Ajker Patrika

৮ ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে অর্ধশত কোটি টাকা লুট

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮: ৩৪
৮ ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে অর্ধশত কোটি টাকা লুট

নামসর্বস্ব আটটি প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক থেকে ৫৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ১১৫ জনকে আসামি করে আটটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব ভুয়া প্রতিষ্ঠান গঠনের নেপথ্যে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনিসহ তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য জড়িত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আজ বুধবার দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ এসব মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির (ইউসিবিএল) সাবেক পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনি এবং সাবেক পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির সদস্য বশির আহম্মেদ পরস্পর যোগসাজশে ব্যাংকের একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এই কাজে কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ব্যবহার করেন তাঁরা। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঋণের নামে ইউসিবিএলের বিভিন্ন শাখা থেকে ৫৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে পাচার করা হয়।

এজাহারে বলা হয়, সাধারণ শ্রমিক, দিনমজুর ও অসহায় মানুষকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলো ব্যবহার করে আটটি কাগুজে প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে ঋণ আবেদন করা হয়। ঋণ অনুমোদনের পর ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়।

ইউসিবিএলের চকবাজার শাখায় আমির হামজাকে এশিয়া এন্টারপ্রাইজ, মঈন উদ্দিনকে মুন এন্টারপ্রাইজ, নুরুল ইসলামকে ইসলাম এন্টারপ্রাইজ, সাইফু উদ্দিনকে সান সাইন এন্টারপ্রাইজ, দিদারুল আলমকে আলম এন্টারপ্রাইজ, জসীম উদ্দিনকে জুপিটার এন্টারপ্রাইজ, নাজিম উদ্দিনকে নাজিম অ্যান্ড সন্স এবং রাজধন কর্মকারকে আল রাজি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী দেখিয়ে আটটি চলতি হিসাব খোলা হয়।

তদন্তে দেখা গেছে, ইউসিবিএলের চকবাজার শাখা থেকে এশিয়া এন্টারপ্রাইজের নামে ৮ কোটি টাকা, মুন এন্টারপ্রাইজের নামে ৭ কোটি টাকা, ইসলাম এন্টারপ্রাইজের নামে ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং সান সাইন এন্টারপ্রাইজের নামে ৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করা হয়। ইউসিবিএলের পোর্ট শাখা থেকে আলম এন্টারপ্রাইজের নামে ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা, জুপিটার এন্টারপ্রাইজের নামে ৯ কোটি টাকা, পাহাড়তলী শাখা থেকে নাজিম অ্যান্ড সন্সের নামে ৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং বহদ্দারহাট শাখা থেকে আল রাজি এন্টারপ্রাইজের নামে ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। সব মিলিয়ে আটটি প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ৫৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে লোপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত