Ajker Patrika

রাজবাড়ীর ১০টি ফিলিং স্টেশনের একটিতেও মিলছে না তেল, বিপাকে চালকরা

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর ১০টি ফিলিং স্টেশনের একটিতেও মিলছে না তেল, বিপাকে চালকরা
রাজবাড়ী শহরের বন্ধ থাকা একটি ফিলিং স্টেশন। ছবি: আজকের পত্রিকা

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে পড়েছে রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন। জেলার ১০টি পাম্পের একটিতেও তেল না পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন যানবাহনের চালকেরা।

সরেজমিন রাজবাড়ীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, স্টেশনের চারপাশে রশি বেঁধে রাখা হয়েছে। রশির সঙ্গে কাগজে লেখা রয়েছে, তেল নাই। পাম্পের কর্মীরা অলস সময় পার করছেন। কেউ বসে আছেন, কেউ বা হাটাহাটি করছেন। অন্যদিকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেয়ে এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ছোটাছুটি করছেন চালকেরা। কোথাও তেল না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন সবাই।

শহরের কাজী ফিলিং স্টেশনে কথা হয় কুষ্টিয়া থেকে আসা সরকারি চাকরিজীবি লুৎফর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ``ছুটি শেষ। আগামীকাল থেকে অফিস শুরু। সকালে কুষ্টিয়া থেকে রওনা দিয়েছি। রাজবাড়ী পর্যন্ত যতগুলো তেল পাম্প পেয়েছি, একটাতেও তেল নেই। আমার বাইকে তেল শেষ। আমি এখন কিভাবে যাবো? পাম্প মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণে এই ভোগান্তি। তা না হলে একসাথে সব পাম্পে তেল বন্ধ থাকার কথা না। সরকারের নজর দেওয়া প্রয়োজন।’ ’

পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন আব্দুর রব নামে আরেক বাইকচালক। তিনি বলেন, ``সকালে পাংশাতে গিয়েছি তেলের জন্য। সেখানে তেল পাই নি। পরে কালুখালি ও রাজবাড়ীর সব কয়টি পাম্পে ঘুরেও তেল পাইনি। খুবই ভোগান্তিতে রয়েছি আমরা। সরকার বলছে তেল সংকট নেই আর পাম্পে আসলে তেল নেই। কারও কোন জবাবদিহিতা নেই। একসাথে সব পাম্পে তেল ফুরানোর কথা না। এটা পাম্প মালিকদের সিন্ডিকেটে হচ্ছে। সরকারের কাছে অনুরোধ করছি এ ব্যাপারে নজরদারি বাড়ানোর জন্য।’ ’

রাজবাড়ী ফিলিং স্টেশনে কথা হয় মোঃ হাসেম আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ``আমার এখন কান্না পাচ্ছে ভাই। আগামীকাল সকাল থেকে অফিস। রাজবাড়ীর একটা পাম্পেও তেল পাচ্ছি না। আমি যাবো কিশোরগঞ্জে। কমপক্ষে বাইকে চার লিটার তেল প্রয়োজন। তিনটা পাম্পে ঘুরলাম সব কয়টিতে তেল নাই আর তেল নাই।’ ’

কাজী ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ``ডিপো থেকে সরবরাহ না থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। আর যেটুকু তেল সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে, তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। যে কারণে কোন গ্রাহক ডিপো থেকে তেল তুলছে না। আজ সোমবার আবার ধর্মঘট। এখন ধর্মঘটে কি সিদ্ধান্ত নিবে জানি না।’ ’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত