Ajker Patrika

সপ্তম শ্রেণির বাংলা প্রথম পত্র

আতাউর রহমান সায়েম
আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২১, ১৬: ০২
সপ্তম শ্রেণির বাংলা প্রথম পত্র

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিয়ো। আজ তোমাদের বাংলা প্রথম পত্র বিষয়ের ‘কুলি-মজুর’ কবিতা থেকে ‘নমুনা সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর’ নিয়ে আলোচনা করব।

কুলি-মজুর

কাজী নজরুল ইসলাম

নমুনা সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

১। রক্ত চুষি গরিবের

ধনী মালিক সম্পদের

শোষণের শিকার তারা

সমাজে গরিব যারা

ধনীদের অর্থ সঞ্চিত গরিব দুঃখী বঞ্চিত।

ক. ‘কুলি-মজুর’ কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত? ১

খ. কবির চোখ ফেটে জল এল কেন? ২

গ. উদ্দীপকটির সঙ্গে ‘কুলি-মজুর’ কবিতার কোন দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ৩

ঘ. উদ্দীপকের মূল-উপজীব্যই যেন ‘কুলি-মজুর’ কবিতার মূল-উপজীব্য–মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো। ৪

১ (ক) উত্তর :

‘কুলি-মজুর’ কবিতাটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাম্যবাদী’ কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।

১ (খ) উত্তর :

বাবুসাব কুলিকে ঠেলে নিচে ফেলে দেওয়ার দৃশ্য দেখে কবির চোখ ফেটে জল এল।

একদিন রেলস্টেশনে এক বাবুসাব এক কুলিকে ঠেলে নিচে ফেলে দিল। কুলি-মজুররা দুর্বল বলে তাদের ওপর ধনীরা অত্যাচার করে। জগৎজুড়ে সব সময় দুর্বলরা মার খেয়ে আসছে। স্টেশনে বাবুসাব কুলিকে ঠেলে নিচে ফেলে দিলে কবির চোখ ফেটে জল এল।

১ (গ) উত্তর:

উদ্দীপকের সঙ্গে ‘কুলি-মজুর’ কবিতার মেহনতি মানুষেরই আজ ধনীদের দ্বারা শোষণের শিকারের দিক দিয়ে সাদৃশ্য আছে।

‘কুলি-মজুর’ কবিতায় দেখি শ্রমিকেরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে। কিন্তু তাদের ওপর ধনীরা নানা দিক থেকে অত্যাচার করে। তারা দুর্বল বলে সব সময় তারা মার খায়। শ্রমজীবী মানুষকে শোষণ করে ধনিকশ্রেণি সম্পদের মালিক হয়েছে। অথচ কুলি-মজুরেরাই যুগ যুগ ধরে সমাজে সবচেয়ে বঞ্চিত ও উপেক্ষিত।

উদ্দীপকেও দেখা যায়, গরিবের রক্ত চুষে ধনিকশ্রেণি সম্পদের মালিক হচ্ছে। সমাজে গরিবেরা সব সময় বঞ্চিত। ধনীদের শোষণের শিকার গরিবেরা। অথচ মানবসভ্যতার বিকাশে শ্রমজীবীদের অবদান সবচেয়ে বেশি। তাদের অক্লান্ত শ্রমেই টিকে আছে সভ্যতা। অথচ সেই মেহনতি মানুষেরাই আজ নির্যাতিত-অবহেলিত। তাই বলা যায় যে শোষণের শিকারের দিক দিয়ে উদ্দীপকের সঙ্গে ‘কুলি-মজুর’ কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।

১ (ঘ) উত্তর:

উদ্দীপকের মূল-উপজীব্যই যেন ‘কুলি-মজুর’ কবিতার মূল উপজীব্য–মন্তব্যটি যথার্থ। কারণ উভয় জায়গাতেই মেহনতি মানুষেরাই আজ ধনীদের দ্বারা শোষণের শিকার হচ্ছে।

‘কুলি-মজুর’ কবিতায় দেখি কুলি-মজুরেরাই সব পরিশ্রম করে আসছে। অথচ সমাজে তারা যুগ যুগ ধরে বঞ্চিত, অবহেলিত ও উপেক্ষিত। কবিতায় কবি গরিব শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের পক্ষে আলোচনা করেছেন। কুলি-মজুরের মতো লক্ষকোটি শ্রমজীবী মানুষের হাতেই মানবসভ্যতা গড়ে উঠছে। তাদের পরিশ্রমের বদলে দালানকোঠা, কলকারখানা, রেলগাড়ি, জাহাজ, মোটর চলছে। অথচ তারাই গরিব, তারাই ধনীদের শোষণের শিকার।

উদ্দীপক বিশ্লেষণ করলেও দেখতে পাই এমন শোষণের কথা। আমরা সমাজে দেখতে পাই যে, গরিব শ্রমজীবীদের রক্ত চুষে ধনীরা সম্পদের মালিক হয়েছে। অথচ তারাই সমাজের সবচেয়ে বঞ্চিত মানুষ। ধনীদের সমাজে যারা গরিব তারা শোষণের শিকার। তাদের ওপর যত নির্যাতন, অত্যাচার। গরিবদেরও বঞ্চিত করেই ধনীরা অর্থ সঞ্চয় করে।

উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, কুলি-মজুরের মতো লক্ষকোটি শ্রমজীবী মানুষের হাতেই মানবসভ্যতা গড়ে উঠছে। অথচ তারাই গরিব, তারাই ধনীদের শোষণের শিকার হচ্ছে। অপরদিকে গরিবদের বঞ্চিত করে ধনীরা সম্পদের পাহাড় গড়ছে। আর এমন কথাই উদ্দীপক ও ‘কুলি-মজুর’ কবিতার মূলভাবে ফুটে উঠেছে। তাই উদ্দীপকের মূল-উপজীব্যই যেন ‘কুলি-মজুর’ কবিতার মূল-উপজীব্য–মন্তব্যটি যথার্থ।

লেখক: সিনিয়র সহকারী শিক্ষক, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মতিঝিল, ঢাকা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

লতিফ সিদ্দিকী, ঢাবি অধ্যাপক কার্জনসহ ডিবি হেফাজতে ১৫ জন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার

পুলিশের ওপর ৪ দফা হামলা, গাজীপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ছিনিয়ে নিল দুর্বৃত্তরা

বড় ভাইসহ ডিবি হেফাজতে থাকা সবার সসম্মানে মুক্তি চাই: কাদের সিদ্দিকী

‘গ্রেপ্তার জাসদ নেতাকে থানায় সমাদর’, ওসিসহ তিন কর্মকর্তা প্রত্যাহার

এবার কাকে বিয়ে করলেন দুবাইয়ের রাজকন্যা শেখা মাহরা

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত