হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ১২ মৃত্যু

হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় গতকাল রোববার থেকে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। প্রাথমিকভাবে যে ৩০টি উপজেলায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে, সেখানে শিশুদের টিকা দিতে আসা অভিভাবকদের বেশ ভিড় দেখা গেছে।
এই টিকাদান কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার। প্রায় দেড় মাসব্যাপী এই কর্মসূচি চলবে আগামী ২১ মে পর্যন্ত।
এদিকে হামের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হালনাগাদ করা তথ্যে জানা গেছে, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত এক দিনে সারা দেশে ৯৭৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সাড়ে সাত হাজারের বেশি সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৯২৯ জনের।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১১৩ জন, যাদের মধ্যে ১৭ জনের ক্ষেত্রে হাম নিশ্চিত করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ১০ জন এবং নিশ্চিত হামে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল সকালে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি জানান, ১২ এপ্রিল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগে টিকাদানের পরবর্তী ধাপ শুরু হবে। আর ৩ মে থেকে সারা দেশে এই টিকা সরবরাহ করা হবে। হাম-রুবেলা যাতে দেশে মারাত্মক আকার ধারণ করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় সম্প্রতি হামের প্রকোপ বেশি দেখা গেছে, সেসব এলাকাকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া; প্রথমে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোয় শুরু হলেও ধীরে ধীরে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। জুলাই মাসের মধ্যে এটি নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ জানিয়েছে, দেশে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশু এই হাম-রুবেলা টিকা পাবে। আগে টিকা নিয়ে থাকলেও চলমান ক্যাম্পেইনের আওতায় পুনরায় টিকা নেওয়া যাবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোয় টিকাদান কার্যক্রম চলবে। গতকাল সকাল ৯টা থেকে দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় একযোগে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব শিশুর জ্বর রয়েছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের আপাতত টিকা না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ কার্যক্রমের আওতাভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে—বরগুনা সদর ও পৌরসভা; পাবনা সদর, পৌরসভা, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া ও বেড়া; চাঁদপুর সদর, পৌরসভা ও হাইমচর; কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু; গাজীপুর সদর; চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, পৌরসভা, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট; নেত্রকোনার আটপাড়া; ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল, তারাকান্দা ও শ্রীনগর; রাজশাহীর গোদাগাড়ী; বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ; নওগাঁর পোরশা; যশোর সদর ও পৌরসভা; নাটোর সদর; মুন্সিগঞ্জ সদর, পৌরসভা ও লৌহজং; মাদারীপুর সদর ও পৌরসভা; ঢাকার নবাবগঞ্জ; ঝালকাঠির নলছিটি এবং শরীয়তপুরের জাজিরা।

সারা দেশের সব জেলা ও উপজেলায় একযোগে আগামী ৩ মে থেকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ (রোববার) ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা জানান।
১৪ ঘণ্টা আগে
দেশজুড়ে অতি সংক্রামক হামে আক্রান্ত সন্দেহে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ৯৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতিতে হাম প্রতিরোধে আজ রোববার থেকে শুরু হচ্ছে জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি।
১৯ ঘণ্টা আগে
দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় (গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে রোগটির উপসর্গ নিয়ে চারজন মারা গেছে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
১ দিন আগে
দেশের হামে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় উপসর্গ নিয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
১ দিন আগে