সেন্ট মার্টিন দ্বীপের অধিবাসীরা কৃষিকাজ এবং সমুদ্রে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত। বিগত দুই দশকে দ্বীপের মানুষ এই দুই পেশা ছেড়ে প্রায় সম্পূর্ণ পর্যটননির্ভর হয়ে পড়েছে। বর্তমানে পর্যটন মৌসুম মাত্র দুই মাসে সীমাবদ্ধ হওয়ায় এবং রাতযাপনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসায় দ্বীপের ২০০টি হোটেল-রিসোর্ট ও শতাধিক রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ইজিবাইকচালক, ট্যুরিস্ট গাইড এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর। এমনকি শিশুদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে।
অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা আর পর্যটকের কারণে সেন্ট মার্টিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়ে গেছে। পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবকাঠামো নির্মাণের কারণে বন উজাড় হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া কচ্ছপের আবাস ধ্বংস ও মিঠাপানির সংকট তীব্র হচ্ছে। এ রকম বাস্তবতায় সেন্ট মার্টিনের অনেক প্রাণী ও উদ্ভিদ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়েছে। দ্বীপটির জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিভিন্ন সরকারের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। সবশেষ অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্বীপটিকে রক্ষা করতে ১২ দফা নির্দেশনাসহ বছরের ১০ মাস কোনো পর্যটক প্রবেশ করতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এটা অবশ্যই ভালো পদক্ষেপ। কিন্তু এখানকার স্থানীয়দের বাস্তব অবস্থা কী দাঁড়াবে, তা নিয়ে কোনো উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করার আশঙ্কা করা যাচ্ছে।
পরিবেশ রক্ষা যেমন অপরিহার্য, তেমনি দ্বীপবাসীর অন্নের সংস্থান করাও রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। দ্বীপবাসীর বিকল্প আয়ের প্রধান উৎস হতে পারত মৎস্য আহরণ। একদিকে সাগরে মাছের আকাল, অন্যদিকে গভীর সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে আরাকান আর্মির হাতে স্থানীয় জেলেদের জিম্মি হওয়ার ঘটনা দ্বীপবাসীর মনে ভীতি ছড়িয়ে দিয়েছে। ফলে মাছ ধরাও এখন এক ঝুঁকিপূর্ণ পেশা।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মতে, পর্যটন নিয়ন্ত্রণের ফলে জীববৈচিত্র্যের উন্নতি হচ্ছে। এটি ইতিবাচক, কিন্তু মানুষের পেটে ক্ষুধা রেখে পরিবেশ রক্ষা দীর্ঘ মেয়াদে সফল হতে পারে না। এ জন্য জরুরি হলো ইকো ট্যুরিজমের সঠিক বাস্তবায়ন করা। মানে পর্যটন পুরোপুরি বন্ধ না করে একে নিয়ন্ত্রিত ইকো ট্যুরিজমে রূপান্তর করা। পর্যটকদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ এবং পরিবেশের ক্ষতি না করে রাতযাপনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে পরিবেশও বাঁচবে, দ্বীপবাসীর আয়ও সচল থাকবে।
জেলেরা যাতে নির্ভয়ে সাগরে মাছ ধরতে পারেন, সে জন্য কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর টহল জোরদার করতে হবে। সীমান্ত নিরাপত্তা ও জেলেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
পর্যটন বন্ধ থাকায় যেসব পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাদের সন্তানদের জন্য বিশেষ শিক্ষা উপবৃত্তি এবং দ্বীপবাসীর জন্য বছরের নির্দিষ্ট সময়ে রেশনিং ব্যবস্থা করা দরকার।
সেন্ট মার্টিন কেবল একটি দ্বীপ নয়, এটি আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে যেন এর রক্ষক তথা দ্বীপবাসীকে আমরা বিপদে না ফেলি। তাই পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করতে হবে। মনে রাখতে হবে, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া পৃথিবীর কোনো প্রান্তেই পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মসূচি সফল হয়নি।

আলতাফ পারভেজ লেখক ও গবেষক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে স্নাতকোত্তর। ডাকসুর নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। ‘মুজিব বাহিনী থেকে গণবাহিনী: ইতিহাসের পুনঃপাঠ’, ‘বার্মা: জাতিগত সংঘাতের সাত দশক’, ‘শ্রীলঙ্কার তামিল ইলম’, ‘গ্রামসি ও তাঁর রাষ্ট্রচিন্তা’ প্রভৃতি তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বই।
১ দিন আগে
নরসিংদীর মাধবদীতে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে তার বাবার সামনে থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কিশোরীটি ১৫ দিন আগে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে বিচার চাইতে গেলে সেই ইউপি সদস্য মীমাংসা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা বলেন।
১ দিন আগে
নবনিযুক্ত আইজিপি মব মোকাবিলার বিষয়ে কথা বলেছেন। এ জন্য তিনি সবার সহযোগিতা চেয়েছেন। আইজিপির বক্তব্যের মাধ্যমে পরিষ্কার হলো, বিগত সময়টিতে মব সংস্কৃতি যেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা এখন সত্যিই সবার মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার বোধ সৃষ্টি করেছে। অন্তত আইজিপি সেটা স্বীকার করেছেন।
২ দিন আগে
একটি গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর তারা দেড় বছরের এলেবেলে শাসন চালিয়েছে। অনেক অনিশ্চয়তার পর ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের শাসনভার গ্রহণ করেছেন।
২ দিন আগে