ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা নিয়ে যে ‘স্নেহের’ আদান-প্রদান হয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। ফুলের শুভেচ্ছা দেওয়া থেকে শুরু করে ছাত্রদল ও শিবির কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা দেশের ক্যাম্পাস রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল! যদিও কেউ আহত হননি, কিন্তু নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে গিয়ে যদি রাজনৈতিক সংগঠনগুলো এতটা উজ্জীবিত হয়, তবে ভবিষ্যতে তারা আরও কী কী চমকপ্রদ কর্মকাণ্ড উপহার দেবে, তা ভাবতেই শিহরন জাগে! ২ ফেব্রুয়ারির এই ঘটনা নিয়ে পরদিন আজকের পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
একটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের মানুষের জীবন বাঁচানোর শিক্ষা গ্রহণ করার কথা, সেখানে তাঁরা ‘ক্লিনিক্যাল এক্সপেরিমেন্ট’ হিসেবে নিজেদের মধ্যে শারীরিক কসরত চালিয়েছেন! পুলিশ প্রশাসন ‘বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে’ বলে নিশ্চিন্তবোধ করছে। মনে হচ্ছে, তারা নীরব দর্শক হয়ে অপেক্ষা করছে—যদি কখনো পরিস্থিতি রক্তক্ষরণের পর্যায়ে যায়, তখন তারা সেই ‘প্র্যাকটিক্যাল’ শিখতে উৎসাহিত হবে!
আমাদের শিক্ষাঙ্গন যে দিন দিন রাজনীতির খেলার মাঠ হয়ে উঠছে, তা বলাই বাহুল্য। যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্ক, গবেষণা এবং নতুন জ্ঞানের অনুসন্ধান হওয়ার কথা, সেখানে ছাত্রসংগঠনগুলো এখন কৌশলে হাতাহাতির প্রতিযোগিতায় নেমেছে। প্রগতিশীলতা, নিরপেক্ষতা ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষার নামে তারা আসলে নিজেদের ক্ষমতা বিস্তারের মঞ্চ সাজাচ্ছে।
মূলত এখন রাজনৈতিক কর্তৃত্ব নিয়েই নানা জায়গায় নানা ধরনের বিবাদ বাধছে। এমনটা হওয়ার কথা ছিল কি? ছাত্রদল এবং শিবির, দুটোই ছাত্রসংগঠন। তারা তাদের আদর্শিক ভাবনা ছড়িয়ে দিয়ে মানুষকে কাছে টানার কথা। কিন্তু যে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে নানা দিকে, তারই একটির ধারাবাহিকতা বলে মনে হচ্ছে এই হাতাহাতির ঘটনা। ভাগ্যিস সেটি অস্ত্রযুদ্ধে পরিণত হয়নি। সেটাও হতে পারত, কারণ এখন যে অরাজক অবস্থা চলছে চারদিকে, তাতে করে কোথায় গিয়ে মানুষ আশ্রয় নেবে, কার কাছে বিচার চাইবে—এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর খুঁজে পাওয়া যায় না।
সুতরাং, এই সময় শিক্ষার্থীদেরই ভাবতে হবে কোন পথে তাঁরা যাবেন। তাঁদের উচিত পড়াশোনা ও রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরি করা। পড়াশোনার গভীরতায় ঢোকার জন্য রাজনীতির কতটা প্রয়োজন আছে, একটি সংগঠনকে একটি শিক্ষালয়ে কোন কোন বিষয় মেনে চলতে হবে, কোন কোন বিষয়ে তারা কাজ করতে পারবে—এগুলোর সুনির্দিষ্ট ধারণা তৈরি করতে হবে। নইলে আধিপত্যবাদের একটা চূড়ান্ত প্রকাশ আমরা দেখতে পারব।
ইতিমধ্যেই কিছু আলামত দেখা যাচ্ছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের মধ্যে। তাঁদের কাছে মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল, তার বিপরীত দৃশ্য দেখতে পেয়ে হতাশই হতে হয়। এই হতাশা ঝেড়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দরকার একটা স্থির মস্তিষ্কের সত্যিকারের ভাবনা। সেটা যদি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পরিচয়কে ছাপিয়ে সামগ্রিক মানবতার কাছে না পৌঁছায়, তাহলে এই হাতাহাতি বন্ধ হবে না। বরং শিক্ষালয়গুলো হয়ে উঠবে নতুন ধরনের ‘কমব্যাট জোন’, যেখানে জ্ঞানের পরিবর্তে মারামারিই একমাত্র ভাষা হয়ে উঠবে!

অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও এস্থার ডাফলো তাঁদের যুগান্তকারী গবেষণায় দেখিয়েছেন যে ‘দারিদ্র্য বিমোচনের বড় পরিকল্পনা প্রায়ই ব্যর্থ হয়, যখন তা মাঠের বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে।’ তাঁরা ‘পুওর ইকোনমিকস’ গ্রন্থে দেখিয়েছেন—দরিদ্র মানুষের আচরণগত...
২ ঘণ্টা আগে
জাতীয় বাজেট কেবল একটি দেশের আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন-দর্শন, অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রতিচ্ছবি। কোন খাতকে রাষ্ট্র কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, তার সবচেয়ে স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটে বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে।
২ ঘণ্টা আগে
২০২৬ সালের ১১ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট। তাতে মোট আকার ধরা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা ইতিহাসের বৃহত্তম বাজেট। এই বিপুল অঙ্কের বাজেট নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা, সমালোচনা...
২ ঘণ্টা আগে
জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর করার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করার পর চট্টগ্রামের খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ত্বরিত এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানানো যেতেই পারে।
২ ঘণ্টা আগে