
দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় (গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে রোগটির উপসর্গ নিয়ে চারজন মারা গেছে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় হামে দুজনের মৃত্যু হলেও রোগটির উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও চারজনের। এ ছাড়া নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে ৬০ জনের। এ ছাড়া উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে ৭৮৭ জনের। এই ২৪ ঘণ্টায় বিভাগগুলোর মধ্যে ঢাকার হাসপাতালে দুই এবং জেলাগুলোর মধ্যে টাঙ্গাইলে সর্বোচ্চ দুজন মারা গেছেন বলে জানানো হয়েছে।
আজকের পত্রিকার প্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ওই ২৪ ঘণ্টায় ৩ জেলায় নতুন ১০৪ রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদিকে কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাত ১২টার দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, হাসপাতালটিতে এখন হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১৪৯ শিশু চিকিৎসাধীন। যেসংখ্যক রোগী ছাড়পত্র পাচ্ছে, তার চেয়ে বেশি ভর্তি হচ্ছে। তাই আইসোলেশন ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক এ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ভর্তির সময় থেকেই শিশুটির আইসিইউ সার্পোটের দরকার ছিল। আমরা ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলাম। কিন্তু পরিবার কোনো কারণে ঢাকায় নিতে পারেনি। তবু তার যতটুকু সম্ভব চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। রাতে শিশুটি মারা যায়।’
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন বয়সের ৫১ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সাতজন রোগীর শরীরে হাম শনাক্ত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ আক্তার হোসেন বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে বর্তমানে ২৭ শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তাদের জন্য আলাদা আইসোলেশন সেন্টার করা হয়েছে এবং সেখানে চিকিৎসা চলছে।
এ দিকে চট্টগ্রামে নতুন করে কোনো ‘হাম’ রোগী শনাক্ত না হলেও উপসর্গ নিয়ে আরও ২৮ রোগী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সঙ্গে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা ২৮ রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টায় চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হাম-সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্যে বিষয়টি জানা গেছে।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, গতকাল বিকেল পর্যন্ত আরও ২৮ রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়। এটাসহ এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১১৭ রোগী চমেকসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছে। একই সঙ্গে আগে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ২৮ জন প্রাথমিকভাবে কিছুটা সুস্থ অনুভব করায় তাঁদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
এর আগে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ১২ রোগীর শরীরে ‘হাম’ শনাক্তের কথা জানায় চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়।
ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ৩ এপ্রিল ঢাকায় পাঠানো ৩২ রোগীর নমুনা পরীক্ষায় কারও শরীরে হাম শনাক্ত হয়নি। এতে চট্টগ্রামে নতুন করে কোনো ‘হাম’ রোগী শনাক্ত নেই। গতকাল আরও ৩১ রোগীর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর আগে ১৮৬ জন হাম রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয় বলে জানান তিনি।

সারা দেশের সব জেলা ও উপজেলায় একযোগে আগামী ৩ মে থেকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ (রোববার) ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা জানান।
১১ ঘণ্টা আগে
দেশজুড়ে অতি সংক্রামক হামে আক্রান্ত সন্দেহে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ৯৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতিতে হাম প্রতিরোধে আজ রোববার থেকে শুরু হচ্ছে জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি।
১৬ ঘণ্টা আগে
দেশের হামে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় উপসর্গ নিয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
১ দিন আগে
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আগামীকাল রোববার থেকে ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ শনিবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য জানান।
১ দিন আগে