
একটা বিষয় আমরা অনুমান করতেই পারি যে, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ শেষ বলে ঘোষণা করবেন, তখন তিনি নিশ্চিতভাবেই এটিকে ‘জয়’ বলে আখ্যা দেবেন। মাঠের বাস্তবতা যাই হোক না কেন, তিনি এই ঘোষণাই দেবেন। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র এবং নৌবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছেন। কিন্তু এত কিছুর পরও, এই বিষয়ে সন্দেহ রাখার অবকাশ খুব সামান্যই যে, ইসরায়েলি–মার্কিন আগ্রাসন শুরুর আগে ইরান যতটা শক্তিশালী ছিল, এখন তার থেকে অনেকটাই কম।
কিন্তু ট্রাম্পের আকাঙ্ক্ষা ছিল আরও অনেক বেশি। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ইরান শাসন করা বর্তমান রেজিমের অবসান ঘটাতে তিনি বারবার ইরানি জনগণকে বিদ্রোহের ডাক দিয়েছেন। গত সপ্তাহেও তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ ছাড়া কোনো সমঝোতা হবে না।
এই লক্ষ্যের পথে বড় বাধা হলো, ১৯৭৯ সালে শাহের পতনের পর থেকে ইরানের নেতারা সবসময়ই বাইরের হুমকি নিয়ে ব্যস্ত থেকেছেন। মধ্যপ্রাচ্য আসলে অভ্যুত্থান, বিদ্রোহ কিংবা যুদ্ধের মাধ্যমে সহিংস রাজনৈতিক পরিবর্তনে অভ্যস্ত। এখানকার শাসকরা—যাঁরা প্রায়ই একনায়ক বা বংশানুক্রমিক শাসক—তাঁদের শাসনের টিকে থাকা নিশ্চিত করতেই সমস্ত চিন্তা ও শ্রম ব্যয় করেন। ইরানে বর্তমান মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন মূলত সেই ইতিহাসেরই এক নতুন অধ্যায় মাত্র।
তেহরানের হাতে যে আপৎকালীন পরিকল্পনা ছিল তা আজ স্পষ্ট—বড় কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও রাষ্ট্রের শীর্ষ পদগুলোতে উত্তরাধিকারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। বিপরীতে, তৃণমূল পর্যায়ে শাসন পরিবর্তনের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সুসংহত পরিকল্পনা ছিল বলে প্রমাণ মেলে না। আর ইতিহাস বলে, কোনো শাসনের পতন ঘটানো গেলেও তার টেকসই বিকল্প গড়ে তোলা আরও অনেক বেশি কঠিন।
ইরান বনাম ইরাক
ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পরপরই মার্কিন দূতাবাসের কূটনীতিকদের জিম্মি করার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাত শুরু হয়। ১৯৮০ সালের এপ্রিলে মার্কিন কমান্ডোদের একটি উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ হয়। তবে বড় চ্যালেঞ্জটি আসে সেই বছরের সেপ্টেম্বরে, যখন ইরাকি শাসক সাদ্দাম হোসেন ইরান আক্রমণের মোক্ষম সুযোগ পান। তেহরানে ক্ষমতায় থাকা নেতারা তখন অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই আর বিশৃঙ্খলার মধ্যে ছিলেন। ইরানের বিপ্লবী উন্মাদনা ইরাকের শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর মধ্যে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কায় সাদ্দাম হিসাব কষেছিলেন, ইরান যখন দুর্বল, ঠিক তখনই একটি জোরালো আঘাত হেনে এই শাসনের পতন ঘটানো সম্ভব হবে।
কিন্তু সাদ্দামের সেই হিসাব মেলেনি। আক্রমণ যতটা সফল হবে ভাবা হয়েছিল, ততটা হয়নি। ইরানিরা বিমান হামলা চালিয়ে ইরাকের তেল স্থাপনাগুলো তছনছ করে দেয় এবং পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। উল্টো ইরাকি শাসনই তখন অস্তিত্ব সংকটে পড়ে যায়। ১৯৮৮ সালে পশ্চিমা ও আরব দেশগুলোর সমর্থনে—যাঁদের প্রত্যেকেরই ইরানের বিজয় নিয়ে নিজস্ব ভীতি ছিল—ইরাক হারানো ভূমি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। শেষ পর্যন্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি যুদ্ধবিরতি মেনে নেন। দীর্ঘদিনের এই ক্ষয়যুদ্ধে দুই পক্ষই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, কিন্তু কোনো পক্ষের রেজিম পতন ঘটেনি।
এর দুই বছর পর, ১৯৯০ সালের আগস্টে সাদ্দাম তাঁর দেশের সমস্যা মেটানোর জন্য প্রতিবেশী কুয়েত দখলের সিদ্ধান্ত নেন। কুয়েত দ্রুত দখল হলেও শাসক পরিবার পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ইরাক-ইরান যুদ্ধে যারা ইরাককে সমর্থন দিয়েছিল, সেই একই জোট এবার যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কুয়েতকে মুক্ত করতে একতাবদ্ধ হয়।
১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারিতে কয়েক সপ্তাহের প্রচণ্ড বোমাবর্ষণ এবং সংক্ষিপ্ত স্থলযুদ্ধের পর ইরাকি বাহিনী বিশৃঙ্খলভাবে পিছু হটে। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ সাদ্দামকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য পূর্ণ শক্তি ব্যবহারের ঝুঁকি নেননি। তাঁর উপদেষ্টারা আশঙ্কা করেছিলেন, বিদেশি হানাদারদের বিরুদ্ধে ইরাকি বাহিনী হয়তো আরও কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। এ ছাড়া দেশ শাসনের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়েও তাঁদের সতর্কতা ছিল। অপ্রত্যাশিতভাবে যুদ্ধবিরতি পেয়ে সাদ্দাম তাঁর টিকে থাকাকেই বিজয় হিসেবে প্রচার করেন।
অভিযান চলাকালীন বুশ পরামর্শ দিয়েছিলেন, ইরাকি সেনাবাহিনী এবং সাধারণ মানুষের উচিত শাসন পরিবর্তনের জন্য ‘নিজেদের হাতে ক্ষমতা তুলে নেওয়া।’ সে সময় কুর্দি ও শিয়ারা বিদ্রোহ শুরু করলে সাদ্দাম তা নির্মমভাবে দমন করেন। উত্তর ইরাকে কুর্দিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল ঘোষণা করার আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা নিরব দর্শক হয়ে ছিল।
পরবর্তী এক দশক ধরে মার্কিন চাপ সত্ত্বেও সাদ্দাম ক্ষমতা ধরে রাখেন। নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল, কিন্তু তিনি চোরাচালান আর রেশনিং নিয়ন্ত্রণ করে উল্টো নিজের অবস্থান শক্ত করেন। কোনো ষড়যন্ত্র মাথা চাড়া দেওয়ার আগেই তা নসাৎ করে দেওয়া হতো। অবশেষে ইরাক পুনরায় গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি করছে—এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে এবং ৯ / ১১ পরবর্তী তথাকথিত ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের’ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সাদ্দাম সরকারকে উৎখাতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
তাঁরা বুঝতে পেরেছিল যে—এর কোনো সংক্ষিপ্ত পথ নেই। সাদ্দামকে সরাতে হলে দেশ দখল করতেই হবে। ২০০৩ সালের মার্চে ইঙ্গ–মার্কিন বাহিনী আক্রমণ চালিয়ে দ্রুত বাগদাদে পৌঁছে যায়। সাদ্দাম আত্মগোপন করলেও শেষ পর্যন্ত ধরা পড়েন এবং বিচারে তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয় এবং তা কার্যকর হয়।
কিন্তু এরপর সব কিছু ঠিকঠাক চলেনি। বলা ভালো কোনো কিছুই ঠিকঠাক চলেনি। কোনো গণবিধ্বংসী অস্ত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি, আর সেই জোট এক যন্ত্রণাদায়ক শিক্ষা লাভ করে—একটি রেজিমকে হটানো এক বিষয়, আর সফলভাবে তার বিকল্প গড়ে তোলা সম্পূর্ণ ভিন্ন ও কঠিন বিষয়। পরবর্তী বছরগুলোতে ইরাক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা আর চরম সহিংসতার সাক্ষী হয়ে আছে, যার বড় অংশই পরিচালিত হয়েছিল সেই জোট বাহিনীর বিরুদ্ধে।
‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ থেকে শিক্ষা
ইরানের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের কথা বারবার সামনে আনা হচ্ছে। বিশেষ করে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকে। দুই ঘটনার মধ্যে কিছু মিল আছে। যেমন, ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক হুমকির দাবি এবং এই বিশ্বাস যে—স্বৈরাচারী ও অজনপ্রিয় শত্রুপক্ষ নিজ দেশে জনসমর্থন জোগাড় করতে হিমশিম খাবে। ইরাকে যুদ্ধ শুরুর সময় জাতিসংঘের পরিদর্শকেরা তখনও দেশটির অস্ত্র কর্মসূচি মূল্যায়ন করছিলেন। আর ইরানের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় ছিল বলে মনে করা হচ্ছিল। উভয় ক্ষেত্রেই ধারণা ছিল, অল্প সময়ের একটি সুযোগ কাজে লাগিয়ে নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব, তাই প্রাথমিক হামলা ত্বরান্বিত করা হয়। সাদ্দাম হুসেইন বেঁচে গিয়েছিলেন; আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বাঁচেননি।
দুই সংঘাতেই যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্ররা হামলাকে বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করেনি এবং জড়াতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। ইরানের ক্ষেত্রে এর মধ্যে যুক্তরাজ্যও রয়েছে, যে দেশ সাধারণত ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে তাল মিলিয়ে চলতে চায়।
তবে পার্থক্যগুলোও গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ। ইরাক যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে হস্তক্ষেপের পক্ষে ও বিপক্ষে এবং সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছিল। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে হামলার ধারণা কিছুদিন ধরে আলোচনা হয়ে থাকলেও, প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নেওয়ার বিষয়টি শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে দৃশ্যমান হয়। তাও ওয়াশিংটনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে অনিশ্চয়তার আবরণে সামরিক প্রস্তুতি চলছিল। (তবে এটাও সত্য, ২০০২-০৩ সালের বিতর্ক শেষ পর্যন্ত ভালো নীতি নিশ্চিত করতে পারেনি।)
সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো, ২০০৩ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপকেই কাজ সম্পন্ন করার একমাত্র উপায় হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের স্থলবাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে না দিলেও স্পষ্টতই অনাগ্রহী। এর একটি কারণ হলো, ইরাক এমন এক ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধে’ পরিণত হয়েছিল, যা এড়িয়ে চলার অঙ্গীকার করেছেন ট্রাম্প। আফগানিস্তানও আরেকটি সতর্কবার্তা। দুই দশক ধরে দেশটি স্থিতিশীল করার চেষ্টা শেষে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন বাহিনী দ্রুত সরে যায়, এবং তাদের রেখে যাওয়া সরকার ভেঙে পড়ে।
স্থলবাহিনী না পাঠানো দীর্ঘ ও হতাশাজনক সংঘাতে জড়িয়ে পড়া এড়ানোর ভালো উপায়। কিন্তু এতে একটি শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করার সক্ষমতাও সীমিত হয়ে যায়। ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, একটি দেশ দখলে বিপুল সামরিক শক্তি নিয়োজিত করলেও সাফল্য নিশ্চিত হয় না।
সামরিক কৌশলবিদেরা এখনো স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধের ধারণা ধরে পরিকল্পনা করেন, অথচ আধুনিক সংঘাত খুব কম ক্ষেত্রেই দ্রুত লক্ষ্য অর্জন করে। সরাসরি হস্তক্ষেপ না করলে বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে, কিন্তু ফলাফলের ওপর নিয়ন্ত্রণও হারিয়ে যায়। লিবিয়ার ঘটনা তার উদাহরণ, যেখানে ২০১১ সালে প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত ও নিহত হন। আবার সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ ২০২৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় টিকে ছিলেন।
