দাওয়াতে গেলেন, খাবারের আয়োজন বেশ। মাছ-মাংস সবই খেলেন। খাওয়া শেষে একটু দই না খেলে কি হয়? খাওয়ার পরে দই খাওয়া আমাদের খাদ্য-সংস্কৃতির অংশ। কিন্তু আপনি জেনে আঁতকে উঠতে পারেন যে এই মাছ-মাংস খাওয়ার সঙ্গে দই খাওয়া শরীর-বিরুদ্ধ। এটি আপনার শরীরে কফ তৈরি করবে, হজমে গন্ডগোল পাকাবে। অথচ আমরা দই খাই হজম ভালো হওয়ার জন্য। আধুনিক বিজ্ঞান আবার এটাকে সমর্থন করে না।
আয়ুর্বেদে খাদ্য সংমিশ্রণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। যাকে ‘বিরুদ্ধ আহার’ বলা হয়। এতে বিশ্বাস করা হয় যে কিছু খাবার একসঙ্গে খেলে শরীরে বাত, পিত্ত ও কফের মতো দোষ হয়, হজম বা অগ্নি দুর্বল হয় এবং অমা বা টক্সিন তৈরি হয়; যা রোগের কারণ হতে পারে। ঝাল ও তৈলাক্ত মাংসের মতো ভারী ও গরম খাবার খাওয়ার পরে শীতল, অম্ল ও কফ বর্ধক দই খাওয়া সাধারণত অসামঞ্জস্য বলে বিবেচিত হয়।
দোষের অসমতুল্য: ঝাল ও তৈলাক্ত মাংস শরীরে পিত্ত ও কফের দোষ বাড়ায়। দই শীতল ও ভারী হওয়ায় এটি কফ বাড়ায় এবং পিত্তকে অসমতুল্য করে। এই সংমিশ্রণ হজমে বাধা দেয়। কারণ, উভয়ই ‘গুরু’ বা ভারী গুণসম্পন্ন। ফলে পেট ফাঁপা, অম্লতা, বমি বা হজমশক্তি দুর্বল হতে পারে।
বিরুদ্ধ আহারের উদাহরণ: ‘চরক সংহিতা’র মতো আয়ুর্বেদ গ্রন্থগুলোর মতে, মাছ বা মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে দই খাওয়া উচিত নয়। এতে টক্সিন তৈরি হয়। তৈলাক্ত খাবারের সঙ্গে দই মেশালে হজম আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এসব কারণে দইকে উরদ ডাল, পেঁয়াজ, আম বা তৈলাক্ত খাবারের সঙ্গে খেতে নিষেধ করা হয়।
সামগ্রিকভাবে আয়ুর্বেদে এটি ‘মন্দ’ বলে বিবেচিত। এতে চর্মরোগ, আর্থ্রাইটিস বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হওয়ার মতো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হতে পারে।
আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ
আধুনিক বিজ্ঞানে খাদ্য সংমিশ্রণকে হজম, পুষ্টিগুণ ও শারীরিক প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা হয়। ক্যাপসাইসিনসমৃদ্ধ ঝাল ও চর্বিযুক্ত তৈলাক্ত মাংস খেলে মুখে জ্বালা, পেটে অম্লতা বা হজমে সমস্যা হতে পারে। দই প্রোবায়োটিকস, প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার বলে এটি হজমে সাহায্য করে। ফলে আধুনিক বিজ্ঞান ঝাল মাংস খাওয়ার পর দই খাওয়া সমর্থন করে।
ঝাল কমানোর সুবিধা: ঝাল খাবারে থাকা ক্যাপসাইসিন মুখের রিসেপ্টরকে উত্তেজিত করে। দইয়ের ক্যাসিন প্রোটিন এই ক্যাপসাইসিনকে বেঁধে ফেলে বলে জ্বালা কমে। এটি পানির চেয়ে ভালো কাজ করে। কারণ, পানি ক্যাপসাইসিন ছড়িয়ে দেয়। ভারতীয় খাবারে দইকে ঝালের সঙ্গে মিলিয়ে খাওয়া হয় এই কারণে।
হজম ও পুষ্টির সুবিধা: দইয়ের প্রোবায়োটিকস অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম ভালো রাখে। এটি পেটের প্রদাহ কমায় ও হজমশক্তি বাড়ায়। ফলে ঝাল মাংসের পর দই খাওয়া আধুনিক বিজ্ঞান সমর্থন করে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, দই হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়।
সম্ভাব্য ঝুঁকি: যদি ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স থাকে, তাহলে দই খেলে পেট ফাঁপা বা ডায়রিয়া হতে পারে। তৈলাক্ত খাবারের পরে দই খেলে কোনো বড় ঝুঁকি নেই। কিন্তু অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর দই খেলে ক্যালরি বাড়তে পারে। কিছু গবেষণায় মাংস ও দইয়ের সংমিশ্রণকে হার্টের জন্য ইতিবাচক বলে উল্লেখ করতে দেখা গেছে। কিন্তু প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে বিজ্ঞানে দই ‘ভালো’ খাবার বলে বিবেচিত। এতে তাৎক্ষণিক স্বস্তি মেলে এবং হজম ভালো হয়। তবে এতে অ্যালার্জি থাকলে খাওয়া বন্ধ রাখতে হবে।
ব্যতিক্রম ও পরামর্শ: কিছু ক্ষেত্রে মাংসকে দই দিয়ে ম্যারিনেট করে রান্না করা যায়। কিন্তু খাওয়ার পরে আলাদাভাবে দই খাওয়া ভালো নয়। আয়ুর্বেদে দইকে লস্যি বা পাতলা করে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু রাতে বা ঠান্ডা আবহাওয়ায় এটি এড়িয়ে চলা উচিত। যদি খেতে হয়, তাহলে ঝাল কমিয়ে বা দই গরম করে খান।
আয়ুর্বেদে ঝাল মাংসের সঙ্গে দইয়ের সংমিশ্রণ মন্দ হিসেবে বিবেচিত। কারণ, এতে দোষ অসমতুল্য ও হজমে সমস্যা হয়। অন্যদিকে আধুনিক বিজ্ঞানে এটি ভালো। কারণ, দই ঝাল কমায় ও হজমে সাহায্য করে। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নিন। যদি পিত্ত বা কফপ্রধান হন, সে ক্ষেত্রে আয়ুর্বেদ অনুসরণ করুন। অন্যথায় বিজ্ঞানের সুবিধা নিন।
সিদ্ধান্ত আপনার, ঝাল মাংস ও দই খাওয়ায় সমস্যা হলে বাদ দিন। আর সমস্যা না হলে উপভোগ করুন।
লেখক: খাদ্যপথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ প্রধান নির্বাহী, প্রাকৃতিক নিরাময় কেন্দ্র।

রমজান হলো আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস। তবে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন হওয়ার কারণে এই সময়ে আমাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কিংবা ইমিউন সিস্টেম কিছুটা ভিন্নভাবে কাজ করে। একজন চিকিৎসক ও অণুজীববিজ্ঞানী হিসেবে মনে করি, সঠিক বৈজ্ঞানিক সচেতনতা থাকলে রোজার মাধ্যমেও শরীর রোগমুক্ত, দূষণমুক্ত...
২ দিন আগে
রমজান মাস আমাদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক উন্নতির সময় হলেও এই সময়ে আমাদের শরীরের বিভিন্ন অংশের, বিশেষত চোখের যত্ন নেওয়া জরুরি। দীর্ঘ সময় সেহরি থেকে ইফতার পর্যন্ত পানাহার এবং ঘুমের অভাব আমাদের চোখের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তাই রমজানে চোখের সঠিক যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।
২ দিন আগে
থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতিকে বলা হয় হাইপোথাইরয়েডিজম। এটি হতে পারে অটো এমিনোর কারণে কিংবা থাইরয়েড গ্রন্থিতে কোনো সংক্রমণ বা আয়োডিনের ঘাটতি অথবা থাইরয়েডের কোনো অপারেশন বা থাইরয়েড গ্রন্থিতে রেডিও আয়োডিন থেরাপি দেওয়ার পর।
২ দিন আগে
রমজান মাসে আমাদের স্বাভাবিক অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আসে। এ সময় খাওয়াদাওয়ার সময় ও ধরন বদলে যায়। আরও বদলে যায় ঘুমের সময়। এই নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় শরীরকে। এ জন্য নতুন করে অনেক অভ্যাস তৈরি করতে হয়।
২ দিন আগে