জোনাথন কুকের নিবন্ধ

মানবসভ্যতার ইতিহাসে যুদ্ধের পক্ষে যুক্তি প্রায়ই কুয়াশার মতো অস্পষ্ট। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েল মিলে ইরানের বিরুদ্ধে যে প্রকাশ্য অবৈধ আগ্রাসী যুদ্ধ শুরু করেছে, তার লক্ষ্য আসলে কী—এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। অন্তত যেসব যুক্তি সামনে আনা হচ্ছে, সেগুলো দিয়ে তা বোঝা যায় না।
এটি কি ইরানের কথিত পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করার জন্য? এমন একটি কর্মসূচি, যার অস্তিত্বের কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ কখনো পাওয়া যায়নি। অথচ কয়েক মাস আগেই ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আগের এক বেআইনি হামলায় তিনি সেটিকে ‘সম্পূর্ণ ও পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছেন।’
নাকি লক্ষ্য ছিল তেহরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা—তাদের পারমাণবিক জ্বালানি সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে? যে আলোচনা যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক ও উসকানিহীন হামলার কারণে মাঝপথেই বন্ধ হয়ে যায়। মনে রাখা দরকার, ২০১৮ সালে নিজের প্রথম মেয়াদে ট্রাম্পই ইরানের সঙ্গে করা মূল পারমাণবিক চুক্তি ছুড়ে ফেলেছিলেন। সে কারণেই নতুন করে আলোচনা শুরু করার প্রয়োজন হয়েছিল।
নাকি এই যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে আরও নমনীয় হতে বাধ্য করা? অথচ আলোচনার ঠিক সেই মুহূর্তেই ট্রাম্প আলোচনা ভেঙে দেন, যখন প্রধান মধ্যস্থতাকারী ওমান জানিয়েছিল—তেহরান ওয়াশিংটনের প্রায় সব কঠোর দাবিই মেনে নিয়েছে এবং একটি চুক্তি ‘আমাদের নাগালের মধ্যেই’ রয়েছে।
নাকি এই বিমান হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের মানুষকে ‘মুক্ত’ করা? অথচ প্রথম দিকের হামলাতেই নিহতদের মধ্যে ছিল একটি বালিকা স্কুলের অন্তত ১৬৫ জন বেসামরিক মানুষ। তাদের বেশির ভাগই ছিল ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু। নাকি উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগ করতে বাধ্য করা? এগুলোই ইরানের একমাত্র প্রতিরোধক্ষমতা, যা দেশটিকে আক্রমণের বিরুদ্ধে কিছুটা নিরাপত্তা দেয়। সেগুলো না থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য আক্রমণের সামনে দেশটি একেবারেই অসহায় হয়ে পড়বে।
নাকি ওয়াশিংটন মনে করেছিল, তেহরানই আগে হামলা করতে যাচ্ছে? যদিও মার্কিন প্রতি রক্ষ দপ্তর পেন্টাগনের কর্মকর্তারা কংগ্রেসে জানিয়েছেন, এমন কোনো হামলার প্রস্তুতি সম্পর্কে তাদের কাছে একেবারেই কোনো গোয়েন্দা তথ্য ছিল না। নাকি লক্ষ্য ছিল ইরানের শাসনব্যবস্থার মাথা কেটে ফেলা? ইতিমধ্যে হামলার মাধ্যমে যা অর্জিত হয়েছে—ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিকে হত্যা করে। কিন্তু সেটির উদ্দেশ্যই বা কী? কারণ, খামেনি নিজেই ইরানের পারমাণবিক বোমার বিরোধী ছিলেন এবং এর উন্নয়নের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ফতোয়া জারি করেছিলেন।
এখন প্রশ্ন হলো, খামেনির উত্তরসূরি—যিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্য আচরণ এবং আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে চলার প্রবণতা কাছ থেকে দেখলেন—তিনি কি এবার সিদ্ধান্ত নেবেন যে, ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য পারমাণবিক বোমা তৈরি করা একেবারে জরুরি?