ইরান অভিযান শুরুর সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, দেশের এত শীর্ষ নেতৃত্ব নিহত হওয়ায় ইরানি জনগণ ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়াবে। অনেকেই হয়তো তা চাইতে পারেন। কিন্তু সাম্প্রতিক অতীতে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের মুখে পড়া বিক্ষোভের অভিজ্ঞতা তাদের সতর্ক করে রেখেছে। যতদিন সরকার রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার মতো শক্তি ধরে রাখবে, ততদিন বিরোধীরা সাবধান থাকবে।
ট্রাম্প ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা পাঠাতে রাজি নন। তবে তিনি মনে করেছিলেন, টানা বিমান হামলার মুখে টিকে থাকা নেতারা শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণের শর্ত মেনে নেবে। এই হিসাবের একটি বড় ত্রুটি ছিল, যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইসরায়েলের হামলায় খামেনিসহ সম্ভাব্য তুলনামূলক ‘মধ্যপন্থী’ নেতাদের অনেকেই নিহত হন। ফলে এমন কোনো ব্যক্তি অবশিষ্ট ছিল না, যার কাছে নেতৃত্ব নেওয়ার মতো কর্তৃত্ব ও আলোচনায় বসার আগ্রহ দুটোই আছে। পরিবর্তে, ট্রাম্পের সঙ্গে পরামর্শ না করেই নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয় আগের নেতার ছেলে মোজতবা খামেনিকে।
ইতিহাস ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। তবে সতর্কবার্তা দেয়। এটি জানায়, ইরানি শাসনব্যবস্থার অবশিষ্ট অংশকে ক্ষমতা থেকে সরানো কঠিন হবে। আর কোনো দেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়লে তাকে আবার স্থিতিশীল করা অত্যন্ত কঠিন, নতুন কোনো বৈধ ও সক্ষম সরকার প্রতিষ্ঠা তো আরও কঠিন। যদি ট্রাম্পের লক্ষ্য শুধু ইরানকে দুর্বল করা নয়, বরং তার ভবিষ্যৎ গঠন করা হয়ে থাকে, তাহলে অন্তত আপাতত শাসনব্যবস্থার টিকে থাকা একটি ব্যর্থতা হিসেবেই দেখা যাবে, প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে যা-ই বলুন না কেন।
ব্লুমবার্গ থেকে অনুবাদ করেছেন আজকের পত্রিকার সহসম্পাদক আব্দুর রহমান

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে খার্গ দ্বীপ আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ছোট এই দ্বীপটির কৌশলগত গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে।
১ ঘণ্টা আগে
পারস্য উপসাগরে তেলের ট্যাংকারে আগুন জ্বলছিল, আর সৌদি আরব আশঙ্কা করছিল—ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যাবে। ১৯৮০-এর দশকে এই প্রণালি বাইপাস করে বা এড়িয়ে যেতে মরুভূমিতে যে পাইপলাইনটি তারা তৈরি করেছিল...
১২ ঘণ্টা আগে
১৯৪১ সালের পর থেকে আর কখনো ইরানকে জয় করা যায়নি। সে বছর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেন ও সোভিয়েত ইউনিয়নের সেনাবাহিনী তাদের আকাশ, স্থল ও নৌ শক্তি একত্র করে ইরানে হামলা চালায়। লক্ষ্য ছিল তৎকালীন শাসক রেজা শাহর গড়ে তোলা দুর্বল ও অনুন্নত সামরিক বাহিনীকে দ্রুত পরাজিত করা।
১৪ ঘণ্টা আগে
একুশ শতকের যুদ্ধক্ষেত্রে এখন ড্রোনের একচ্ছত্র আধিপত্য। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনা প্রমাণ করছে, বর্তমান যুদ্ধ কোনো শক্তিশালী বা ব্যয়বহুল সামরিক শক্তি নয়, বরং কে কত সস্তায় কার্যকর ড্রোন তৈরি করতে পারে, তার ওপর নির্ভর করছে।
১৫ ঘণ্টা আগে