প্রকৃত বরকত অর্জন করতে পারি, তবেই জীবনে নেমে আসতে পারে ইহকালীন ও পরকালীন সফলতা।
শবে কদর উপলক্ষে আজ সন্ধ্যা হতেই জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের প্রতিটি জনপদে ইবাদতের সৌরভ ছড়িয়ে পড়বে। পবিত্র এই মোবারক রজনীর আলোকচ্ছটা আমাদের আত্মা ও সমাজকে আলোকিত করুক। মহান আল্লাহ সবাইকে
শবে কদরের পূর্ণ ফজিলত দান করুক। এই রজনীর বরকতে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ হয়ে উঠুক শান্তিময় ও সমৃদ্ধ।

ইতিহাসের চাকা ঘুরে আবার সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এল, যখন রক্তক্ষয়ী জুলাইয়ের স্মৃতি আর নতুন সূর্যের আবাহন নিয়ে যাত্রা শুরু করল বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখটি বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে কেবল একটি তারিখ নয়, বরং এক নতুন অধ্যায়ের সূচনাবিন্দু হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
১৭ ঘণ্টা আগে
সেবার দেশ থেকে ফিরছিলাম। চট্টগ্রাম বা দেশ ছেড়ে আসা মানেই কষ্ট, বুক ভারী হয়ে থাকা। ঢাকার এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট দিয়ে হাসি হাসি মুখ করার চেষ্টা করে বলেছিলাম: হ্যালো। কোনো জবাব দিলেন না। একটু উঁচু কাউন্টারে বসা অফিসার ক্যাঙারু ছাপের পাসপোর্ট একবার এদিক, একবার ওদিক করতে করতে ঘন ঘন পাশের সিটে...
১৭ ঘণ্টা আগে
আসিফ মোহাম্মদ শাহান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক ও নাগরিক কোয়ালিশনের সদস্য এবং উন্নয়ন, সুশাসন ও রাষ্ট্রনীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, গণভোট, সংস্কার, জুলাই সনদসহ নানা বিষয়ে...
২ দিন আগে
সম্প্রতি আইনমন্ত্রী বলেছেন, ‘সরকারি বেতনে যার পোষাবে না, তার বদলে নতুন করে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে সরকার; তবে কোনো রকম দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বরদাশত করা হবে না।’ শুনতে দৃঢ় ও নীতিমান মনে হলেও বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়ালে এ বক্তব্য প্রশ্নবিদ্ধ।
২ দিন আগে