Ajker Patrika

ট্রাম্পকে তেল-গ্যাস সংক্রান্ত ‘বড় উপহার’ দিয়েছে ইরান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৯: ০২
ট্রাম্পকে তেল-গ্যাস সংক্রান্ত ‘বড় উপহার’ দিয়েছে ইরান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ইরান তাঁকে হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত একটি ‘বিশাল বড় উপহার’ দিয়েছে। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধের জন্য তেহরানের সঠিক ব্যক্তিদের সঙ্গেই তিনি আলোচনা করছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

এই রহস্যময় ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এল, যার ঠিক আগের দিন ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলার হুমকি অপ্রত্যাশিতভাবে স্থগিত করেন এবং জানান, ওয়াশিংটন ইরানের কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। তেহরান অবশ্য যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কোনো ধরনের আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে।

উল্লেখ্য, এই যুদ্ধ এখন চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে এবং এর ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। এরই মধ্যে ইসরায়েল এই যুদ্ধকে লেবাননে টেনে নিয়ে গেছে এবং সেখানেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। ইরানেও ইসরায়েলি-মার্কিন হামলায় ২ হাজারের মতো মানুষ হতাহত হয়েছে।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) গতকাল এমন কিছু করেছে, যা আসলে বিস্ময়কর। তারা আমাদের একটি উপহার দিয়েছে এবং সেই উপহারটি আজ এসে পৌঁছেছে। এটি ছিল অনেক বড় একটি উপহার, যার মূল্য অনেক টাকা।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার কাছে এর মানে একটাই—আমরা সঠিক লোকেদের সঙ্গেই আলোচনা করছি।’

নতুন মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কওয়েন মালিনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, এই ‘উপহারটি’ ছিল ‘খুবই তাৎপর্যপূর্ণ’ এবং এটি ‘তেল ও গ্যাস সংক্রান্ত।’

হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় তেল চলাচল শুরু করার যে দাবি তিনি করেছিলেন, উপহারটি তার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প উত্তর দেন, ‘হ্যাঁ, এটি তেলের প্রবাহ এবং প্রণালির সঙ্গেই সম্পর্কিত ছিল।’ ট্রাম্প আরও জানান, এই উপহারটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তবে তিনি তাঁর দাবির পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ইরান ‘সম্মত হয়েছে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।’

তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কার সঙ্গে আলোচনা করছে ট্রাম্প তা এখনো প্রকাশ করেননি। গত সোমবার ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার হুমকি পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করার সময় তিনি শুধু বলেছিলেন, ব্যক্তিটি একজন ‘শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব।’ ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আসলে সঠিক লোকদের সঙ্গে কথা বলছি এবং তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য খুব মরিয়া হয়ে আছে।’

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান অভিযানের প্রথম দিনেই ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হন এবং তাঁর উত্তরসূরি মোজতবা খামেনিকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তবে ট্রাম্প বলেন, খামেনি এবং আরও অনেক শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তার মৃত্যুর অর্থ হলো ‘আমরা প্রকৃতপক্ষে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন (রেজিম চেঞ্জ) দেখতে পাচ্ছি। এখনকার নেতারা আমরা যাদের দিয়ে শুরু করেছিলাম, তাদের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।’

ট্রাম্প জানান, এই ইরানি আলোচনায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বৈশ্বিক দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার যুক্ত আছেন। তবে উইটকফ এবং কুশনার ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য পাকিস্তানে যাচ্ছেন কি না কিংবা আলোচনা গুরুত্ব পেলে ভ্যান্সও সেখানে যাবেন কি না—এমন রিপোর্টের বিষয়ে তিনি কোনো নিশ্চিত তথ্য দেননি।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গতকাল মঙ্গলবার এই যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি জানান, তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং এই অঞ্চলে শান্তি ফেরাতে ইসলামাবাদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

অন্যদিকে ট্রাম্প রসিকতা করে বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ‘চান না বিষয়টি মিটে যাক’। কারণ, তিনি ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রাখতে চান। ট্রাম্প যখন হেগসেথকে পোডিয়ামে ডাকেন, তখন তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদেরও এই আলোচনার অংশ হিসেবে দেখি। আমরা বোমা দিয়ে আলোচনা করি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত