
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে বিশ্ব এক নতুন ধরনের যুদ্ধের সাক্ষী হয়েছে। এই যুদ্ধের রণকৌশল শুধু সেনা বা কামানের গোলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি এখন একটি শক্তিশালী কম্পিউটার প্রযুক্তি ও একজন সেনার মধ্যকার ‘বোঝাপড়ায়’ রূপান্তরিত হয়েছে।
ইরান যুদ্ধে মানুষের চিন্তার চেয়ে দ্রুতগতিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। এই অভিযানের নেপথ্যে থাকা মূল কারিগর হলো পালানটিরের তৈরি ‘মেভেন স্মার্ট সিস্টেম’; যা যুদ্ধক্ষেত্রের চিত্র একনিমেষে বদলে দিয়েছে।

পালানটিরের তৈরি এই ‘মেভেন’ মূলত একটি মেশিন লার্নিং এবং এআই-চালিত যুদ্ধক্ষেত্র বিশ্লেষণব্যবস্থা। এটি স্যাটেলাইট ইমেজ, ড্রোনের ফুটেজ, শত্রুপক্ষের আড়ি পাতাসহ আরও অন্তত ১৫০টি উৎস থেকে আসা তথ্য বিশ্লেষণ করে। অভিযানের প্রথম দিনেই এটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য এক হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুর তালিকা তৈরি করে দিয়েছিল। এরপর শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে মাত্র ১২ ঘণ্টায় প্রায় ৯০০ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এ যেন ১২ ঘণ্টায় ৯০০ আজরাইলের থাবা।
যেখানে আগে একটি লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করতে প্রায় ৭২ ঘণ্টা সময় লাগত, সেখানে এই প্রযুক্তির কল্যাণে এখন মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে শত্রুকে শনাক্ত করে ধ্বংস করা সম্ভব হচ্ছে। মার্কিন সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমোথি হকিন্সের মতে, এই প্রযুক্তি সেনাদের আরও স্মার্ট ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করছে।
ইরানে গত ছয় দিনের অভিযানে ২ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে এবং এতে অন্তত এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের বিখ্যাত ‘শক-অ্যান্ড-অউ’ কৌশলের চেয়ে এবারের হামলার মাত্রা ছিল দ্বিগুণ শক্তিশালী। মেভেনের কল্যাণে আগেকার ‘কিল চেইন’ (টার্গেট শনাক্ত থেকে ফায়ার করা পর্যন্ত প্রক্রিয়া) এখন একটি ‘কিল ওয়েব’-এ পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ জল, স্থল, আকাশ, এমনকি মহাকাশ থেকেও সেন্সরগুলো একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিখুঁতভাবে হামলা নিশ্চিত করছে।

মেভেন সিস্টেমের ‘মস্তিষ্ক’ হিসেবে কাজ করছে অ্যানথ্রপিকের তৈরি এলএলএম ‘ক্লদ এআই’। পালানতির ও অ্যানথ্রপিক মিলে ক্লদকে একটি সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ইঞ্জিনে রূপান্তর করেছে। তবে এই প্রযুক্তি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অ্যানথ্রপিকের বড় ধরনের সংঘাত শুরু হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ট্রাম্প প্রশাসন অ্যানথ্রপিকের ওপর থেকে সব ধরনের ব্যবহার-নিষেধাজ্ঞা বা ‘গার্ডরেল’ সরিয়ে নিতে বলেছিল, যাতে এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মারণাস্ত্র পরিচালনা করতে পারে। কিন্তু অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিও আমোদেই এতে সরাসরি ‘না’ বলে দেন। তাঁর মতে, বর্তমান এআই-ব্যবস্থা এখনো এতটা নির্ভরযোগ্য নয় যে মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অস্ত্র চালাতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি চরমভাবে বেড়ে যাবে। এই অবাধ্যতায় ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প সরকারি কর্মকর্তাদের ক্লদ ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন এবং ছয় মাসের মধ্যে একে সামরিক প্রযুক্তি থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে, গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ‘ল্যাভেন্ডার’ নামের এআই প্রোগ্রাম ব্যবহার করেছিল। তবে প্রোগ্রামটির ভুল টার্গেট শনাক্ত করার কারণে সমালোচিত হয়েছিল। মেভেন সিস্টেমের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নৈতিক প্রশ্ন উঠছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই প্রযুক্তিতে এতটাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে যে একে পুরোপুরি বাদ দেওয়া অসম্ভব। ৯ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র সোমালিয়া, ইরাক ও সিরিয়ায় এই প্রযুক্তির প্রাথমিক সংস্করণ ব্যবহার করে আসছে। এমনকি ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধেও এর প্রয়োগ দেখা গেছে। ন্যাটোও ইতিমধ্যে পালানতিরের সঙ্গে এই প্রযুক্তি কেনার চুক্তি করেছে। সুতরাং, যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এখন অমোঘভাবেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হাতে বন্দী।
পালানতিরের কর্মকর্তাদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে এই সফটওয়্যার তার সক্ষমতার চরম সীমানায় পৌঁছে যাচ্ছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের ভুলের কারণ হতে পারে।
এনডিটিভি থেকে অনুবাদ করেছেন আবদুল বাছেদ

ইরানে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা এবং যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর দেশটির কুর্দি জনগোষ্ঠীকে ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বসবাসকারী কুর্দিরা হয়তো শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সম্ভাব্য শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
৭ ঘণ্টা আগে
ভারত কি আগে থেকে জানত যে তাদের বাড়ির আঙিনায় একটি ইরানি জাহাজে মার্কিন হামলা হতে যাচ্ছে? নাকি ভারতের নজর এড়িয়েই একটি সাবমেরিন এই কাণ্ড ঘটিয়ে দিল?
১০ ঘণ্টা আগে
ইরান যুদ্ধের প্রভাব শুধু পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল নয়, ভারতের জনজীবনেও পড়তে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ওপর ভারতের নির্ভরশীলতা দেশটিকে এক অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। পারস্য উপসাগরের সংকীর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রবাসীদের কর্মসংস
১২ ঘণ্টা আগে
ওয়াশিংটন থেকে কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ, এই আক্রমণের প্রকৃত নকশাকার আসলে হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগনে বসে নেই। এই পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে বহু দশক আগে তেল আবিবে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামলার পরদিন রোববার কার্যত সেটিই স্বীকার করেছেন। তিনি গর্বের সঙ্গে বলেন, ‘এই যৌথ
১৩ ঘণ্টা আগে