Ajker Patrika

মাতৃত্বকালীন ভাতায় অনিয়ম

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২১, ২০: ৩৫
মাতৃত্বকালীন ভাতায় অনিয়ম

দরিদ্র ও স্বামী কাজ করতে অক্ষম, এমন নারীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা দিয়ে আসছে সরকার। কিন্তু রাজবাড়ী সদর উপজেলায় মাতৃত্বকালীন ভাতা দেওয়ায় স্বজনপ্রীতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধনীরাও ভোগ করছেন এই ভাতা। নিয়ম না থাকলেও তৃতীয় সন্তানের মায়েরাও পাচ্ছেন এই ভাতা।

সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ৫০ জন করে মোট ৭০০ জন ২০২০-২০২১ অর্থবছরে এই ভাতা ভোগ করছেন। এ জন্য প্রত্যেক ভাতাভোগীকে ব্যাংকে একটি হিসাব খুলতে হয়। সেই ব্যাংক হিসাবে প্রতি মাসে টাকা পাঠায় সরকার। সন্তান ও মায়ের পুষ্টিকর খাবারের জন্য প্রতি মাসে ৮০০ টাকা করে তিন বছরে মোট ২৮ হাজার ৮০০ টাকা দেওয়া হয়।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী অনুসন্ধানে দেখা যায়, সদর উপজেলা পাচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের ছোট ভাই কাজি আলীমের স্ত্রী শিলা পারভীন পাচ্ছেন মাতৃত্বকালীন ভাতা। চেয়ারম্যানের প্রতিবেশী ইউপি সদস্য ইলিয়াস হোসেনের স্ত্রী ফারজানা বেগমও পাচ্ছেন ভাতা। ওই ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কোনাইল গ্রামের শামীম মল্লিকের স্ত্রী রাজিয়া খাতুনের রয়েছে একতলা বাড়ি। স্থানীয় বাজারে শামীম মল্লিকের রয়েছে কাপড়ের দোকান। তাঁদের এক ছেলের বয়স আট বছর। তারপরও রাজিয়া খাতুনও পাচ্ছেন মাতৃত্বকালীন ভাতা।

মুলঘর ইউনিয়নের দুই সন্তানের জননী সেলিনা খাতুন মাতৃত্বকালীন ভাতা পাচ্ছেন। তাঁর স্বামী রাজবাড়ী বারের আইনজীবী। আলীপুর ইউনিয়নে অনিয়ম দেখা গেছে। তিন সন্তানের জননী সালমা আক্তার মাতৃত্বকালীন ভাতা তুলছেন। যদিও সরকারি নিয়ম রয়েছে দুটি সন্তান পর্যন্ত এই ভাতা পাবেন। সালমা আক্তারের স্বামী সফিকের রয়েছে দুটি ট্রাকসহ বিভিন্ন ব্যবসা।

পাচুরিয়া ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রবিদাস পাড়া গ্রামে মুচি সম্প্রদায়ের অর্ধশতাধিক পরিবারের বসবাস। দরিদ্র এ পরিবারের প্রসূতিরা মাতৃত্বকালীন ভাতার আবেদন করেও পান না। অনেকে অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যানের লোকজন টাকা নিয়ে তাঁদের কার্ড দেয়নি।

শান্ত কুমার দাস জানান, তাঁরা খুব গরিব। নুন আনতে পান্তা ফুরায়। বেতের কাজ করে সংসার চালান। অথচ তাঁদের স্ত্রী ও স্বজনেররা আবেদন করেও কখনো মাতৃত্বকালীন ভাতা পাননি।

আরেক গৃহবধূ সীমা দাস জানান, তাঁর স্বামী দিনমজুর। দুই সন্তানসহ চারজনের সংসার। প্রথম সন্তানের পর দ্বিতীয় সন্তান পেটে এলে মাতৃত্বকালীন ভাতার আবেদন করেন। পরে জানতে পারেন তালিকায় তাঁর নাম নেই।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর রাজবাড়ীর উপপরিচালক মো. আজমীর হোসেন জানান, তাঁরা মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগীদের বাছাইয়ের জন্য একটা কমিটি করে দিয়েছেন। ইউপি পর্যায়ে সেই কমিটির প্রধান হলেন চেয়ারম্যান। তাঁরা বাছাই করে উপজেলায় পাঠান। সেখানে আরেকটি কমিটি রয়েছে, যার প্রধান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। চূড়ান্তভাবে বাছাই করে উপজেলা থেকে তাঁদের কাছে পাঠানো হয়। সেখানে কোনো অনিয়ম চোখে পড়লে ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকেন।

রাজবাড়ী সদরের ইউএনও ফাহমি মো. সায়েফ বলেন, ইউনিয়ন থেকে একবার বাছাই করে তাঁদের কাছে পাঠানো হয়। তাঁরা বাছাইয়ের সময় কোনো অসংগতি দেখলে বাদ দিয়ে দেন। এরপরও অনিয়মের অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

লতিফ সিদ্দিকী, ঢাবি অধ্যাপক কার্জনসহ ডিবি হেফাজতে ১৫ জন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার

পুলিশের ওপর ৪ দফা হামলা, গাজীপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ছিনিয়ে নিল দুর্বৃত্তরা

শতকোটির এফডিআর, স্থায়ী বরখাস্ত হচ্ছেন বিটিআরসির আমজাদ

ভারতে ইসলাম থাকবে, মানিয়ে নিতে শিখুন: আরএসএস প্রধান

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া: ব্যাংকে লুকিয়ে থেকে রাতে ম্যানেজারকে ফোন করল ‘চোর’

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত