আমরা সাধারণত বুড়িগঙ্গা নদীকেই দূষিত দেখি, এ নিয়ে আলোচনা-সভা করি। অথচ সারা দেশে এমন কত যে নদীনালা, খাল-বিল-ঝিল রয়েছে যা দূষণের ফলে বাস্তুসংস্থানের শিকল ছিঁড়ে যাচ্ছে! সম্প্রতি ‘রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ’ নামের একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান এই তথ্য প্রকাশ করেছে যে দেশের সবচেয়ে বেশি দূষিত নদীর তালিকায় দ্বিতীয় স্থান ‘অর্জন’ করে নিয়েছে নরসিংদী জেলার হাঁড়িধোয়া নদী। এই ‘অর্জনের’ পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ‘ভূমিকা’ রেখেছে ওই অঞ্চলের শিল্পকারখানাগুলো।
মেঘনা ও শীতলক্ষ্যা ছাড়াও নরসিংদীকে ঘিরে রয়েছে ব্রহ্মপুত্র, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, আড়িয়াল খাঁ, হাঁড়িধোয়া, পাহাড়িয়া ও কাকন নদী। এসব নদী ও শাখানদীগুলোর আশপাশেই গড়ে উঠেছে শিল্পাঞ্চল। স্বাভাবিকভাবেই শিল্পকারখানাগুলোর অপরিশোধিত দূষিত বর্জ্য নদীগুলোতে গিয়ে মিশছে। ফলে যা হওয়ার তা-ই হচ্ছে—দিন দিন বাড়ছে নদীদূষণ।
প্রায় ৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ হাঁড়িধোয়া নদীর অবস্থা সবচেয়ে বেগতিক। গবেষণা বলছে, নদীর পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা নেমে এসেছে শূন্যের কোঠায়। এ অবস্থায় নদীর মাছ-গাছ বাঁচে কী করে? জলজ কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদ তো বিলুপ্তির পথেই, এমনকি নদীর তীরবর্তী গাছপালা ও আগাছারও বেঁচে থাকা দায়! স্থানীয় বাসিন্দারাও অভিযোগ করছেন, হাঁড়িধোয়া নদীর পানি ব্যবহারের অযোগ্য। খাওয়ার কথা তো বাদই, পানিতে নামলে তাঁদের শরীরে দেখা দিচ্ছে নানা ধরনের চর্মরোগ। শীতলক্ষ্যা নদীর কথাও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। একসময় যে নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত, এখন শীতকালে সেখানে মরা মাছ ভেসে ওঠে।
নদীদূষণ যদি না ঠেকানো যায়, তাহলে কী হবে, এসব ভাবলেই যে কারও গা শিউরে ওঠার কথা। দূষিত নদীর পানি তো ব্যবহার করাই যাবে না, সেই সঙ্গে এর মাছ না বাঁচলে ধীরে ধীরে খাদ্যাভাব দেখা দেবে। সাধারণ বিজ্ঞান বলে, সূর্যের আলো পেয়ে নদীর শেওলা বাঁচবে, তা খেয়ে বাঁচবে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী। আর মাছ হবে মানুষের খাদ্য। কিন্তু এসবের কিছুই যদি না বাঁচে তাহলে মানুষের খাবারের চাহিদা পূরণ হবে না। আধুনিককালে এসে মানুষকে দুর্ভিক্ষের কবলে পড়তে হবে। স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা হয়তো আর পরীক্ষার খাতায় লিখতে পারবে না—‘বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ’ কিংবা ‘আমরা মাছে-ভাতে বাঙালি’।
নীতিনির্ধারকেরা খুব ভালো করে জানেন নদীগুলোকে কী করে বাঁচানো যায়। গত বছরই হাঁড়িধোয়া নদীর দূষণ রোধে ১০ কোটি টাকা প্রকল্পের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের ধীরগতি নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। এটা খুবই দুঃখজনক যে গবেষণা বা গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিতে হয়। তারা কি এ-ও ভুলে যায় যে তারাও এই দূষণের শিকার?
নদী রক্ষায় শুধু পরিবেশ অধিদপ্তর বা নদী রক্ষা কমিশনের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। শিল্পকারখানাগুলোর কর্তৃপক্ষদেরও বিবেকবান হতে হবে। তাদের কারখানার বর্জ্য অপসারণে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নয়তো তারা নিশ্চয়ই জানে, তাদের জন্য আইনে কী শাস্তির বিধান রয়েছে।

রাজনীতির মাঠটা আবার সরগরম হয়ে উঠবে বলে মনে হচ্ছে। ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না—এই কথাটি তো মিথ্যে নয়। ইউনূস সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল, সংসদে বিল পাস করে সেটাকে পোক্ত করল ক্ষমতাসীন বিএনপি। কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা উচিত কি না, তা নিয়ে বিস্তর কথাবার্তা হয়েছে আগে।
১৮ ঘণ্টা আগে
আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল ছিল একটি বিশেষ দিন। সাধারণত আমরা ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণের দৃশ্যটি বড় করে দেখি, কিন্তু সেই আনুষ্ঠানিকতার মূল ভিত্তি ও আইনি কাঠামো তৈরি হয়েছিল ১০ এপ্রিল। এই দিনটিই ছিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী প্রথম সরকার গঠন...
১৮ ঘণ্টা আগে
বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন বলেছিলেন, ‘আমি জানি না তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কী অস্ত্র দিয়ে হবে, তবে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ হবে লাঠি ও পাথর দিয়ে।’ তিনি এই মন্তব্য কোনো অনুষ্ঠানে কিংবা লেখায় করেননি। জনশ্রুতি আছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পারমাণবিক অস্ত্রের ভয়াবহতা দেখে সাংবাদিক ও লেখক লোরেন আইসনারে...
২ দিন আগে
ভারতের যে রাজ্যটির সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ সবচেয়ে বেশি, সেটি হলো পশ্চিমবঙ্গ। আর তাই এই রাজ্যের যেকোনো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনই বাংলাদেশকে প্রভাবিত করে। এ কারণে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।
২ দিন আগে