Ajker Patrika

সহজে ঘর গোছানোর পদ্ধতি জেনে নিন

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 
সহজে ঘর গোছানোর পদ্ধতি জেনে নিন
ঈদের আনন্দ-উৎসব শেষে ঘরবাড়ি অগোছালো হয়ে পড়াটা স্বাভাবিক বিষয়। এবার ধাপে ধাপে গুছিয়ে নিন। প্রতীকী ছবি: পেক্সেলস

ঈদের আনন্দ-উৎসব শেষে ঘরবাড়ি অগোছালো হয়ে পড়াটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। অতিথি আপ্যায়ন, রান্না আর উৎসবের আমেজে ড্রয়িংরুম থেকে রান্নাঘর—সবখানেই যেন একটা ধকল যায়। উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতে অগোছালো ঘরবাড়ি দেখে কিছুটা ক্লান্তি লাগতেই পারে। কিন্তু একটু পরিকল্পনা করে এগোলে দ্রুতই ঘরে শান্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব। ঘর গোছানোর এ প্রক্রিয়াকে সহজ করতে কিছু কাজ করে ফেলুন ধাপে ধাপে।

একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা দিয়ে শুরু করুন

পুরো ঘর একসঙ্গে গোছাতে গেলে আপনি দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়বেন। তাই বড় কাজটিকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নিন। যেমন প্রথমে ড্রয়িংরুম, তারপর শোয়ার ঘর এবং সব শেষে রান্নাঘর। এভাবে একেকটি রুম ধরে এগোলে কাজগুলো অনেক বেশি গোছানো মনে হবে।

অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলুন

ঈদের সময় অনেক উপহারসামগ্রী, প্যাকেট বা অতিরিক্ত জিনিসপত্র জমে যায়। প্রথমেই যা যা আপনার আর প্রয়োজন নেই, সেগুলো আলাদা করুন। খালি মিষ্টির প্যাকেট, কোল্ড ড্রিংকসের বোতল বা রান্নার উচ্ছিষ্ট অংশ দ্রুত ডাস্টবিনে ফেলুন। অগোছালো জিনিসের ভিড় কমলে ঘর এমনিতেই বড় এবং পরিষ্কার দেখাবে।

পর্দা ও কুশন কভার পরিবর্তন

ঈদের দিনগুলোতে ড্রয়িংরুমে মেহমানদের আনাগোনা থাকে বেশি। তাই সোফার কুশন কভার, টেবিল রানার বা পর্দাগুলোতে ধুলাবালু ও দাগ লেগে যেতে পারে খুব সহজে। ঈদের পর বা সুযোগ বুঝে যেকোনো দিন এগুলো বদলে ফেলুন। হালকা রঙের বা সুতির ফ্যাব্রিকসের কভার ব্যবহার করলে ঘরে একধরনের প্রশান্তি ও সতেজ ভাব আসবে।

রান্নাঘর পরিষ্কারে বিশেষ নজর

ঈদে মূলত ধকল যায় রান্নাঘরে। মসলার দাগ, তেলচিটে ভাব বা ফ্রিজে জমে থাকা অতিরিক্ত খাবার—সব মিলিয়ে রান্নাঘর অগোছালো হয়ে থাকে। প্রথমে ফ্রিজটি পরিষ্কার করুন এবং বাসি খাবারগুলো সরিয়ে ফেলুন। চুলার আশপাশ এবং কিচেন কাউন্টার ভালো মানের ক্লিনার দিয়ে মুছে নিন। ভিনেগার এবং বেকিং সোডার মিশ্রণ ব্যবহার করে তেলের দাগ সহজেই দূর করা যায়।

গেস্টরুম ও বিছানা গোছানো

শোয়ার ঘর বা গেস্টরুমের বিছানার চাদর পাল্টে ফেলুন। ঈদের দিনগুলোতে ব্যবহৃত অতিরিক্ত বালিশ বা চাদরগুলো ধুয়ে রোদে শুকিয়ে তুলে রাখুন। পরিষ্কার বিছানার চাদর ঘরে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে একটি পজিটিভ ভাইবস পাবেন, যা উৎসবের ক্লান্তি কাটাতে সাহায্য করবে।

মেঝে এবং কার্পেট পরিষ্কার

উৎসবের সময় মেঝেতে অনেক ধুলাবালু বা খাবারের কণা পড়তে পারে। তাই ঘর ঝাড়ু দেওয়ার পর ভালো ফ্লেভারের ফ্লোর ক্লিনার দিয়ে মেঝে মুছে নিন। ঘরে যদি কার্পেট থাকে, তবে অবশ্যই ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে বা রোদে দিয়ে ধুলা পরিষ্কার করে নিন। এতে ঘরে ভ্যাপসা গন্ধ হবে না।

ইনডোর প্ল্যান্টের যত্ন

ঘরের কোণে বা বারান্দায় থাকা গাছগুলোর যত্ন নিতে ভুলবেন না। ঈদের ব্যস্ততায় হয়তো গাছের পাতায় ধুলা জমে যায় বা পানি দেওয়া হয় না। গাছের পাতাগুলো ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে দিন এবং পর্যাপ্ত পানি দিন। সবুজের ছোঁয়া ঘরে প্রাণের স্পন্দন ফিরিয়ে আনবে।

সুগন্ধি ও বাতাসের চলাচল

সব গোছানো শেষ হলে ঘরের জানালাগুলো খুলে দিন, যাতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ঢুকতে পারে। ঘর আরও সতেজ করতে এয়ারফ্রেশনার বা সুগন্ধি মোম ব্যবহার করতে পারেন। লেমন বা ল্যাভেন্ডার ফ্লেভার আপনার মন শান্ত রাখতে সাহায্য করবে।

ঘর গোছানো মানে শুধু পরিষ্কার করা নয়; বরং নিজের থাকার পরিবেশ আনন্দদায়ক করে তোলা। ঈদ-পরবর্তী এ ব্যস্ততা আপনাকে আলস্য থেকে বের করে আনবে এবং একটি স্নিগ্ধ পরিবেশে ফিরতে সাহায্য করবে। দিনের শেষে একটি পরিষ্কার ও পরিপাটি ঘরই পারে আপনার সব ক্লান্তি দূর করে প্রশান্তি এনে দিতে।

সূত্র: দ্য স্প্রাউস ও অন্যান্য

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত