Ajker Patrika

বাংলাদেশে আটক সোনালীকে নিয়ে এবার বেকায়দায় মোদি সরকার, ভোটার তালিকায় বাবা-মায়ের নাম

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৫, ১২: ১৪
সোনালী খাতুন ও তাঁর স্বামী দানিশ। ছবি: সংগৃহীত
সোনালী খাতুন ও তাঁর স্বামী দানিশ। ছবি: সংগৃহীত

অবৈধ অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে অন্তঃসত্ত্বা সোনালী খাতুন এবং তাঁর পরিবারকে গত জুনে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করার ঘটনায় নতুন মোড়। সোনালীর বাবা-মা গতকাল শনিবার ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক প্রকাশিত ২০০২ সালের পশ্চিমবঙ্গ ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম খুঁজে পেয়েছেন। এই তথ্য সামনে আসার পর সোনালীর পরিবার প্রশ্ন তুলেছে—তাঁদের মেয়ে ও জামাইকে দেশে ফেরাতে আর কী প্রমাণ লাগবে?

বীরভূম জেলার পাইকর গ্রাম থেকে সোনালীর বাবা ভদু শেখ মোবাইল ফোনে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেছেন, ‘এখন আমাদের নাম তালিকায় পাওয়া গেছে। আমার অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে এবং তার পরিবারকে ঘরে ফেরানোর জন্য আর কী লাগবে? কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, এমনকি বাংলাদেশের একটি আদালতও তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু এখনো কিছুই হয়নি।’

সোনালীর মা জ্যোৎস্না বিবি মেয়ের স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ওখানে জেলে আমার মেয়ের কী ধরনের যত্ন হচ্ছে, আমরা জানি না। ওকে ফিরে এসে ভারতেই সন্তান প্রসব করতে হবে। আমরা ওর জন্য খুবই চিন্তিত।’

সোনালীর প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী রঘুনাথ চক্রবর্তী নিশ্চিত করেছেন, সোনালীর বাবা-মায়ের নাম বীরভূম জেলার মুরারাই বিধানসভা কেন্দ্রের ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় পাওয়া গেছে। পাইকর গ্রামের পাইকর প্রাথমিক বিদ্যালয়কে তাঁদের ভোটকেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

রঘুনাথ বলেন, ‘আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সোনালী এবং তাঁর পরিবার এখনো বাড়ি ফিরতে পারেনি, এটা দুঃখজনক। অন্তঃসত্ত্বা সোনালীর বিষয়টিও উদ্বেগের কারণ।’ তিনি আরও দাবি করেন, এই নতুন তথ্য সোনালী খাতুন দম্পতির মামলাকে আরও শক্তিশালী করেছে। তাঁর মতে, সোনালীর সন্তান যদি বাংলাদেশেও জন্মগ্রহণ করে, তাহলেও সে ‘বংশগতভাবে’ ভারতীয় নাগরিকত্ব পাবে।

বর্তমানে সোনালী, তাঁর স্বামী দানিশ এবং আট বছরের ছেলে বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে কারাগারে বন্দী আছেন। দিল্লি পুলিশ আটক করার পর গত ২৬ জুন তাঁদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়। এই পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারটি প্রায় ২০ বছর ধরে দিল্লিতে আবর্জনা কুড়ানোর কাজ করত।

গত সেপ্টেম্বরে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, সোনালী এবং তাঁর পরিবারের পাশাপাশি সুইটি বিবি (৩২) ও তাঁর দুই ছেলে—যাদের একই অভিযোগে একই সময়ে আটক করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল—সবাইকে এক মাসের মধ্যে ভারতে ফিরিয়ে আনতে হবে। যদিও কেন্দ্র সরকার এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে।

এদিকে, সোনালীর বাবা-মা হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও তাঁদের মেয়েকে ফিরিয়ে আনতে ‘ব্যর্থ হওয়ায়’ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একটি আদালত অবমাননার মামলাও করেছেন। সোনালীসহ ছয়জনকে ফিরিয়ে আনার জন্য হাইকোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা ২৪ অক্টোবর শেষ হয়ে গেছে। এর আগে ৩ অক্টোবর বাংলাদেশের একটি আদালতও তাঁদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করে ভারতে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল।

এই ঘটনা সামনে আসতেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস কেন্দ্র সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে। তৃণমূল দাবি করেছে, সোনালীর বাবা-মা ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত ভারতীয় নাগরিক। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে তৃণমূল কংগ্রেস এটিকে নির্বাচনী তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর)-এর নামে ‘বাংলার এবং এর জনগণের ওপর আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছে।

তৃণমূল লিখেছে, ‘যে অন্তঃসত্ত্বা বাঙালি নারীর বাবা-মা ২০০২ সালের নির্বাচনী তালিকায় ভারতীয় নাগরিক হিসেবে নথিভুক্ত, তাঁকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী তকমা দিয়ে নির্বাসিত করা প্রশাসনিক ভুল নয়; এটি জাতীয়তাবাদের নামে একটি নৈতিক পতন।’

তৃণমূল সাংসদ এবং পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ বোর্ডের চেয়ারম্যান সমীরুল ইসলাম বলেন, ‘এটি কেন্দ্রের মুখে আরও একটি চপেটাঘাত।...শুধু দরিদ্র বাংলাভাষী পরিযায়ী হওয়ার কারণে তাঁদের অবৈধ বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে দিল্লি থেকে আটক করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

গাজায় এনজিওর কার্যক্রম বন্ধ করল ইসরায়েল, ব্যাপক বিপর্যয়ের শঙ্কা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
শীতের মধ্যে গাজার জন্য দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যা। এর মধ্যে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে এসেছে ইসরায়েলের এনজিও বন্ধের আদেশ। ছবি: এএফপি
শীতের মধ্যে গাজার জন্য দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যা। এর মধ্যে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে এসেছে ইসরায়েলের এনজিও বন্ধের আদেশ। ছবি: এএফপি

ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজাবাসীর জন্য সবটুকু আশার আলো যেন নিভে যেতে বসেছে। উপত্যকার কয়েক ডজন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল, যা ওই অঞ্চলে জীবন রক্ষাকারী মানবিক কার্যক্রমকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা এই পদক্ষেপকে তাদের অস্তিত্বের ওপর নতুন আঘাত হিসেবে দেখছেন।

ইসরায়েল নতুন বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ আজ বৃহস্পতিবার থেকে ৩৭টি আন্তর্জাতিক এনজিও-এর লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করছে। এই তালিকায় রয়েছে ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ), নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল, কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল এবং ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির মতো বড় বড় সংস্থাও।

ইসরায়েলের দাবি, নতুন নিয়ম অনুযায়ী এসব সংস্থাকে তাদের কর্মী ও কাজের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে হবে। তবে পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, এটি মূলত মানবিক সংস্থাগুলোকে কোণঠাসা করার একটি কৌশল। ইতিপূর্বেও জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থাকে কোনো প্রমাণ ছাড়াই হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দায়ে অভিযুক্ত করেছে ইসরায়েল।

খান ইউনিসের বাসিন্দা সিরাজ আল-মাসরি গত বুধবার আল–জাজিরাকে বলেন, অবরুদ্ধ গাজাবাসীর জন্য এসব সংস্থার কোনো বিকল্প নেই। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের কোনো আয় নেই, পকেটে পানি নেই। আমরা এখন কোথায় যাব? চিকিৎসা নেওয়ার মতো হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি জায়গা টিকে আছে। এমন অবস্থায় এই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে অত্যন্ত জটিল করে তুলবে এবং আহতদের জন্য এক মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে। এমনকি সাধারণ মানুষও চিকিৎসার জন্য চরম দুর্ভোগে পড়বে।’

গাজার বাসিন্দা রামজি আবু আল-নীল বলেন, ‘মানবিক সংস্থাগুলোর উপস্থিতিতেই পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ। তারা চলে গেলে কী হবে তা একমাত্র আল্লাহ জানেন। অনেক শিশু মারা যাবে, অগণিত পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে।’

এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার কানাডা, ফ্রান্স, জাপান এবং যুক্তরাজ্যসহ ১০টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক এনজিও-এর কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, ত্রাণ সংস্থাগুলোর কাজে বাধা দেওয়ার যেকোনো চেষ্টা অগ্রহণযোগ্য এবং তাদের ছাড়া এই বিশাল অভাব পূরণ করা অসম্ভব।

এদিকে যুদ্ধবিরতি চললেও গাজায় ফিলিস্তিনিদের মৃত্যু থেমে নেই। ত্রাণ ও মৌলিক পণ্যের ওপর ইসরায়েলের কঠোর বিধিনিষেধ অব্যাহত রয়েছে। পুরো গাজা এখন ধ্বংসস্তূপ। ১০ লাখেরও বেশি মানুষ পলিথিনের তাঁবুতে কনকনে শীতের সঙ্গে লড়াই করছেন। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড না থাকায় সাধারণ মানুষ এখন পুরোপুরি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। খান ইউনিসের আবদুল্লাহ আল-হাওয়াজরি বলেন, ‘অধিকাংশ মানুষই পুরোপুরি আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর বেঁচে আছে।’

ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য কাজ করা জাতিসংঘ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক নজির’ বলে অভিহিত করেছে। ইউএনআরডব্লিউএ প্রধান ফিলিপ লাজারিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ত্রাণ সংস্থাগুলোর কাজ নিয়ন্ত্রণ করার এই প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করা না গেলে বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তার যে নিরপেক্ষতা ও মানবিকতার মূলনীতি রয়েছে, তা ক্ষুণ্ন হবে।’ তিনি আরও জানান, এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি অবজ্ঞার এক উদ্বেগজনক রূপ। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালেও ইসরায়েল ইউএনআরডব্লিউএ–এর কাজ বন্ধ করতে বেশ কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছিল।

গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের তথ্যমতে, গত দুই বছরের যুদ্ধে ইসরায়েল প্রায় ৫০০ ত্রাণকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবককে হত্যা করেছে। সেই সঙ্গে তারা গাজার ওপর এক শ্বাসরুদ্ধকর অবরোধ চাপিয়ে দিয়েছে, যা সেখানে দুর্ভিক্ষ ডেকে এনেছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইসরায়েলের এই নিষেধাজ্ঞা শুধু অমানবিকই নয়, এটি স্পষ্টতই যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা’র লঙ্ঘন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিকল্পনায় স্পষ্ট বলা আছে, ‘জাতিসংঘ ও এর অঙ্গসংস্থা এবং রেড ক্রিসেন্টসহ অন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই চলবে।’ অথচ আজ যেসব সংস্থাকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে, তাদের অনেকেই জাতিসংঘের স্বীকৃত ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থার প্রধান চালিকাশক্তি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি আর মাত্র ১০ শতাংশ বাকি: জেলেনস্কি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: এএফপি
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: এএফপি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গতকাল বুধবার জানিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা থেকে তাঁর দেশ আর মাত্র ‘১০ শতাংশ’ দূরে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত এবং মস্কোকে পুরস্কৃত করার বিরুদ্ধেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের এই ভয়াবহতম সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে প্রচেষ্টা গত কয়েক সপ্তাহে বেশ গতি পেয়েছে। তবে যুদ্ধ পরবর্তী মীমাংসায় ভূখণ্ডের মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষ এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছে। ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা বর্তমানে রাশিয়ার দখলে। চুক্তির অংশ হিসেবে রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্ব দনবাস অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেতে মরিয়া। কিন্তু কিয়েভ সতর্ক করে বলেছে, ভূখণ্ড ছেড়ে দিলে তা মস্কোকে আরও উৎসাহিত করবে।

ইংরেজি নববর্ষের ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, তাঁর দেশ যুদ্ধ শেষ করতে চায় ঠিকই, তবে তা ‘যেকোনো মূল্যে’ নয়। যেকোনো চুক্তির জন্য শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রয়োজন, যাতে রাশিয়া পুনরায় আক্রমণ করার সাহস না পায়। টেলিগ্রামে পোস্ট করা সেই ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘শান্তি চুক্তি ৯০ শতাংশ প্রস্তুত। বাকি আছে কেবল ১০ শতাংশ। আর এই ১০ শতাংশ মানে কেবল সংখ্যা নয়।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই ১০ শতাংশই ঠিক করে দেবে শান্তির ভাগ্য, ইউক্রেন ও ইউরোপের ভবিষ্যৎ।’

শীর্ষ দূত স্টিভ উইটকফসহ মার্কিন কর্মকর্তারা ইউক্রেনীয় ও ইউরোপীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে এই চার বছরের যুদ্ধ অবসানের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার কয়েক ঘণ্টা পরই জেলেনস্কি এই ভাষণ দেন। পঞ্চম বছরে পা রাখা এই যুদ্ধ ধ্বংসযজ্ঞের এক বিশাল ঢেউ বয়ে এনেছে, যা লাখ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে এবং ইউক্রেনের পুরো শহরগুলোকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।

এদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর নববর্ষের ভাষণে রুশদের ইউক্রেন যুদ্ধে বিজয়ের ওপর বিশ্বাস রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর পর এটি তাঁর চতুর্থ নববর্ষের ভাষণ। রুশ নেতা ক্রমাগত তাঁর দেশের নাগরিকদের বলে আসছেন যে, আলোচনা ব্যর্থ হলে রুশ সামরিক বাহিনী ইউক্রেনের বাকি জমি—যা তিনি নিজের বলে দাবি করেছেন—শক্তি প্রয়োগ করেই দখল করবে। সেনাদের ‘বীর’ সম্বোধন করে পুতিন ভাষণে বলেন, ‘আমরা আপনাদের ওপর এবং আমাদের বিজয়ে বিশ্বাস রাখি।’

ক্রেমলিন এ সপ্তাহে জানিয়েছে, তারা যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার শর্ত আরও ‘কঠোর’ করবে। তারা অভিযোগ করেছে, মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের মধ্যবর্তী নভগোরোদ অঞ্চলে পুতিনের লেকের ধারের বাসভবন লক্ষ্য করে ইউক্রেন কয়েক ডজন ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

রাশিয়া একে পুতিনের ওপর একটি ‘ব্যক্তিগত’ ও ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং বলেছে, এর ফলে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তাদের আলোচনার অবস্থান আরও কঠোর হবে। রাতের অন্ধকারে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বনাঞ্চলে বরফের ওপর একটি ক্ষতিগ্রস্ত ড্রোন পড়ে আছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলাটি ছিল ‘লক্ষ্যবস্তু নির্দিষ্ট, সতর্কভাবে পরিকল্পিত এবং পর্যায়ক্রমে পরিচালিত’।

তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার (আইএসডব্লিউ) মঙ্গলবার জানিয়েছে, নভগোরোদ ওব্লাস্তে পুতিনের বাসভবনে ইউক্রেনীয় হামলার দাবির স্বপক্ষে তারা সাধারণ কোনো ফুটেজ বা রিপোর্ট দেখেনি। পুতিন নিজে এই হামলা নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। ক্রেমলিন জানিয়েছে যে, তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ফোনে এ বিষয়ে অবহিত করেছেন। হামলার সময় রুশ নেতা কোথায় ছিলেন, সে সম্পর্কেও মস্কো কিছু জানায়নি। উল্লেখ্য, পুতিনের ব্যক্তিগত জীবন ও বাসভবন সব সময়ই গোপনীয়তার চাদরে ঢাকা থাকে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

নববর্ষের ভাষণে তাইওয়ানকে ফের চীনের সঙ্গে একীভূত করার অঙ্গীকার করলেন সি চিন পিং

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। ছবি: এপির সৌজন্যে
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। ছবি: এপির সৌজন্যে

ইংরেজি নববর্ষের (২০২৬) প্রাক্কালে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তাইওয়ানকে চীনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে পুনরায় একীভূত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় বেইজিং থেকে প্রচারিত ভাষণে সি বলেছেন, মাতৃভূমির পুনর্মিলন সময়ের দাবি এবং এটি একটি অপ্রতিরোধ্য ধারা, যা কেউ থামাতে পারবে না।

তাইওয়ানকে ঘিরে চীনের বিশাল সামরিক মহড়া ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ শেষ হওয়ার মাত্র এক দিন পর সি চিন পিংয়ের এই কড়া বার্তা এল। উল্লেখ্য, চীন তাইওয়ানকে নিজের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে তা দখলের হুমকি দিয়ে আসছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সি চিন পিংয়ের ভাষণের আগে গত সোমবার ও গতকাল মঙ্গলবার তাইওয়ান ঘিরে নজিরবিহীন সামরিক মহড়া চালায় চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। তাইওয়ানের প্রধান বন্দরগুলো অবরোধের অনুকরণে এই মহড়া চালায় পিএলএ। এতে চীনা নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও কোস্ট গার্ড অংশ নেয়।

এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৯টি যুদ্ধবিমান এই মহড়ায় অংশ নেয়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রেকর্ড ১১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির প্রতিবাদেই বেইজিং এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় বেইজিংয়ে দেওয়া ভাষণে সি বলেন, চীন ‘খোলা বাহুতে বিশ্বকে আলিঙ্গন করছে’। তিনি এ বছর বেইজিংয়ে আয়োজিত কয়েকটি বহুপক্ষীয় সম্মেলনের কথাও তুলে ধরেন। এর মধ্যে আগস্টে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন সামিটের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানসহ বিশ্বনেতারা অংশ নেন। সম্মেলনটি বেইজিংয়ের কাছের বন্দরনগরী তিয়েনচিনে অনুষ্ঠিত হয়।

সির ভাষণের সময় চীনের রাষ্ট্রীয় টিভিতে গত সেপ্টেম্বরের বিশাল সামরিক প্যারেডের দৃশ্য দেখানো হয়, যেখানে সি চিন পিংয়ের পাশে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার কিম জং উনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পশ্চিমা বিশ্লেষকেরা এই জোটকে ‘অ্যাক্সিস অব আপহিভ্যাল’ বা অস্থিরতার অক্ষ হিসেবে অভিহিত করছেন।

ভাষণে সি চিন পিং ‘তাইওয়ান রেট্রোসেশন ডে’ বা তাইওয়ান প্রত্যাবর্তন (২৫ অক্টোবর) দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ১৯৪৫ সালের এই দিনেই তাইওয়ানে জাপানি ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান হয়। তবে চীন এখন এ দিনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিংতে।

সির ভাষণে চীনের উচ্চপ্রযুক্তি খাতে অগ্রগতির কথাও তুলে ধরা হয়। তিনি কিকবক্সিং রোবট এবং মে মাসে উৎক্ষেপণ করা ধূমকেতু অনুসন্ধান মিশন ‘তিয়ানওয়েন-২’-এর কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ভিডিও গেম ব্ল্যাক মিথ: উকং এবং অ্যানিমেটেড সিনেমা ‘নে ঝা ২’-এর সাফল্যের কথা উল্লেখ করে চীনা সংস্কৃতির জয়গান করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

ট্রাম্পের বাঁ হাতে নতুন কালশিটে দাগ, ফের আলোচনায় প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
গত ২৪ ডিসেম্বর ফ্লোরিডার পাম বিচে অবস্থিত মার-এ-লাগোতে ‘সান্তা ট্র্যাকার ফোন কল’ অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি
গত ২৪ ডিসেম্বর ফ্লোরিডার পাম বিচে অবস্থিত মার-এ-লাগোতে ‘সান্তা ট্র্যাকার ফোন কল’ অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাম হাতে কালশিটে বা কালচে দাগ দেখা দেওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। শপথ নেওয়ার এক বছরের মাথায় ও ৮০ বছরে পা দেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে প্রেসিডেন্টের এই শারীরিক পরিবর্তনগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

কয়েক মাস ধরে ট্রাম্পের ডান হাতে কালশিটে দাগ দেখা গেলেও সম্প্রতি বেশ কিছু অনুষ্ঠানে তাঁর বাম হাতের পেছনেও একই ধরনের দাগ লক্ষ করা গেছে। হোয়াইট হাউস এর আগে ডান হাতের দাগের কারণ হিসেবে ‘অতিরিক্ত করমর্দন’ ও নিয়মিত ‘অ্যাসপিরিন’ সেবনের কথা বলেছিল। তবে এই নতুন দাগ হোয়াইট হাউসের আগের ব্যাখ্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, নতুন এই দাগ নিয়ে তাৎক্ষণিক উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। তাঁদের মতে, এটি বয়সজনিত সাধারণ একটি অবস্থা হতে পারে। তবে তাঁরা সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্প তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে অনিচ্ছুক থাকায় বিষয়টি নিয়ে যে নজরদারি চলছে, তা আরও বাড়তে পারে।

নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ফাইনবার্গ স্কুল অব মেডিসিনের জেনারেল ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক জেফ্রি লিন্ডার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, তাঁরা কৌতূহলের এই চক্রটাকেই আরও উসকে দিচ্ছেন। তিনি সব সময় মানুষের সামনে যান, তাঁর একটা ভাবমূর্তি আছে। এমন ছোট বিষয়ও সেই ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। বিষয়টি তাঁর জন্য সংবেদনশীল। কারণ, তিনি প্রায়ই নিজের কর্মশক্তি ও উদ্যমের কথা বলেন।

গত বছরের নির্বাচনের আগে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বয়স ও মানসিক-শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ উসকে দিয়েছিলেন। ৮৩ বছর বয়সী বাইডেনকে তিনি এখনো তুলনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রায়ই বলেন, ‘আপনি কি মনে করেন, বাইডেন এটা করতে পারতেন?’

তবে তুলনামূলকভাবে ব্যস্ত সূচি বজায় রাখলেও ট্রাম্প নিজেও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত প্রশ্ন এড়াতে পারেননি। গ্রীষ্মকালে তাঁর পা ফুলে যাওয়ার ছবি প্রকাশের পর হোয়াইট হাউস জানায়, ট্রাম্প ‘ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি’ নামে একধরনের শিরার রোগে আক্রান্ত। এটি সাধারণত বয়স্কদের মধ্যে দেখা যায়।

চলতি সপ্তাহে ট্রাম্পের বাঁ হাতের দাগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হোয়াইট হাউস নতুন কোনো ব্যাখ্যা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জনগণের মানুষ। তিনি প্রতিদিন ইতিহাসের যেকোনো প্রেসিডেন্টের চেয়ে বেশি মানুষের সঙ্গে দেখা করেন ও হাত মেলান।

কিন্তু একাধিক চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ সিএনএনকে বলেছেন, ট্রাম্প যেহেতু ডানহাতি, তাই বাঁ হাতের দাগ কেবল হাত মেলানোর কারণেই হয়েছে—এমন সম্ভাবনা কম। তবে হ্যাঁ, বয়স ও অ্যাসপিরিন সেবনের কারণে এমন দাগ দেখা দিতে পারে।

জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিনের অধ্যাপক ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির দীর্ঘদিনের চিকিৎসক জোনাথন রাইনার বলেন, কখনো কখনো সামান্য আঘাত বা কোথাও ধাক্কা লাগলেও এমন দাগ হতে পারে।

রাইনার জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে কখনো পরীক্ষা করেননি। তবে তিনি বলেন, অ্যাসপিরিনের চেয়ে শক্তিশালী ওষুধ সেবনকারীদের মধ্যেও এমন দাগ দেখা যায়। এতে প্রশ্ন উঠেছে—ট্রাম্প কি তাঁর সব ওষুধের তথ্য প্রকাশ করেছেন?

রাইনার অবশ্য বলেছেন, এমন ওষুধ সেবন করা খুবই সাধারণ এবং এটি বড় কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকির ইঙ্গিত নয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি অফিসে থাকাকালে বাইডেনের ‘ইলিকুইস’ নামে রক্ত পাতলা করার ওষুধ ব্যবহারের তথ্য প্রকাশের কথা উল্লেখ করেন।

রাইনার বলেন, এখন প্রশ্নটা চিকিৎসার চেয়ে স্বচ্ছতা নিয়ে বেশি। হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের ওষুধসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাব না দিয়ে স্বাস্থ্য নিয়ে অতিরিক্ত নজরদারির সমালোচনাই বেশি করে।

এদিকে হোয়াইট হাউসে ফেরার আগে থেকে ট্রাম্পের ডান হাতে কালশিটে দাগ ছিল। তিনি সেটি ভারী মেকআপ বা ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢাকতে শুরু করলে এবং ক্যামেরা থেকে আড়াল করতে অন্য হাত ব্যবহার করলে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।

ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি রোগের তথ্য জানানোর সময়ই হোয়াইট হাউস ডান হাতের দাগের প্রসঙ্গ তোলে। সে সময় তাঁর চিকিৎসকের চিঠিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। তিনি সব দিক থেকে সুস্থ আছেন।

গত এপ্রিলে করা শারীরিক পরীক্ষার পর অক্টোবরে হঠাৎ আবার ওয়াল্টার রিড হাসপাতালে যান ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস তখন এটিকে ‘রুটিন’ পরীক্ষা বললেও পরে ট্রাম্প নিজেই জানান, তাঁর এমআরআই করা হয়েছিল। শুরুতে তিনি বলেন, ফলাফল ‘ভালো’, তবে কোন অংশের স্ক্যান হয়েছে—তা তিনি জানেন না বলে জানান। এই অস্পষ্টতায় নতুন করে প্রশ্ন ওঠে।

কয়েক সপ্তাহ পর ট্রাম্পের চিকিৎসক শন বারবাবেলা জানান, তাঁর হৃদ্‌যন্ত্র ও পেটের অংশের ইমেজিং করা হয়েছে এবং ফলাফল ‘সম্পূর্ণ স্বাভাবিক’। তিনি বলেন, এই বয়সী পুরুষদের ক্ষেত্রে এমন পরীক্ষা উপকারী।

তবে জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিনের অধ্যাপক রাইনার তখন বলেন, এ ধরনের পরীক্ষা সাধারণ নিয়ম নয় এবং এটি সম্ভবত কোনো চিকিৎসাজনিত উদ্বেগ থেকেই করা হয়েছে। কিন্তু হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করেন।

গত মাসে ওভাল অফিসের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে কিছু সময়ের জন্য ঘুমিয়ে পড়তে দেখা যায়। কিন্তু এমন দাবি নাকচ করে হোয়াইট হাউস একে ‘ভিত্তিহীন গল্প’ বলে উড়িয়ে দেয়। পরে এটি নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসে প্রতিবেদন ছাপা হলে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তবে চলতি মাসে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে তাঁকে আবারও তন্দ্রাচ্ছন্ন দেখা যায়।

এখন বাঁ হাতের দাগের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে আবার আলোচনা শুরু হয়েছে।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেনশিয়াল ইতিহাসবিদ টিমোথি নাফতালি বলেন, প্রেসিডেন্ট তরুণ নন। যখন শক্তির ভাবমূর্তি অতিরিক্তভাবে তুলে ধরা হয়, তখন সামান্য দুর্বলতাও বড় হয়ে ধরা দেয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত