Ajker Patrika

আদাবরে বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে ছিনতাই, শীর্ষ সন্ত্রাসী এক্সেল বাবুসহ গ্রেপ্তার ৬

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আদাবরে বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে ছিনতাই, শীর্ষ সন্ত্রাসী এক্সেল বাবুসহ গ্রেপ্তার ৬
ছবি: সংগৃহীত

‎রাজধানীর আদাবরের শেখেরটেক এলাকায় এক বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় মোহাম্মদপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ফরিদ আহমেদ বাবু ওরফে ‘এক্সেল বাবু’ এবং কব্জিকাটা আনোয়ার গ্রুপের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড আবু সাইদসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-২।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর আদাবর এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মোহাম্মদপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ফরিদ আহমেদ বাবু ওরফে ‘এক্সেল বাবু’ (৫৭), কব্জিকাটা আনোয়ার গ্রুপের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড আবু সাইদ (৩৩), রাশেদ খন্দকার (৩২), মো. লিটন (২৮), মো. তৌসিফ (৩০) ও মো. তরিকুল ইসলাম।‎

আজ ‎বুধবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।‎

‎নয়মুল হাসান বলেন, মঙ্গলবার সকালে আদাবর শেখেরটেক এলাকায় একটি বিকাশের দোকানে ঢুকে সশস্ত্র ছিনতাইকারীরা এজেন্টকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাঁর কাছে থাকা প্রায় তিন লাখ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার খবর পেয়ে আদাবর থানা-পুলিশ ছিনতাইকারীদের আস্তানায় অভিযান চালালে তাঁরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় চাপাতির আঘাতে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর এবং উপপরিদর্শক (এসআই) তরুণ কুমার গুরুতর আহত হন।‎

‎পরে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে মাঠে নামে র‌্যাব-২। গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার মধ্যরাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও মিরপুরের পীরেরবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী ফরিদ আহমেদ বাবু ওরফে এক্সেল বাবুসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও একটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে গতকাল ঘটনাস্থল থেকে ছিনতাই ও হামলায় জড়িত অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদাবর থানা-পুলিশ। এই নিয়ে এ ঘটনায় মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।‎

‎র‌্যাবের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। তাঁদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ছিনতাই, চুরি ও অন্যান্য অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিও।‎

‎এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আবু সাঈদ জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে, সে কব্জিকাটা আনোয়ার গ্রুপের দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যক্তি। র‍্যাবের কাছে তথ্য রয়েছে, আনোয়ার গ্রেপ্তারের পর সে পুরো চক্রটির প্রধান হিসেবে কাজ করছে। এক্সেল বাবু কব্জিকাটা আনোয়ারেরও গুরু। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরাও ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তারা সবাই এক্সেল বাবু ও আবু সাঈদের সহযোগিতায় কাজ করত। চক্রটির মূল নেতৃত্বকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত এর বিভিন্ন শাখা সক্রিয় থাকবে। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে।‎

‎আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিকাশের দোকানে ছিনতাইয়ের ঘটনার পর থানা-পুলিশ অভিযুক্তদের আটক করতে গেলে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে এই চক্রটিকে সম্পূর্ণভাবে আইনের আওতায় আনা হবে।‎

‎বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্প্রতি রামিসা হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হয়েছে। একইভাবে ছিনতাইকারী ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করা গেলে জনগণ আরও নিরাপদ বোধ করবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার ও তদন্তের দায়িত্ব পালন করে, আর বিচার প্রক্রিয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত