Ajker Patrika

ভারতকে চীনের মতো শক্তিশালী শত্রু হতে দেবে না যুক্তরাষ্ট্র

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ভারতকে চীনের মতো শক্তিশালী শত্রু হতে দেবে না যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাইলেও বেইজিংকে অতীতে দেওয়া অর্থনৈতিক সুবিধাগুলো নয়াদিল্লিকে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাইসিনা ডায়ালগে বক্তব্য দিতে গিয়ে মার্কিন ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ বলেন, ২০ বছর আগে চীনের ক্ষেত্রে আমেরিকা যে ভুল করেছিল, ভারতের ক্ষেত্রে তার পুনরাবৃত্তি হবে না।

রাইসিনা ডায়ালগে ভূ-রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ক এক অধিবেশনে ল্যান্ডাউ জানান, আমেরিকা চায় ভারতের ‘অসীম সম্ভাবনা’কে কাজে লাগিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘ভারতকে এটা বুঝতে হবে যে আমরা ২০ বছর আগে চীনের সঙ্গে যে ভুলগুলো করেছিলাম, ভারতের সঙ্গে তা করব না।’ মূলত চীনের দ্রুত অর্থনৈতিক উত্থান এবং পরবর্তীতে আমেরিকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটেই এই মন্তব্য করলেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় ভারতকে দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্পমেয়াদী সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন ল্যান্ডাউ। তিনি জানান, ভারতের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ওয়াশিংটন নয়াদিল্লির সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

এরই মধ্যে রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি তেল কেনার ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৩০ দিন এই সুবিধা পাবে নয়াদিল্লি।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে একটি বড় ধরনের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। গত মাসে কয়েক দফা আলোচনার পর ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করেছে ওয়াশিংটন। তবে পূর্ণাঙ্গ চুক্তির ক্ষেত্রে এখনো বেশ কিছু অমীমাংসিত ইস্যু রয়ে গেছে।

ল্যান্ডাউ স্পষ্ট করেছেন, আমেরিকা ভারতের সঙ্গে অংশীদারত্বে আগ্রহী এবং এটি উভয় দেশের জন্যই ‘উইন-উইন’ বা লাভজনক পরিস্থিতি তৈরি করবে।

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র যখন শুল্ককে সমঝোতা ও চুক্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, তখন ভারতও কৌশলী অবস্থান বজায় রাখছে। কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের দিকে না ঝুঁকে ভারত নিজের প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে চাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে আমেরিকার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের সঙ্গেও বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে নয়াদিল্লি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ল্যান্ডাউ-এর এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয়, ভারত আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হলেও, বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন অত্যন্ত সতর্ক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত