Ajker Patrika

এবার স্ক্র্যাপ ও জ্বালানি সংকটে ইস্পাত শিল্প

ওমর ফারুক, চট্টগ্রাম
এবার স্ক্র্যাপ ও জ্বালানি সংকটে ইস্পাত শিল্প
গ্রাফিক্স: আজকের পত্রিকা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব দেশের ইস্পাত খাতে সরাসরি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। দিনদিন বাড়ছে এই ইস্পাত শিল্পের অন্যতম কাঁচামাল স্ক্র্যাপ ও প্লেটের দাম। বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) তথ্যমতে, চট্টগ্রামের জাহাজভাঙা শিল্পে গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ইস্পাতের কাঁচামাল স্ক্র্যাপের দাম টনপ্রতি ৩ হাজার টাকা বেড়ে ৫৮ হাজার টাকায় উঠেছে। একই সময়ে প্লেটের দাম ৬৫ হাজার থেকে বেড়ে ৬৮ হাজার টাকায় পৌঁছেছে।

অন্যদিকে শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও স্ক্র্যাপ ও প্লেটসহ ইস্পাত শিল্পের সব ধরনের কাঁচামালের দাম বেড়েছে। এতে করে দুই সপ্তাহ আগেও যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে স্ক্র্যাপ জাহাজের দর ছিল টনপ্রতি ৪১৫ থেকে ৪৩৫ মার্কিন ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫০ থেকে ৪৭০ ডলারে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে এই সময়ে প্রতিটন স্ক্র্যাপের দাম বেড়েছে ৩৫ ডলার। বর্তমান ডলারের বিনিময় মূল্য ১২৩ টাকা ৫০ পয়সা হিসাবে ধরলে, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এই স্ক্র্যাপ জাহাজের দাম টনপ্রতি সাড়ে ৪ হাজার টাকা বেড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এতে জাহাজ পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কাঁচামাল আমদানি আগের তুলনায় অনেক ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে নির্বাচনের পর নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতে কাজ বেড়ে যাওয়ায় স্ক্র্যাপ, বিলেট এবং প্লেটের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জহানতে চাইলে কে আর গ্রুপের চেয়ারম্যান সেকান্দার হোসেন টিংকু আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বাজার চাঙ্গা হলেও আন্তর্জাতিক দামের উত্থান দেশীয় বাজারকে চাপের মুখে ফেলেছে। যদি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়, পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হওয়ার আশঙ্কা তাঁর।

দেশে আগের তুলনায় স্ক্যাপের সরবরাহেও বড় ধরনের টান পড়েছে। বিএসবিআরএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৭ মার্চ পর্যন্ত চট্টগ্রামের গ্রিন শিপইয়ার্ডে মাত্র ১৫টি স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার জন্য আসে, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৩৩টি। আমদানি কমে যাওয়ায় দেশে এখন কাঁচামালের সরবরাহ বড় চাপের মধ্যে রয়েছে।

উৎপাদনেও নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। গ্রিন শিপইয়ার্ড বাস্তবায়নের কারণে জাহাজ কর্তন এখন সম্পূর্ণ যন্ত্রনির্ভর। প্রতিদিন এক্সক্যাভেটর, ক্রেন, জেনারেটর, বুলডোজার ও অন্যান্য যন্ত্র চালাতে প্রায় ৮০০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। এ বিষয়ে আরব শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং লিমিটেডের বিজনেস ম্যানেজার মহিউদ্দিন চৌধুরী জানান, ‘প্রতিদিন চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ ডিজেল মিলছে। ফলে উৎপাদন হ্রাস পেয়ে ৩০–৫০ টনে নেমেছে, যেখানে আগে প্রতিদিন ৩০০–৩৫০ টন হতো। ডিজেল সংকটে ৩০ হাজার টনের তিনটি জাহাজ এখন কাটার অপেক্ষায় পড়ে আছে।’

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে রড, বিলেট, প্লেটসহ পুরো ইস্পাতবাজারে প্রভাব পড়বে। নির্মাণ ব্যয় বাড়বে, ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো চাপে পড়বে, এবং বাজারে নতুনভাবে মূল্যচাপ তৈরি হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত