Ajker Patrika

প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে রাজনীতি ও মনমতো ব্যাখ্যায় চলছে পশ্চিমতীরের জমি দখল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে রাজনীতি ও মনমতো ব্যাখ্যায় চলছে পশ্চিমতীরের জমি দখল
জুদিয়ান মরুভূমির তালা’আত আদ-দাম এলাকায় একটি প্রাচীন তীর্থপথ ধরে খনন চলছে। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমতীরে প্রত্নতত্ত্ব এখন শুধু অতীত খোঁজার বিজ্ঞান নয়—এটি হয়ে উঠেছে গভীর রাজনৈতিক বিতর্কের একটি ক্ষেত্র। পশ্চিমতীর অঞ্চলের নানা খননকাজ ঘিরে ইতিহাস, পরিচয় ও ভূখণ্ডের দাবি নিয়ে তীব্র মতবিরোধ দেখা যাচ্ছে।

এই অঞ্চলের জুদিয়ান মরুভূমির তালা’আত আদ-দাম এলাকায় একটি প্রাচীন তীর্থপথ ধরে খনন চলছে, যা জেরুজালেমের দিকে যায়। ধারণা করা হয়, এই পথ দিয়েই একসময় যাতায়াত করেছিলেন যিশুর পরিবার। ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলকে জুদিয়া বলা হতো, যা ইহুদি জাতির প্রাচীন আবাস হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে এখানে প্রায় ৫ হাজার প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের অস্তিত্ব রয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলের সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রত্নতাত্ত্বিক এয়াল ফ্রেইমান দাবি করেন—কোনো রাজনীতি নয়, শুধু ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য তিনি কাজ করেন। ফ্রেইমান বলেন, ‘আমরা খনন না করলে এসব স্থান হয়তো মাটির নিচেই চাপা পড়ে থাকত।’ তবে সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলছেন—এই সংরক্ষণ আসলে কোন পক্ষের জন্য? বা কারা এসব আবিষ্কারকে নিজেদের অধিকারে নিয়ে নিচ্ছে।

ইসরায়েলি বামপন্থী প্রত্নতাত্ত্বিক সংগঠন ‘ইমেক শাভেহ’-এর সদস্য তালিয়া এজরাহির মতে—প্রত্নতত্ত্বকে এখন ভূমি দাবির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর মতে, ‘খননের মাধ্যমে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়—আমরাই আগে এখানে ছিলাম।’ এতে করে অনেক ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশাধিকার সীমিত হচ্ছে এবং ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের পথ তৈরি হচ্ছে।

এর উদাহরণ হিসেবে নেবি সামুয়েল এলাকার কথা বলা হয়, যেখানে একসময় একটি ফিলিস্তিনি গ্রাম ছিল। এখানকার প্রত্নসম্পদকে ইহুদি ধর্মের সঙ্গে যুক্ত করে এখন সেখানে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে।

পশ্চিমতীরের আরেক গুরুত্বপূর্ণ স্থান সেবাস্তিয়া, যা একসময় ইসরায়েল রাজ্যের রাজধানী ছিল। এখানে কাজ করছেন প্রত্নতত্ত্ববিদ আদি শ্রাগাই। তাঁর মতে, সঠিক সংরক্ষণ না হলে গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস মুছে যাবে। তবে এই খননকাজকে ঘিরেও উত্তেজনা রয়েছে।

স্থানীয় ফিলিস্তিনি গাইড জায়েদ আজহারি অভিযোগ করেন, খনন চলাকালে ফিলিস্তিনিদের ওই এলাকাগুলোতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। তাঁর মতে, ‘এটি শুধু প্রত্নতত্ত্ব নয়, ভূমি দখলের কৌশল।’

অন্যদিকে তেলআবিব ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রাফি গ্রিনবার্গ বলেন, প্রত্নতত্ত্ব আসলে একটি গল্প বলার প্রক্রিয়া। একই নিদর্শন বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা যায় এবং এই ব্যাখ্যাই রাজনৈতিক হয়ে ওঠে। তাঁর মতে, অতীতের নিদর্শন বর্তমানের বাস্তবতায় নতুন অর্থ পায়।

এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ‘সিটি অব ডেভিড’ এলাকাও, যেখানে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রাচীন রাজা দাউদের রাজধানীর প্রমাণ খুঁজে পেয়েছে বলে দাবি করে। বর্তমানে এটি একটি জাতীয় উদ্যান, যা পর্যটনের জন্যও ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে পাশের সিলওয়ান এলাকায় অনেক ফিলিস্তিনি পরিবার উচ্ছেদের মুখে পড়েছে।

ইসরায়েলের ঐতিহ্যমন্ত্রী আমিখাই এলিয়াহু দাবি করেন, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোই ইহুদি জনগণের ঐতিহাসিক অধিকার প্রমাণ করে। তাঁর মতে, ‘এই নিদর্শনই দেখায়—এই ভূমি আমাদের।’

অন্যদিকে ফিলিস্তিনিরা বলছেন, প্রত্নসম্পদকে ইহুদিরা নিজেদের দাবি করে তাঁদের ইতিহাস ও উপস্থিতিকে ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

‘ইলন মাস্কের হাত থেকে বাঁচাতে’ কিশোরী কন্যাকে হত্যা করলেন মা

অবশেষে অনশনরত স্বামীর হাত ধরে ঘরে ফিরলেন সেই স্ত্রী

মার্কিন বাহিনীর নতুন মাথাব্যথা ইরানের ‘অদৃশ্য কমান্ডো’

ক্রুকে উদ্ধারে কী কী প্রযুক্তি ব্যবহার করল যুক্তরাষ্ট্র, ইরানিরা কেন খুঁজে পেল না

চৈত্রসংক্রান্তিতে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সাধারণ ছুটি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত