
কৃষিজমিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার নিয়ে যখন উদ্বেগ বাড়ছে তখন তা কমানোর বদলে বাড়ানোর পক্ষে প্রচার চালানো হচ্ছে। এমনকি খোদ ফসলের খেতে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে কীটনাশক কোম্পানিগুলোর। ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি এ চিত্র দেখা গেছে।
কীটনাশক কোম্পানিগুলোর এই প্রচারণা কৃষকদের আরও বেশি কীটনাশক ব্যবহারে উৎসাহিত করছে বলে মত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। এতে কীটনাশক ব্যবহার করা ফসলের মাধ্যমে মানবদেহে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
আর কৃষিবিদদের মতে, কীটনাশক কোম্পানির মাঠভিত্তিক প্রচারণা ও অনিয়ন্ত্রিত বিষের ব্যবহার শুধু জনস্বাস্থ্য নয়, মাটির উর্বরতা শক্তি ও পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তারা নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জৈব কৃষি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন।
সম্প্রতি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডঙ্গা, গগান্না, বইডাঙ্গা, পোড়াহাটি, শিকারপুর ও মধুপুর; হরিণাকুন্ডু উপজেলার কালাপাড়ীয়া, দরিবিন্নী ও জোড়াদহ এবং কালীগঞ্জ উপজেলার কাশিপাড়া, ঈশ্বরবা ও বারোবাজার গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, ধান ও সবজির খেতের মাঝখানে বিভিন্ন কীটনাশক কোম্পানির সাইনবোর্ড বসানো। তাতে সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেডের ইনসিপিয়ো এবং ঘাস দমনে হিট ও সিনজেনটার রিফিটের বিজ্ঞাপন রয়েছে।
ঝিনাইদহ কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কীটনাশকের ধরন অনুযায়ী স্প্রের পর নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করে ফসল সংগ্রহের নিয়ম রয়েছে। বোতলের গায়ে হলুদ চিহ্নিত কীটনাশকের ক্ষেত্রে ৭ দিন, সবুজে ১৫ দিন, নীলে ২১ দিন এবং লাল চিহ্নিত কীটনাশকের ক্ষেত্রে ৩১ দিন পর ফসল সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়া থাকে। কিন্তু বাস্তবে অনেক কৃষক স্প্রের কয়েক ঘণ্টা কিংবা এক-দুই দিনের মধ্যেই সবজি ও ফল বাজারজাত করছেন।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কৃষক আব্দুল কুদ্দুস জানান, পোকামাকড়ের আক্রমণ বেড়েছে। ফলন বাঁচাতে দোকানদার ও কোম্পানির লোকজন যে ওষুধ দেয়, সেটাই ব্যবহার করেন।
কিন্তু বাজারের চাপের কারণে অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের আগেই সবজি তুলতে হয়।
কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষক মফিজুর রহমান জানান, বিভিন্ন সময় কীটনাশক কোম্পানির প্রতিনিধিরা তাঁদের কাছে আসেন এবং ফসলের মধ্যে তাঁদের কীটনাশকের বিজ্ঞাপন লাঠিতে পুঁতে দেন। সেই সঙ্গে তাদের বলেন যে এই কীটনাশক ব্যবহার করলে ফসলের কী কী উপকার হবে। এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তারা কখনো বলেন না।
তবে একই এলাকার হেলাল উদ্দীন নামে এক কৃষক কীটনাশক ব্যবহার না করে জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন ২৫ বছর ধরে। তিনি বলেন, বিভিন্ন কোম্পানি কৃষকদের নানা প্রণোদনা দিয়ে কীটনাশক ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। তবে তিনি তাদের পাল্লায় পড়েননি।
পরিবেশকর্মী জুয়েল রানা বলেন, কীটনাশক কোম্পানিগুলো নিজেদের পণ্যের বিজ্ঞাপনের প্রচারে বিলবোর্ড স্থাপনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এর ফলে কৃষকেরা জৈব বালাইনাশক ব্যবহারে উৎসাহিত না হয়ে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন। তিনি আরও বলেন, জমিতে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা হলেও ব্যবহৃত কীটনাশকের বোতল বা প্যাকেট ফেলার জন্য কোনো ডাস্টবিনের ব্যবস্থা রাখা হয় না। ফলে এসব বর্জ্য মাঠেই পড়ে থাকে, যা মাটির উর্বরতা শক্তি নষ্ট করার পাশাপাশি পরিবেশদূষণের ঝুঁকি বাড়ায়।
ফসলের মাঠে কীটনাশক কোম্পানির বিজ্ঞাপন বাড়লেও কৃষি বিভাগের নজরদারিতে ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন জুয়েল রানা।
তবে কীটনাশক কোম্পানির প্রতিনিধিরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিনিধি দাবি করেন, খেতে টাঙানো সাইনবোর্ড বিজ্ঞাপন নয়, বরং প্রদর্শনী কার্যক্রমের অংশ। কৃষকদের নিয়ম মেনে কীটনাশক ব্যবহার ও ফসল সংগ্রহের সময়সীমা সম্পর্কে জানানো হলেও অনেকেই তা অনুসরণ করেন না।
স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত কীটনাশকযুক্ত সবজি ও ফল খেলে লিভার, কিডনি ও ফুসফুসের জটিল রোগ হতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
কীটনাশক কোম্পানির তৎপরতা তদারকির বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘কীটনাশকের একটা ক্ষতিকর দিক আছে; আবার কৃষকের ফসলের জন্যও প্রয়োজন। তবে আপনি কৃষকের মাঠে যে বিজ্ঞাপনের বিষয়টি বলছেন এটা আমরা দেখব।’

পুকুর লিজ ও পুরোনো মালপত্র বিক্রিতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নিয়ম থাকলেও এবার তা মানা হলো না রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ‘কাছের লোকদের’ ডেকে মালপত্র বিক্রি ও পুকুর লিজ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ছাড়াও কোনো কোনো ক্ষেত্রে এলাকায় মাইকিংও করা
১ ঘণ্টা আগে
পুলিশ ও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রোহিঙ্গারা বান্দরবানে অনুপ্রবেশ করে কম মজুরিতে শ্রমিকের কাজ করছে। এর ফলে স্থানীয় বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শ্রমিকেরা বেকার হয়ে পড়ছেন।
২ ঘণ্টা আগে
ক্ষতিগ্রস্ত বেইলি সেতু সরিয়ে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয় চার বছর আগে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণের জটিলতায় দুই বছর ধরে সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু দিয়েই চলাচল করছে যানবাহন।
২ ঘণ্টা আগে
‘আমার শিশুসন্তানেরা অসুস্থ হয়ে গেছে, তাদের চিকিৎসা দরকার। ঠিকমতো খাবারও খাওয়াতে পারছি না। ওদেরকে কীভাবে বাঁচাই! আমরা বাঁচতে চাই।’ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে ৬ মাস আর ৪ বছর বয়সী দুই শিশুসন্তান নিয়ে এভাবেই আকুতি জানান সুমি আক্তার। চোখে অসহায়ত্ব, মুখে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ছাপ।
২ ঘণ্টা আগে