অস্পষ্ট লক্ষ্য
ওয়াশিংটন থেকে কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ, এই আক্রমণের প্রকৃত নকশাকার আসলে হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগনে বসে নেই। এই পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে বহু দশক আগে তেল আবিবে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামলার পরদিন রোববার কার্যত সেটিই স্বীকার করেছেন। তিনি গর্বের সঙ্গে বলেন, ‘এই যৌথ প্রচেষ্টা আমাদের সেই লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করছে, যা আমি ৪০ বছর ধরে অর্জন করতে চেয়েছি—সন্ত্রাসের এই শাসনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা। এটিই আমার প্রতিশ্রুতি, এবং সেটিই ঘটতে যাচ্ছে।’
উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো, এই চার দশক জুড়েই নেতানিয়াহু এবং অন্য ইসরায়েলি নেতারা বারবার সতর্ক করে এসেছেন যে, তেহরান মাত্র কয়েক সপ্তাহ দূরে রয়েছে পারমাণবিক বোমা তৈরি থেকে। নেতানিয়াহু এই একই জরুরি এবং অর্থহীন অজুহাত চার দশক ধরে প্রচার করে আসছেন। ৪০ বছর ধরে প্রতিটি বছরকেই ঘোষণা করা হয়েছে—‘পাগল মোল্লারা’ বোমা তৈরি করার আগেই তাদের থামানোর শেষ সুযোগ। অথচ সেই বোমা কখনো বাস্তবে দেখা যায়নি।
আর এই সময়ে ইসরায়েলের নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার—যা কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি এবং তাই আন্তর্জাতিকভাবে পর্যবেক্ষণের আওতার বাইরে—একটি প্রকাশ্য গোপনীয়তায় পরিণত হয়েছে। ইউরোপ ইসরায়েলকে পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে সহায়তা করেছিল। আর যুক্তরাষ্ট্র তা দেখেও না দেখার ভান করেছে। এমনকি তখনো, যখন ইসরায়েলি নেতারা ‘স্যামসন অপশন’ নামে পরিচিত এক আত্মঘাতী নীতির কথা বলছিলেন। যেখানে বলা হয়েছিল, প্রচলিত যুদ্ধে পরাজয়ের মুখে পড়ার চেয়ে ইসরায়েল তার পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার বিস্ফোরিত করতে প্রস্তুত।
এই ‘স্যামসন অপশন’ মূলত এই ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে যে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো রাষ্ট্রকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। কারণ, তাতে ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে ডিটারেন্ট বা ভারসাম্য তৈরি হয়ে যাবে।
এই ধারণাই বহু দশক ধরে তেহরানের প্রতি ইসরায়েলের নীতিকে পরিচালিত করেছে। কারণ, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে ঝুঁকছে—এমন কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নেই। এমনকি তাদের কথিত ‘পাগল মোল্লারা’ বোমা পেলেও সেটি ইসরায়েলের দিকে ছুড়ে দেবে—এমন বোকামিও করার সম্ভাবনা খুব কম। বরং অন্য কারণ ছিল। ইরান এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র। এর রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস, শক্তিশালী সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং গভীর বৌদ্ধিক ঐতিহ্য।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ধর্মনিরপেক্ষ হোক বা ধর্মীয়—ইরানের নেতৃত্ব বারবার দেখিয়েছে যে তারা পশ্চিমা এবং ইসরায়েলি উপনিবেশবাদী আধিপত্যের কাছে মাথা নত করতে রাজি নয়। তা ছাড়া ইরানকে আশপাশের দেশগুলোর শিয়া ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর কাছে নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের একটি উৎস হিসেবে দেখা হয়—যেমন ইরাক, লেবানন, সিরিয়া এবং ইয়েমেন। এসব সম্প্রদায়েরও দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ইসরায়েলি আধিপত্যের কাছে নতিস্বীকার না করার।
ইসরায়েলের আশঙ্কা ছিল, যদি ইরান উত্তর কোরিয়ার পথ অনুসরণ করে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে, তাহলে তেলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমাদের সবচেয়ে কার্যকর সামরিক সহযোগী রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের ভূমিকা শেষ হয়ে যাবে। পড়শিদের ভয় দেখানোর ক্ষমতা হারালে, সাম্প্রদায়িক বিভাজন উসকে দেওয়ার ক্ষমতা কমে গেলে এবং অঞ্চলে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রভাব বিস্তারে সহায়তা করতে না পারলে—ইসরায়েলের অস্তিত্বের যৌক্তিকতাই প্রশ্নের মুখে পড়বে। তখন তা একেবারে অপ্রয়োজনীয় এক বোঝায় পরিণত হবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থে দেওয়া অসীম সামরিক সহায়তা এবং ফিলিস্তিনিদের সম্পদ লুট করার অবাধ অনুমতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়া ইসরায়েলি নেতারা স্বেচ্ছায় কখনো সেই সুবিধার ট্রেন থেকে নামতে প্রস্তুত ছিলেন না। এই কারণেই ইরান প্রায় কখনোই ইসরায়েলের নজরের বাইরে যায়নি।
‘জন্মযন্ত্রণা’
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পক্ষে যে যুক্তি দাঁড় করাতে ইসরায়েল অসাধারণ মাত্রার প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে, তার পরিমাণ বোঝা যায় যদি সেটিকে ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের সাজানো প্রতারণার সঙ্গে তুলনা করা হয়। ইরাক ছিল মধ্যপ্রাচ্যের আরেক শক্তিশালী সামরিক রাষ্ট্র। যদিও গভীর সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত বিভাজনের কারণে সেটি তুলনামূলকভাবে ভঙ্গুর ছিল। তবু ইসরায়েলের আশঙ্কা ছিল, দেশটি যদি পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের আধিপত্য ভেঙে পড়বে।
এই অবৈধ যুদ্ধের প্রস্তুতিকালে—যে যুদ্ধকে ইসরায়েলও উৎসাহ দিয়েছিল—বুশ দাবি করেছিলেন, ইরাকের নেতা সাদ্দাম হোসেনের কাছে বিপুল পরিমাণ গোপন গণবিধ্বংসী অস্ত্র মজুত রয়েছে। তাঁর দাবি ছিল, এই অস্ত্রগুলো ১৯৯১ সালে জাতিসংঘের অস্ত্র পরিদর্শন ব্যবস্থা চালুর আগের সময় থেকেই সেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছে।
ইরাকে ব্যাপক ক্ষমতা নিয়ে কাজ করা অস্ত্র পরিদর্শকেরা এই দাবিকে অসম্ভব বলে মনে করেছিলেন। তাঁদের মতে, যদি ইরাকের পরিচিত কোনো রাসায়নিক অস্ত্র তাঁদের নজর এড়িয়ে থেকেও থাকে, তবু এত দিনে সেগুলো এত পুরোনো হয়ে যাওয়ার কথা যে তা কার্যত ‘নিরীহ কাদায়’ পরিণত হয়ে যেত। ইরাক আক্রমণের পরও কোনো গণবিধ্বংসী অস্ত্র কখনো পাওয়া যায়নি। তবু পশ্চিমা রাজনীতিক ও গণমাধ্যম অনায়াসে এই বড় মিথ্যাকে বিশ্বাস করে বসেছিল। অন্তত তখন তারা বলতে পারত, অভিযোগগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করার জন্য তাদের হাতে মাত্র কয়েক মাস সময় ছিল।
কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে ইসরায়েলের অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করার জন্য রাজনীতিক ও গণমাধ্যমের হাতে ছিল পুরো ৪০ বছর সময়। এত দিনে তাদের বোঝা উচিত ছিল যে, ইরানের তথাকথিত ‘হুমকি’ নিয়ে নেতানিয়াহু একেবারেই অবিশ্বাসযোগ্য একজন কথক। এতে আবার এটাও ধরা হয়নি যে—তিনি একই সঙ্গে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে পলাতক একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি, যিনি গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে মিথ্যা বলে আসছেন। তাঁর মুখ থেকে বের হওয়া কোনো কথাই বিশ্বাস করার মতো নয়।
গাজায় চলমান ধ্বংসযজ্ঞ কিংবা আগে ইরাক দখলের মতোই, ইরানের ওপর বর্তমান আক্রমণও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আরেকটি অপরাধমূলক যৌথ প্রযোজনা—আসলে একই প্রকল্পেরই ধারাবাহিকতা।
এই প্রচারণার ভাষ্যও স্পষ্ট। নেতানিয়াহু বলছেন, তিনি ‘সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থাকে চূর্ণ করতে’ চান। যেমনটা তিনি আগে গাজায় হামাসকে ‘নির্মূল’ করার কথা বলেছিলেন। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন, পরাজিত ইরানই ‘সম্পূর্ণ ভিন্ন এক মধ্যপ্রাচ্যের’ চাবিকাঠি। সপ্তাহান্তে বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর তিনি ইরানিদের তাদের ‘দমনমূলক ধর্মতন্ত্র’ উৎখাত করে ‘মুক্ত ও শান্তিপ্রিয় ইরান’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সবকিছুই আসলে সেই পুরোনো কল্পনাকে প্রতিধ্বনিত করার জন্য সাজানো—একটি নতুন মধ্যপ্রাচ্য গড়ে তোলার স্বপ্ন। ইসরায়েল এবং ওয়াশিংটনে তাদের মতাদর্শিক সহযোগীরা, যাদের নব্যরক্ষণশীল বা ‘নিওকন’ বলা হয়, এক চতুর্থাংশ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই ধারণা প্রচার করে আসছে। আফগানিস্তান ও ইরাকের ব্যর্থ আগ্রাসনের আগেও তারা একই স্বপ্ন দেখাত। ২০০৬ সালে বুশ প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিৎসা রাইস বলেছিলেন, নতুন এই যুগের জন্ম দিতে গিয়ে অঞ্চলটিকে ‘বেদনাদায়ক জন্মযন্ত্রণা’ সহ্য করতে হবে। আর এই নতুন যুগের ধাত্রী হিসেবে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী।
প্রথমবার এই পরিকল্পনা খুব দ্রুতই ব্যর্থ হয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা ইরাকিদের প্রবল প্রতিরোধ ভাঙতে পারেনি। আফগানিস্তান ধীরে ধীরে মার্কিন ও ব্রিটিশ দখলদারদের হাত থেকে তালেবানের কাছে ফিরে যায়। আর ২০০৬ সালে দক্ষিণ লেবানন পুনর্দখলের চেষ্টা করলে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলকে মারাত্মক ধাক্কা দেয়।
তবুও প্রথম পর্ব ছিল এক ভয়াবহ অধ্যায়। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতে গোটা অঞ্চলের জনসংখ্যার ওপর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্র গোপন সামরিক আটককেন্দ্র বা ‘ব্ল্যাক সাইট’ স্থাপন করে, যেখানে নির্যাতন ছিল নিত্যদিনের বিষয়। আন্তর্জাতিক আইন ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। যুদ্ধের কারণে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে ইউরোপের দিকে ছুটে যায়, যা পরে অভিবাসীবিরোধী উগ্র ডানপন্থার উত্থানকে উসকে দেয়।
‘রেজিম চেঞ্জ’ মিথ
দ্বিতীয় পর্ব—যা শুরু করার জন্য ইসরায়েল ও নব্য রক্ষণশীলরা বহুদিন ধরে অধীর অপেক্ষায় ছিল এবং এটি শুরু থেকেই আরও ভয়াবহ হওয়ার কথা ছিল। এর সূচনা ঘটে ২০২৩ সালের শেষদিকে, যখন হামাস একদিনের জন্য গাজার ‘কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প’ ভেঙে বেরিয়ে আসে। তত দিনে প্রায় ২৩ লাখ ফিলিস্তিনি সেখানে ইসরায়েলের হাতে কয়েক দশক ধরে কার্যত বন্দী জীবন কাটাচ্ছিল। ‘প্রতিশোধের অধিকার’ দাবি করে ইসরায়েল নির্বিচারে বিমান হামলা চালিয়ে এক গণহত্যামূলক অভিযান শুরু করে। ক্ষুদ্র উপকূলীয় এই অঞ্চল প্রায় মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়। হাজারো মানুষ—সম্ভবত কয়েক লাখ—ফিলিস্তিনি নিহত হয়। পুরো জনগোষ্ঠীই গৃহহীন ও নিঃস্ব হয়ে পড়ে।
কিন্তু এই ধ্বংসযজ্ঞ—যেমন গাজার মানুষকে অনাহারে রাখার সমান্তরাল অভিযানের ক্ষেত্রেও সত্য—শুধু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার প্রতিক্রিয়া ছিল না। যদিও এই বিষয়টিতে অন্যভাবে বলা যেন নিষিদ্ধ বিষয় হয়ে আছে।
মধ্যপ্রাচ্যকে ‘পুনর্গঠন’ করার পরিকল্পনা ইসরায়েলের অনেক আগের। এমনকি নেতানিয়াহু ক্ষমতায় ওঠারও আগে থেকেই। ওয়াশিংটনের পরিকল্পনার সঙ্গে ইসরায়েলের পরিকল্পনার কতটা মিল আছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকেরা সাধারণত এটিকে ঢিলেঢালাভাবে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থা বদলের পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করেন। কিন্তু এই শব্দটি বিভ্রান্তিকর। কারণ ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতেও রেজিম চেঞ্জ মানে ইরানি জনগণের ইচ্ছার প্রতিনিধিত্বকারী কোনো গণতান্ত্রিক নেতাকে ক্ষমতায় বসানো নয়।
মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ—যিনি নিজে ইরাকে সেনার দায়িত্ব পালন করেছিলেন—সম্প্রতি সৎভাবেই স্বীকার করেছেন, এই অবৈধ হামলা থেকে কোনো কল্যাণকর ফল বের হওয়ার ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো বোকা ধরনের যুদ্ধনীতির নিয়ম থাকবে না, কোনো রাষ্ট্রগঠন প্রকল্পের জটিলতা থাকবে না, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কোনো চেষ্টা থাকবে না, রাজনৈতিকভাবে শুদ্ধ যুদ্ধও হবে না।’
এই অনীহার পেছনে যথেষ্ট কারণ আছে। কারণ, ইরানে শেষবার যখন তথাকথিত ‘গণতান্ত্রিক’ সরকার ছিল, তখন সময়টা ছিল ১৯৫০-এর দশকের শুরু। দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ ও সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক ইরানের তেল শিল্পকে জাতীয়করণ করেছিলেন—যাতে এর সুফল ইরানিদের কাছেই যায়। এতে পশ্চিমা বিশ্ব ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ১৯৫৩ সালে সিআইএ পরিচালিত ‘অপারেশন অ্যাজাক্সের’ মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। পরে নির্মম শাসক মোহাম্মদ রেজা পাহলভিকে আবার সিংহাসনে বসানো হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন আবার ইরানের তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া আসতে সময় লেগেছিল ২৬ বছর। অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত শাহের বিরুদ্ধে জনরোষ বিস্ফোরিত হলে ইসলামপন্থী ধর্মগুরুরা সেই ক্ষোভের ঢেউকে কাজে লাগিয়ে তাদের বিপ্লব শুরু করেন।
নিয়ন্ত্রণহীন সংখ্যালঘু
ওয়াশিংটন ইরানে নিঃসন্দেহে এমন এক ধরনের ‘রেজিম পরিবর্তন’ চাইবে, যার মাধ্যমে শাহের জ্যেষ্ঠ পুত্র রেজা পাহলভিকে বা তাঁর মতো কাউকে নতুন স্বৈরাচারী, পশ্চিমাপন্থী পুতুল শাসক হিসেবে ক্ষমতায় বসানো যায়। ইসরায়েলও সম্ভবত এমন পরিণতিতে সন্তুষ্ট হবে। কিন্তু ওয়াশিংটন কিংবা তেল আবিবের কেউই আসলে কল্পনা করে না যে, ইরানকে বোমা মেরে বাধ্য করা যাবে না শাহের মতো নির্মম এক ক্লায়েন্ট শাসকের মতো কারও প্রত্যাবর্তন মেনে নিতে।
এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র আসলে শুধু একটি স্পষ্ট সত্যই প্রমাণ করতে পেরেছে। তা হলো, দীর্ঘমেয়াদি ও নির্মম মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ফলে যদি কোনো দেশ ও তার জনগণ অসহনীয় দারিদ্র্যের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়, তবে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে পারে—যেমনটি দেখা গিয়েছিল ডিসেম্বরের শেষদিকে ইরানে।
কিন্তু পশ্চিমা রাজনীতিক ও গণমাধ্যম যেভাবে ইঙ্গিত দেয়, বাস্তবে বিষয়টি তেমন নয়। দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ইরানিরা কোনো সুসংগঠিত রাজনৈতিক আন্দোলন নয়। আবার যারা বছরের পর বছর ধরে তাদের দেশকে দেউলিয়া করে দেওয়ার মতো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, সেই মার্কিন অভিজাতদের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার মতো মনোভাবও তাদের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা কম।
ইরানে বিরোধী শক্তি ক্ষমতা দখলের জন্য প্রস্তুত—এই ধারণাটি যদি কারও কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়, তার কারণ পশ্চিমা গণমাধ্যম তাদের দর্শকদের দীর্ঘদিন ধরে দুটি সম্ভাব্য মিথ্যা দিয়ে প্রস্তুত করে এসেছে।
প্রথমটি হলো, ইরানের সরকার জনগণের কোনো সমর্থনই পায় না। দ্বিতীয়টি হলো, যারা রাস্তায় প্রতিবাদ করছে তারা তাদের দুর্দশার জন্য কেবল নিজেদের সরকারকেই দায়ী করছে; বাইরের শক্তিগুলো যে তাদের জীবনে বিদ্বেষপূর্ণভাবে হস্তক্ষেপ করছে, সেই ক্ষোভ তাদের মধ্যে নেই। কিছু ধনী ইরানি নির্বাসিত ব্যক্তি—যারা আবারও উপনিবেশবাদী পশ্চিমা প্রভুদের কাছে ইরানের সম্পদ বিক্রি করে লাভবান হতে আগ্রহী—পশ্চিমা টিভি স্টুডিওর নিরাপদ পরিবেশে বসে ইরানি স্কুলশিশুদের ওপর বোমা হামলার প্রশংসা করতে পারে।
কিন্তু তাদের ইরানি জনগণের প্রতিনিধি মনে করা গুরুতর ভুল হবে। বাস্তবে তারা একটি ক্ষুদ্র, নিয়ন্ত্রণহীন সংখ্যালঘু ছাড়া আর কিছুই নয়।
ট্রাম্পের মাগা শিবিরে অস্থিরতা
যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে শান্ত রাখার প্রয়োজন থেকে ওয়াশিংটনে যে নীতিগত জটিলতা তৈরি হয়, তার বিপরীতে মধ্যপ্রাচ্যকে ‘পুনর্গঠন’ করার ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনেক বেশি স্পষ্ট। তেল আবিবে ‘রেজিম পরিবর্তন’ নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই—যদি না নতুন সরকার ইসরায়েলের আঞ্চলিক আধিপত্য মেনে নিতে রাজি হয়, যেমনটি উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো করেছে।
এমন সম্ভাবনা না থাকায় ইসরায়েল আসলে যা চায়, সেটিকে ‘রেজিম পরিবর্তন’ বলা ঠিক হবে না। বরং বলা ভালো ‘রেজিম উৎখাত’ বা ‘ভেঙে পড়া এক রাষ্ট্র।’ অর্থাৎ, ইরানের অবকাঠামোর ব্যাপক ধ্বংস, সরকারি ও সামরিক কর্তৃত্বের সম্পূর্ণ বিলুপ্তি এবং এমন এক ক্ষমতার শূন্যতা সৃষ্টি করা—যেখানে ইসরায়েল প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোকে ব্যবহার করে দীর্ঘস্থায়ী ও ক্লান্তিকর গৃহযুদ্ধ উসকে দিতে পারে।
পুরো চিত্রটি পরিচিত লাগছে? লাগারই কথা। কারণ, ইরানের ওপর এই আক্রমণ একই ধরনের বিপর্যয়কর মার্কিন সামরিক কৌশলের সঙ্গে মিলে যায়, যা ওয়াশিংটনে ইসরায়েলপন্থী নিওকন মিত্ররা আগে আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া ও ইয়েমেনে প্রয়োগ করেছিল—২০২৩ সালের অক্টোবরের আগেই।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেছিলেন মূলত এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে যে তিনি ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ বন্ধ করবেন। বিশেষ করে, যেসব যুদ্ধ ইসরায়েলের স্বার্থে লড়া হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। এই যুদ্ধগুলোই সরাসরি নতুন ধরনের উগ্র ইসলামি সন্ত্রাসবাদের জন্ম দিয়েছে—আল-কায়েদা থেকে শুরু করে ইসলামিক স্টেট পর্যন্ত। স্বাভাবিকভাবেই, ইরানে হামলার ঘটনায় এখন ট্রাম্পের মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন–মাগা আন্দোলনের ভেতরে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
কিন্তু ট্রাম্পের মতো নেতা, যিনি প্রবল ইসরায়েলপন্থী খ্রিষ্টান ইভানজেলিক ভোটারদের ওপর নির্ভরশীল এবং আর্থিকভাবে মিরিয়াম অ্যাডেলসনের মতো বড় ইসরায়েলপন্থী দাতাদের ওপর নির্ভর করেন, তিনি কখনোই বিদ্যমান নীতির পথ থেকে খুব দূরে সরে যাওয়ার মানুষ ছিলেন না। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে, বাইডেন প্রশাসনের সমর্থনে, ইসরায়েল তাদের রেজিম উৎখাত যুদ্ধ শুরু করেছে গাজায়, লেবাননে এবং আবারও সিরিয়ায়। এই অঞ্চলগুলো এখন সামরিকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং কার্যত শাসন করা কঠিন অবস্থায় রয়েছে।
ট্রাম্প এসব যুদ্ধে কোনো আপত্তি জানাননি। আর এসব যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে তার আঞ্চলিক মিত্রদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা, যাতে বর্তমান হামলার জন্য তাকে যথেষ্ট দুর্বল ও একা করে রাখা যায়। এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ একটি পূর্বনির্ধারিত চিত্রনাট্যের মতোই এগিয়েছে। যেমনটি ২০০৭ সালে চার তারকা জেনারেল ওয়েসলি ক্লার্ক স্বীকার করেছিলেন।
২০০১ সালের টুইন টাওয়ার হামলার কিছুদিন পর তাঁকে পেন্টাগনের একটি গোপন ব্রিফিং পেপার দেখানো হয়েছিল। সেখানে সাতটি দেশকে ‘ধ্বংস’ করার পরিকল্পনার কথা বলা ছিল—ইরাক দিয়ে শুরু করে শেষ লক্ষ্য ছিল ইরান।
শয়তানের সঙ্গে চুক্তি
ওয়াশিংটনের পশ্চিমা মিত্ররা হয়তো ব্যক্তিগতভাবে আরেকটি অবৈধ মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধে নিজেদের জড়িত দেখা নিয়ে অস্বস্তি বোধ করছে। কিন্তু গাজায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা গণহত্যাকে সমর্থন করার মাধ্যমে তারা ইতিমধ্যেই শয়তানের সঙ্গে চুক্তি করে ফেলেছে। এখন আর ফিরে যাওয়ার পথ নেই।
এই কারণেই ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়া সবাই এই সপ্তাহে দায়িত্বশীল অনুগতদের মতো ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ইতিমধ্যেই নিজের কথাই গিলে খাচ্ছেন। জানুয়ারিতে দাভোসে তিনি বলেছিলেন, তাঁর মতো ‘মধ্যম শক্তির’ দেশগুলোর উচিত যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর ‘কল্যাণকর নেতৃত্বের মিথ্যার’ ভেতর বাস করা বন্ধ করা এবং আরও সৎ পররাষ্ট্রনীতি গড়তে কৌশলগত স্বাধীনতা অর্জন করা।
কিন্তু সপ্তাহান্তে তিনি একটি বিবৃতি দিয়েছেন, যেখানে কানাডার পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে এই স্পষ্টত অবৈধ আগ্রাসী যুদ্ধের প্রতি—যাকে আন্তর্জাতিক আইন ‘সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ’ বলে সংজ্ঞায়িত করে। অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ট্রাম্পকে যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটিগুলো ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছেন। তিনি এটিকে ধূর্ততার সঙ্গে ‘প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্য’ বলে বর্ণনা করছেন।
স্টারমারকে বোঝানো দরকার—যিনি একসময় বিখ্যাত মানবাধিকার আইনজীবী ছিলেন—যে আগ্রাসী যুদ্ধে ‘প্রতিরক্ষামূলকভাবে’ সহায়তা করা সম্ভব নয়। আপনি যদি তা করেন, তবে আপনিও আগ্রাসী হয়ে যান।
২০০১ সালে পেন্টাগনের যে শাসন উৎখাত পরিকল্পনা জেনারেল ক্লার্ক দেখেছিলেন, তার সময়সীমা ছিল ‘পাঁচ বছরে সাত দেশ।’ বাস্তবে এক চতুর্থাংশ শতাব্দী পরে দেখা গেছে, সেই পরিকল্পনা ছিল ভয়াবহভাবে অবাস্তব। এখনো এমন কোনো কারণ নেই ধরে নেওয়ার, যে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল ২০০১ সালের তুলনায় আজ পরিস্থিতি সম্পর্কে বেশি পরিষ্কার ধারণা রাখে।
একমাত্র নিশ্চিত বিষয় হলো, ঘটনাপ্রবাহ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোবে না। ইসরায়েল ক্ষুদ্র গাজাকে কার্যত মানচিত্র থেকে মুছে ফেলেছে। কিন্তু হামাস এখনো টিকে আছে এবং ধ্বংসস্তূপের মাঝেই শাসন করছে—সম্ভবত আরও গভীর ক্ষোভ ও প্রতিশোধস্পৃহা নিয়ে। আর ইরান গাজার তুলনায়, কিংবা আগের যেকোনো লক্ষ্যবস্তুর তুলনায়, অনেক বড় বাস্তবতা। প্রতিরোধের অঙ্গার—গাজা, ইরাক, লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন এবং সম্ভবত বাহরাইনের মতো নতুন এলাকাতেও—এখনো নিভে যায়নি।
বরং ইরানের ওপর হামলার ফলে সেই অঙ্গারগুলো আরও দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করছে। প্রতিটি নতুন অপরাধ, প্রতিটি নতুন ক্ষোভ, প্রতিটি নতুন নৃশংসতা সেই আগুনকে আরও উসকে দিচ্ছে।
লেখক: জোনাথন কুক ব্রিটিশ সাংবাদিক ও গবেষক। তিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ফিলিস্তিন ইস্যুতে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর আলোচিত বইগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—‘ডিজঅ্যাপিয়ারিং প্যালেস্টাইন’, ‘ইসরায়েল অ্যান্ড দ্য ক্ল্যাশ অব সিভিলাইজেশন: ইরাক, ইরান অ্যান্ড দ্য প্ল্যান টু রিমেক দ্য মিডল ইস্ট’ এবং ‘ব্লাড অ্যান্ড রিলিজিয়ন: দ্য আনমাস্কিং দ্য জিউয়িশ অ্যান্ড ডেমোক্রেটিক স্টেট।’
মিডল ইস্ট আই থেকে অনুবাদ করেছেন আজকের পত্রিকার সহসম্পাদক আব্দুর
রহমান

ইরানে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা এবং যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর দেশটির কুর্দি জনগোষ্ঠীকে ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বসবাসকারী কুর্দিরা হয়তো শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সম্ভাব্য শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
৩ ঘণ্টা আগে
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে বিশ্ব এক নতুন ধরনের যুদ্ধের সাক্ষী হয়েছে। এই যুদ্ধের রণকৌশল শুধু সেনা বা কামানের গোলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি এখন একটি শক্তিশালী কম্পিউটার প্রযুক্তি ও একজন সেনার মধ্যকার ‘বোঝাপড়ায়’ রূপান্তরিত হয়েছে।
৫ ঘণ্টা আগে
ভারত কি আগে থেকে জানত যে তাদের বাড়ির আঙিনায় একটি ইরানি জাহাজে মার্কিন হামলা হতে যাচ্ছে? নাকি ভারতের নজর এড়িয়েই একটি সাবমেরিন এই কাণ্ড ঘটিয়ে দিল?
৬ ঘণ্টা আগে
ইরান যুদ্ধের প্রভাব শুধু পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল নয়, ভারতের জনজীবনেও পড়তে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ওপর ভারতের নির্ভরশীলতা দেশটিকে এক অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। পারস্য উপসাগরের সংকীর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রবাসীদের কর্মসংস
৮ ঘণ্টা আগে