Ajker Patrika

ইংল্যান্ডের অহংকার নাকি ক্রোয়েশিয়ার আভিজাত্য

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ১৪: ৪৬
ইংল্যান্ডের অহংকার নাকি ক্রোয়েশিয়ার আভিজাত্য
বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগে অনুশীলনে ব্যস্ত হ্যারি কেইন। ছবি: এএফপি

‘যদি কেবল ইংরেজদের হারাতে পারি, তবে শান্তিতে বাড়ি ফিরে যেতে পারব’—একটা সময় ক্রোয়াটদের মনে এমন মানসিকতাই কাজ করত। কিন্তু সেই দিন অনেক আগেই ফুরিয়েছে; ক্রোয়েশিয়া এখন আর হুট করে চমকে দেওয়া কোনো দল নয়। অথচ ডালাসের ম্যাচটির আগে ইংলিশ মিডিয়া আর সাবেক তারকাদের আলোচনায় এখনো সেই পুরোনো অবজ্ঞার সুর—৪০ বছর বয়সী এক বুড়োর দলকে নাকি ভয় পাওয়ার কিচ্ছু নেই!

জ্লাতকো দালিচের শিষ্যদের জন্য এর চেয়ে বড় মনস্তাত্ত্বিক ‘চার্জার’ আর কী হতে পারে? গ্রুপ ‘এল’-এর এই উদ্বোধনী ম্যাচটা তাই আত্মসম্মান আর মনস্তাত্ত্বিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণেরও লড়াই। এমন এক লড়াই জেতার অভিজ্ঞতা যে ২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেই পেয়ে গেছেন দালিচ।

টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড এবার টুর্নামেন্টের অন্যতম হট ফেবারিট হিসেবেই টেক্সাসের মাঠে নামছে। বাছাইপর্বে ৮ ম্যাচের সব কটিতে জয় এবং একটি গোলও না হজম করার রেকর্ড তাদের পক্ষে কথা বলে। কিন্তু টুখেল মনে মনে ভালো করেই জানেন, ক্রোয়াটদের হালকাভাবে নেওয়ার খেসারত কতটা চড়া হতে পারে। চেলসির ডাগআউট থেকে তাঁর চাকরিটা চ্যুত হয়েছিল এই ক্রোয়াট ক্লাব ডায়নামো জাগরেবের কাছে হেরেই। এবার তাঁর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বাছাইপর্বের অপ্রতিরোধ্য ফর্মকে বিশ্বকাপে ধরে রাখা।

টুখেলের এই পুরো কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসে আর কোনো পুরুষ খেলোয়াড় মেজর আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ৩০টি ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েননি। গত দুই বিশ্বকাপ মিলিয়ে কেইনের করা ৮ গোলের চেয়ে বেশি গোল আছে কেবল কিলিয়ান এমবাপ্পের। কেইন যদি বক্সের ভেতর সামান্য জায়গা পেয়ে যান, তবে তা ক্রোয়াটদের জন্য বিপদের কারণ হবে।

তবে লুকা মদরিচ আছেন তো। ৩৯ বছর পেরিয়ে ৪০-এ পা দেওয়া মাঝমাঠের এই জাদুকর এখনো রূপকথার মতো ধারাবাহিক। মাঠে যখন তরুণদের গতি আর শারীরিক শক্তির জয়জয়কার, সেখানে মদরিচ আছেন চিরসবুজ হয়ে। ম্যাচের গতি কখন বাড়াতে হবে আর কখন কমাতে হবে, তা এককভাবেই ঠিক করে দেবে তাঁর বুট। ইংলিশ ফুটবলারদের চড়া প্রেস আর আগ্রাসনকে কীভাবে বোকা বানাতে হয়, তা মদরিচের হাতের তালুর মতো চেনা। দালিচের পুরো ছকটাই আবর্তিত হবে এই শান্ত মস্তিষ্কের ওপর ভর করে।

আর ফাইনাল থার্ডে ক্রোয়াটদের অন্য বড় ভরসা ইভান পেরিসিচ, যিনি লিওনেল মেসি আর নেইমারের পর বিশ্বের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টানা তিন বিশ্বকাপে গোল এবং অ্যাসিস্ট—উভয় কীর্তিই গড়েছেন।

কাগজে-কলমে কিংবা সাম্প্রতিক ফর্মের বিচারে হয়তো ইংল্যান্ডকে অনেকেই এগিয়ে রাখবেন, কিন্তু ক্রোয়াটদের একটা অদ্ভুত ও অমোঘ ইতিহাস আছে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তারা যখনই হার এড়াতে পেরেছে, প্রতিবারই পদক নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। আর যখনই প্রথম ম্যাচ হেরেছে, গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে। ডালাসের গ্যালারি হয়তো শুরুতে ইংলিশদের দখলে থাকবে, কিন্তু ম্যাচ যত গড়াবে, স্নায়ুর চাপ ততই গ্রাস করবে টুখেলের তরুণ দলকে। কেইনের ক্লিনিক্যাল ফিনিশিং বনাম মদরিচের মাস্টারক্লাসের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

হেড টু হেড

ইংল্যান্ড ক্রোয়েশিয়া ড্র

৬ ৩ ২

লুকা মদরিচ

৩৯ বছর বয়সী লুকা মদরিচ ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলীয় হৃৎপিণ্ড। নিজের দশম মেজর টুর্নামেন্টে খেলতে যাওয়া এই জাদুকর আধুনিক ফুটবলের এক চিরসবুজ ব্যতিক্রম। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ক্লাব ফুটবলের চূড়া ছোঁয়া এই কিংবদন্তির গেম রিডিং ও নিখুঁত পাসিং ক্ষমতা অনন্য। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ও টেম্পো এককভাবে নির্ধারণে তাঁর অভিজ্ঞ মস্তিষ্কের কোনো বিকল্প নেই।

হ্যারি কেইন

থ্রি লায়নদের আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তি অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ডালাসের মাঠে নামলেই মেজর টুর্নামেন্টে ৩০টি ম্যাচ খেলার অনন্য ইংলিশ রেকর্ড গড়বেন তিনি। গত দুই বিশ্বকাপ মিলিয়ে ৮ গোল করা এই স্ট্রাইকারের ফিনিশিং দক্ষতা বিশ্বমানের। টমাস টুখেলের হাই-প্রেসিং ফুটবল কৌশলের শেষ কথা এবং প্রতিপক্ষ ডিফেন্সের জন্য সবচেয়ে বড় ত্রাস হলেন এই কেইন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত