Ajker Patrika

টেস্টটিউব বেবি নিতে গিয়ে গর্ভে অন্যের ভ্রূণ, যমজ সন্তান নিয়ে বিপাকে দম্পতি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৪ জুন ২০২৬, ১৫: ০৬
টেস্টটিউব বেবি নিতে গিয়ে গর্ভে অন্যের ভ্রূণ, যমজ সন্তান নিয়ে বিপাকে দম্পতি
হন্যে হয়ে নিজের সন্তান খুঁজছেন এই দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের দিল্লির একটি আইভিএফ (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) ক্লিনিকে চিকিৎসকদের চরম গাফিলতি ও জালিয়াতির কারণে অন্যের ভ্রূণ এক নারীর গর্ভে প্রতিস্থাপন করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। যমজ সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর ডিএনএ পরীক্ষায় দম্পতি জানতে পেরেছেন যে তাঁরা ওই শিশুদের জৈবিক মা-বাবা নন।

এই গুরুতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লির একটি স্থানীয় আদালত পুলিশকে মামলা রুজু করে ঘটনার বিশদ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

ঘটনার শিকার ভুক্তভোগী দম্পতি রাহুল রাঠোর ও মিনু রাঠোর হরিয়ানা রাজ্যের গুরুগ্রামের বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী দম্পতির অভিযোগ, সন্তান নেওয়ার উদ্দেশ্যে গত বছর তাঁরা আইভিএফ প্রযুক্তির সহায়তা নেন। দিল্লির দ্বারকার একটি হাসপাতাল তাঁদের দিল্লিরই গ্রেটার কৈলাস এলাকার একটি নামী বন্ধ্যত্ব নিরাময় ক্লিনিকে স্থানান্তর করে। সেখানে ডা. শিবানী সাচদেবের অধীনে তাঁদের চিকিৎসা শুরু হয়।

২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা আশ্বাস দেন যে রাহুল ও মিনুর নিজস্ব শুক্রাণু ও ডিম্বাণু ব্যবহার করেই ল্যাবে ভ্রূণ তৈরি করা হবে। এরপর ২০২৫ সালের ১৪ মে মিনু রাঠোরের গর্ভে ভ্রূণটি প্রতিস্থাপন করা হয়। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি তিনি দুটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।

কিন্তু যমজ কন্যাসন্তান দুটির শারীরিক গঠন ও চেহারা বাবা-মায়ের সঙ্গে একেবারেই না মেলায় দম্পতির মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়। সন্দেহ দূর করতে তাঁরা নবজাতকদের ডিএনএ পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নেন। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, ওই যমজ শিশুদের ডিএনএর সঙ্গে রাহুল বা মিনু কারও ডিএনএর মিল নেই। অর্থাৎ চিকিৎসকেরা তাঁদের অজান্তেই অন্য কোনো দম্পতির ভ্রূণ মিনুর গর্ভে প্রতিস্থাপন করেছিলেন।

আইভিএফ প্রযুক্তির এই চরম বিপর্যয় দম্পতির জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তকে এক দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে।

এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে মিনু রাঠোর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে বলেন, ‘আমি যেমন আমার নিজের সন্তানের জন্য হন্যে হয়ে খুঁজছি, তেমনি যে মায়ের সন্তান এখন আমার কোলে রয়েছে, সেই মা-ও নিশ্চয়ই তাঁর নিজের সন্তানের জন্য ব্যাকুল হয়ে কাঁদছেন।’

মিনু জানান, সন্তানেরা নিজের নয় জানার পর থেকে তীব্র মানসিক যন্ত্রণার কারণে তিনি তাদের স্তন্যপান করাতে পারছেন না। তবে মানবিক কারণে তাঁরা শিশুদের অবহেলা করছেন না। তিনি বলেন, ‘যদিও এই যমজ কন্যাসন্তান দুটি আমাদের নিজের নয়, তবু আমরা পরম যত্নে তাদের লালন-পালন করছি।’

দম্পতির আইনজীবী আদালতে জানিয়েছেন, এটি একটি বড় ধরনের চিকিৎসা অপরাধ এবং ইচ্ছাকৃত জালিয়াতির অংশ হতে পারে।

রাহুল রাঠোর ঘটনার একটি উচ্চপর্যায়ের ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে বলেন, ‘হাসপাতালের আইভিএফ রেকর্ড, ভ্রূণসংক্রান্ত নথিপত্র, ল্যাবের তথ্য, ইলেকট্রনিক ডেটা এবং হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ অবিলম্বে জব্দ করে সংরক্ষণ করা উচিত, যাতে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রমাণ লোপাট করতে না পারে।’

মিনু রাঠোর আরও দাবি করেছেন, এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক ভুক্তভোগী দম্পতি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, যারা একই ধরনের আইভিএফ জালিয়াতির শিকার হয়েছেন। বিষয়টিতে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আইভিএফ ও ভ্রূণ প্রতিস্থাপন কী

ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) হলো কৃত্রিম উপায়ে সন্তান জন্মদানের একটি আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি। এই প্রক্রিয়ায় ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিম পরিবেশে স্ত্রীর ডিম্বাণু ও স্বামীর শুক্রাণু মিলিত করে নিষিক্তকরণের মাধ্যমে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে সেই ভ্রূণটি স্ত্রীর জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রতিটি দম্পতির নমুনা আলাদাভাবে সংরক্ষণ ও চিহ্নিত করার নিয়ম রয়েছে, যাতে কোনো অবস্থাতেই এক দম্পতির ভ্রূণ অন্য দম্পতির সঙ্গে মিশ্রিত না হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত