রায়হান আল ইমরান
রবিউল আউয়াল ইসলামি বর্ষপঞ্জির এক মহিমান্বিত ও স্মরণীয় মাস। আরবি শব্দ ‘রবিউল আওয়াল’ অর্থ প্রথম বসন্ত। বসন্ত যেমন প্রকৃতিতে নবজাগরণের সূচনা ঘটায়, তেমনি রবিউল আউয়াল নতুন করে নবীপ্রেমের কথা জানান দেয়। ইসলামি সংস্কৃতিতে রবিউল আউয়াল মাসটির গুরুত্ব অপরিসীম। কয়েকটি কারণে এ মাস খুবই তাৎপর্যপূর্ণ—
১. নবীজির আগমন : প্রসিদ্ধ মতানুসারে ১২ রবিউল আউয়াল ইতিহাসের এক অনন্য দিন। এ দিনে জন্মগ্রহণ করেন বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তাঁর আগমন শুধু মুসলিমদের নয়; বরং পুরো বিশ্বের জন্য ছিল শান্তি, ন্যায় ও মানবতার পূর্ণাঙ্গ বার্তা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি আপনাকে জগদ্বাসীর জন্য রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছি।’ (সুরা আম্বিয়া: ১০৭)
২. অলৌকিক পরিবর্তন: নবীজি (সা.)-এর জন্মলগ্নে এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যা ছিল অলৌকিক। তিনি যে রাতে ভূমিষ্ঠ হন, সে রাতে পারস্যের সুবিশাল রাজপ্রাসাদে শুরু হয় কম্পন। যার ফলে প্রাসাদের ১৪টি গম্বুজ ভেঙে পড়ে। এ ছাড়া, হাজার বছর ধরে প্রজ্বলিত পারসিকদের অগ্নিকুণ্ড সে রাতেই নিভে যায়। (দালাইলুন নবুওয়াহ: ১ / ১২৬)
৩. শোকের বার্তা: রবিউল আউয়াল যেমন আনন্দের মাস, তেমনি বেদনারও। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এ মাসের ১২ তারিখেই ইহলোক ত্যাগ করে পরপারে পাড়ি জমান। তাই মুসলিম বিশ্বে এ দিনটি শোক দিবস হিসেবেও স্মরণীয়। (ফাতহুল বারি: ৮ / ১৩০)
মুমিনের করণীয়
রবিউল আউয়াল মুমিনের জন্য শুধুই স্মৃতির মাস নয়; বরং এটি নবীজির সঙ্গে আত্মিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং আমলের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির এক অপূর্ব সুযোগ। এ মাসে একজন মুমিন নিম্নোক্ত আমলগুলোতে মনোযোগী হতে পারে—
১. সিরাত অধ্যয়ন: এ মাস নবীজির জীবন ও চরিত্র জানার শ্রেষ্ঠ সময়। তাঁর কথা, কাজ, আচার-ব্যবহার আমাদের হৃদয়কে রাসুলপ্রেমে উজ্জীবিত করে। আর সেই সঙ্গে সন্ধান দেয় উত্তম আদর্শেরও। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের জীবনে রয়েছে উত্তম আদর্শ।’ (সুরা আহজাব: ২১)
২. দরুদ পাঠ: দরুদ পাঠ নবী করিম (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। বিশেষত রবিউল আউয়াল মাসে দরুদ পাঠ নবীজি (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা গভীর ও মজবুত করে তোলে। নবীজি (সা.) বলেন, ‘আমার ওপর অধিক দরুদ পাঠকারী কিয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে বেশি সান্নিধ্য অর্জনকারী হবে।’ (ইবনে হিব্বান: ৯১১)
৩. সুন্নাহর অনুসরণ: নবীজি (সা.)-এর ভালোবাসা শুধু মুখে নয়; বরং তা যেন হয় আমাদের জীবনধারার প্রতিফলন। আর এর জন্য তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ অপরিহার্য। কোরআনে এ বিষয়ে এসেছে, ‘বলুন—যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমাকে অনুসরণ করো; তাহলে আল্লাহ তাআলাও তোমাদের ভালোবাসবেন।’ (সুরা আলে ইমরান: ৩১)
৪. বিদআতকে না বলা: রবিউল আওয়াল মাস মুমিনের জন্য আনন্দ ও খুশির বার্তা নিয়ে আসে। তবে এ আনন্দ শরিয়তের সীমার মধ্যে থাকাই কর্তব্য। শরিয়তবিরোধী কর্মকাণ্ড যেমন: গানবাজনা, বিদআত ও কুসংস্কারে লিপ্ত হওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়। নবীজি এ ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু সংযোজন করে, যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।’ (সহিহ বুখারি: ২৬৯৭)
৫. শুকরিয়া আদায়: মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন মানবজাতির জন্য এক মহান নিয়ামত। তাঁর উম্মত হওয়া সৌভাগ্যের বিষয়। তাই এই মাসে কর্তব্য হলো, ইবাদত ও সুন্নতের অনুসরণের মাধ্যমে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যদি তোমরা নিয়ামতের কৃতজ্ঞ হও, তাহলে আমি তা বাড়িয়ে দেব, আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তাহলে (জেনে রেখো) আমার শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ।’ (সুরা ইবরাহিম: ৭)
লেখক: ইসলামবিষয়ক গবেষক
রবিউল আউয়াল ইসলামি বর্ষপঞ্জির এক মহিমান্বিত ও স্মরণীয় মাস। আরবি শব্দ ‘রবিউল আওয়াল’ অর্থ প্রথম বসন্ত। বসন্ত যেমন প্রকৃতিতে নবজাগরণের সূচনা ঘটায়, তেমনি রবিউল আউয়াল নতুন করে নবীপ্রেমের কথা জানান দেয়। ইসলামি সংস্কৃতিতে রবিউল আউয়াল মাসটির গুরুত্ব অপরিসীম। কয়েকটি কারণে এ মাস খুবই তাৎপর্যপূর্ণ—
১. নবীজির আগমন : প্রসিদ্ধ মতানুসারে ১২ রবিউল আউয়াল ইতিহাসের এক অনন্য দিন। এ দিনে জন্মগ্রহণ করেন বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তাঁর আগমন শুধু মুসলিমদের নয়; বরং পুরো বিশ্বের জন্য ছিল শান্তি, ন্যায় ও মানবতার পূর্ণাঙ্গ বার্তা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি আপনাকে জগদ্বাসীর জন্য রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছি।’ (সুরা আম্বিয়া: ১০৭)
২. অলৌকিক পরিবর্তন: নবীজি (সা.)-এর জন্মলগ্নে এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যা ছিল অলৌকিক। তিনি যে রাতে ভূমিষ্ঠ হন, সে রাতে পারস্যের সুবিশাল রাজপ্রাসাদে শুরু হয় কম্পন। যার ফলে প্রাসাদের ১৪টি গম্বুজ ভেঙে পড়ে। এ ছাড়া, হাজার বছর ধরে প্রজ্বলিত পারসিকদের অগ্নিকুণ্ড সে রাতেই নিভে যায়। (দালাইলুন নবুওয়াহ: ১ / ১২৬)
৩. শোকের বার্তা: রবিউল আউয়াল যেমন আনন্দের মাস, তেমনি বেদনারও। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এ মাসের ১২ তারিখেই ইহলোক ত্যাগ করে পরপারে পাড়ি জমান। তাই মুসলিম বিশ্বে এ দিনটি শোক দিবস হিসেবেও স্মরণীয়। (ফাতহুল বারি: ৮ / ১৩০)
মুমিনের করণীয়
রবিউল আউয়াল মুমিনের জন্য শুধুই স্মৃতির মাস নয়; বরং এটি নবীজির সঙ্গে আত্মিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং আমলের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির এক অপূর্ব সুযোগ। এ মাসে একজন মুমিন নিম্নোক্ত আমলগুলোতে মনোযোগী হতে পারে—
১. সিরাত অধ্যয়ন: এ মাস নবীজির জীবন ও চরিত্র জানার শ্রেষ্ঠ সময়। তাঁর কথা, কাজ, আচার-ব্যবহার আমাদের হৃদয়কে রাসুলপ্রেমে উজ্জীবিত করে। আর সেই সঙ্গে সন্ধান দেয় উত্তম আদর্শেরও। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের জীবনে রয়েছে উত্তম আদর্শ।’ (সুরা আহজাব: ২১)
২. দরুদ পাঠ: দরুদ পাঠ নবী করিম (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। বিশেষত রবিউল আউয়াল মাসে দরুদ পাঠ নবীজি (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা গভীর ও মজবুত করে তোলে। নবীজি (সা.) বলেন, ‘আমার ওপর অধিক দরুদ পাঠকারী কিয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে বেশি সান্নিধ্য অর্জনকারী হবে।’ (ইবনে হিব্বান: ৯১১)
৩. সুন্নাহর অনুসরণ: নবীজি (সা.)-এর ভালোবাসা শুধু মুখে নয়; বরং তা যেন হয় আমাদের জীবনধারার প্রতিফলন। আর এর জন্য তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ অপরিহার্য। কোরআনে এ বিষয়ে এসেছে, ‘বলুন—যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমাকে অনুসরণ করো; তাহলে আল্লাহ তাআলাও তোমাদের ভালোবাসবেন।’ (সুরা আলে ইমরান: ৩১)
৪. বিদআতকে না বলা: রবিউল আওয়াল মাস মুমিনের জন্য আনন্দ ও খুশির বার্তা নিয়ে আসে। তবে এ আনন্দ শরিয়তের সীমার মধ্যে থাকাই কর্তব্য। শরিয়তবিরোধী কর্মকাণ্ড যেমন: গানবাজনা, বিদআত ও কুসংস্কারে লিপ্ত হওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়। নবীজি এ ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু সংযোজন করে, যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।’ (সহিহ বুখারি: ২৬৯৭)
৫. শুকরিয়া আদায়: মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন মানবজাতির জন্য এক মহান নিয়ামত। তাঁর উম্মত হওয়া সৌভাগ্যের বিষয়। তাই এই মাসে কর্তব্য হলো, ইবাদত ও সুন্নতের অনুসরণের মাধ্যমে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যদি তোমরা নিয়ামতের কৃতজ্ঞ হও, তাহলে আমি তা বাড়িয়ে দেব, আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তাহলে (জেনে রেখো) আমার শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ।’ (সুরা ইবরাহিম: ৭)
লেখক: ইসলামবিষয়ক গবেষক
ইসলামি পঞ্জিকায় রবিউল আউয়াল মাস বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এই মাসটি ইসলামি ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি নবী করিম হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর জন্মের মাস। মুসলিম উম্মাহ এই মাসে বিশেষভাবে নবীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে, তার জীবন ও কর্মের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে।
৫ ঘণ্টা আগেমানবতার ইতিহাস এক দীর্ঘ নদীর মতো—কখনো শান্ত, কখনো উত্তাল। এই নদী বয়ে চলেছে সভ্যতার উজ্জ্বল ভোর থেকে অন্ধকার গহ্বর পর্যন্ত। কিন্তু আজ সেই নদীর জল যেন রক্তিম ও ঘোলাটে; তার তীরে দাঁড়িয়ে আমরা শুনতে পাচ্ছি বিলাপের ধ্বনি—এ পৃথিবী যেন এক মহাশোকের মঞ্চ।
৬ ঘণ্টা আগেজীবনকে সুশৃঙ্খল করতে এবং আল্লাহর সান্নিধ্য পেতে নামাজের কোনো বিকল্প নেই। একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যম। এটি এমন এক ইবাদত—যা আমাদের মনে আধ্যাত্মিক প্রশান্তি আনে, জীবনের প্রতিটি কাজে আনে বরকত। প্রতিদিন সময় মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর...
৬ ঘণ্টা আগেচেয়ারে বসে নামাজ আদায় করার বিধান কী? কখন এটি জায়েজ এবং কখন এটি জায়েজ নয়, তা কোরআন ও হাদিসের আলোকে জানতে চাই।
৬ ঘণ্টা আগে