Ajker Patrika

খাল খননে বাধা

সম্পাদকীয়
খাল খননে বাধা

বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের নলবুনিয়া এলাকার সুন্দরিয়া শাখাখালটি ভরাট হয়ে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। কৃষকের সেচের কথা বিবেচনা করে বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরের তত্ত্বাবধানে ওই এলাকার ৯টি খালের মধ্যে সেই মরা খাল পুনঃখননের কাজ শুরু করেছে। কিন্তু সুন্দরিয়া শাখাখাল এলজিইডি পুনঃখনন করতে পারছে না। কারণ, এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি ফারুক মিয়া নিজেকে ভূমিহীন দাবি করে খালটি ১৯৯৯ সালে ভূমি অফিস থেকে ডিসিআরের (ভূমি নামজারি করে সরকারি ফি পরিশোধের পর প্রাপ্ত অফিশিয়াল রসিদ) মাধ্যমে স্থায়ী বন্দোবস্ত নেন। তিনি এখন আবার কাজটি বন্ধ করার জন্য আদালতের মাধ্যমে খালটির খননকাজে নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করেছেন।

জানা যায়, এ খাল দীর্ঘকাল ধরে ভরাট হয়ে থাকার কারণে কয়েক শ একর ফসলি জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে আছে। এদিকে এলাকার কৃষকেরা খাল পুনঃখননের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন।

প্রশ্ন হলো, একটি সচল খাল, যা আবার খাসজমি, তা কীভাবে একজন ব্যক্তির নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল? ভূমি অফিসের নথিতে যেখানে জমিটি ‘খাল’ শ্রেণিতে রয়েছে, সেখানে তা বন্দোবস্ত দেওয়া প্রচলিত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ছাড়া ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তার বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি মিথ্যা তথ্য দিয়ে এই জমি বন্দোবস্ত নিয়েছিলেন। ভূমি অফিসের তৎকালীন কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে বন্দোবস্ত নেওয়ার অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার।

বর্তমানে ওই এলাকায় চাষাবাদের এই মৌসুমে পানির তীব্র সংকট চলছে। কৃষকদের দাবি, খালটি খনন করা হলে এই এলাকার এক ফসলি জমি তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হবে। খালটি সচল করা গেলে ওই এলাকার কয়েক শ কৃষক উপকৃত হবেন। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার দোহাই দিয়ে খননের কাজ আটকে রাখা হয়েছে। আদালতের নির্দেশকে সম্মান জানানো জরুরি, তবে যদি জালিয়াতি বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কোনো আদেশ জারি করা হয়, তবে তা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরকে আইনি লড়াইয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই।

নতুন সরকার যখন খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, তখন স্থানীয় পর্যায়ের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি কি সেই প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করতে তৎপর হচ্ছেন না? বরগুনা জেলা প্রশাসনের কাছে আমাদের আহ্বান, ফারুক মিয়া প্রকৃতই ভূমিহীন কি না এবং খালের জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে শত শত কৃষকের জীবিকার কথা বিবেচনা করে সুন্দরিয়া শাখাখালের খননকাজ অবিলম্বে শুরু করার ব্যবস্থা করতে হবে।

কৃষি রক্ষায় খালের প্রবাহ ফিরিয়ে আনার কোনো বিকল্প নেই। একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির লোভের কাছে শত শত কৃষকের স্বার্থ বলি হতে পারে না। আমরা আশা করব, বরগুনা জেলা প্রশাসন এই জট খুলতে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করবে এবং আগামী বর্ষার আগেই খালটি পুনঃখনন করে কৃষকদের মুখে হাসি ফোটাবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

যুদ্ধ এড়াতে গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব দিয়েছিল ইরান, ‘অভিভূত’ হয়েছিল ব্রিটিশরা

তুরস্ক ও সিঙ্গাপুরে ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা, মধ্যপ্রাচ্যে চাঁদ দেখার প্রস্তুতি

অভিনেতা শামস সুমনের জানাজা সম্পন্ন, পরিবার দেশে ফিরলে দাফন

চাঁদ দেখা যায়নি, সৌদি আরবে ঈদ শুক্রবার

সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেসের ৯ বগি লাইনচ্যুত, উত্তরের ৫ জেলার সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত