Ajker Patrika

ইরানি ‘শাহেদ’-এর নকল মার্কিন ‘লুকাস’, ড্রোন ব্যবসায় ট্রাম্প পরিবার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২৬, ১০: ০৪
ইরানি ‘শাহেদ’-এর নকল মার্কিন ‘লুকাস’, ড্রোন ব্যবসায় ট্রাম্প পরিবার
ইরানি শাহেদ-এর হুবহু নকল করে বানানো হয়েছে লুকাস। ছবি: সংগৃহীত

একুশ শতকের যুদ্ধক্ষেত্রে এখন ড্রোনের একচ্ছত্র আধিপত্য। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনা প্রমাণ করছে, বর্তমান যুদ্ধ কোনো শক্তিশালী বা ব্যয়বহুল সামরিক শক্তি নয়, বরং কে কত সস্তায় কার্যকর ড্রোন তৈরি করতে পারে, তার ওপর নির্ভর করছে।

এই কৌশলে ইরান দীর্ঘদিন ধরে এগিয়ে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব তৈরি স্বল্পমূল্যের ড্রোন ‘ফ্লোরিডা লো-কস্ট আনক্রুড কমব্যাট অ্যাটাক সিস্টেম’ বা লুকাস (LUCAS FLM 136) মোতায়েন করেছে।

ইরানের সামরিক বাজেট যুক্তরাষ্ট্রের ৯০০ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় অনেক কম (প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার)। এই ঘাটতি মেটাতে ইরান ‘অপ্রতিসম যুদ্ধ’ বা অ্যাসিম্যাট্রিক ওয়ারফেয়ারের পথ বেছে নিয়েছে। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ ইরানের তৈরি ‘হেসা শাহেদ ১৩৬’ কামিকাজে ড্রোন।

‘কামিকাজে’ জাপানি শব্দ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে একটি বিস্ফোরকভর্তি যুদ্ধবিমান শত্রুর লক্ষ্যবস্তুতে আছড়ে পড়ত। জাপানি এই কৌশলের নাম ছিল কামিকাজে। এর অর্থ সুইসাইড বা আত্মঘাতী।

ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি একটি শাহেদ ড্রোনের নির্মাণ খরচ মাত্র ২০ থেকে ৫০ হাজার ডলার। কিন্তু এটি যখন হামলার জন্য পাঠানো হয়, তখন সেটিকে আকাশেই ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনে খরচ করতে হয় প্রায় ৪০ লাখ ডলার। এই বিপুল ব্যয়ের বৈষম্য ঢাকতেই যুক্তরাষ্ট্র এখন লুকাস ড্রোন তৈরি করেছে, যার প্রতিটির দাম মাত্র ৩৫ হাজার ডলার। ফলে ইরানের শাহেদ ড্রোনের খরচ এবং কার্যকারিতার সমান পাল্লা দিচ্ছে মার্কিন লুকাস।

এদিকে আজ রোববার ইরানের সামরিক বাহিনী অভিযোগ করেছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী লুকাস নামক একটি ড্রোন ব্যবহার করছে, যা দেখতে হুবহু ইরানের শাহেদ ড্রোনের মতো। এই ড্রোনগুলো দিয়ে প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোতে হামলা চালিয়ে দায়ভার ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

লুকাস ড্রোনের বিশেষত্ব

অ্যারিজোনাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্পেক্টারওয়ার্কস-এর তৈরি এই লুকাস ড্রোনটির ওজন মাত্র ৮১.৫ কেজি, অর্থাৎ ইরানের শাহেদ (২০০ কেজি) থেকে অনেক হালকা। এটি প্রায় ১৫ হাজার ফুট উচ্চতায় ঘণ্টায় ১৯৪ কিলোমিটার গতিতে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত উড়তে সক্ষম। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের বিশেষ ইউনিট ‘টাস্ক ফোর্স স্করপিয়ন স্ট্রাইক’ এখন এই ড্রোনগুলো ব্যবহার করে সরাসরি ইরানের ওপর কামিকাজে হামলা চালাচ্ছে।

ড্রোন ব্যবসায় ট্রাম্প পরিবার

ড্রোনের এই কৌশলগত গুরুত্ব উপলব্ধি করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘আনলিশিং আমেরিকান ড্রোন ডমিন্যান্স’ নামে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। লক্ষ্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন শিল্পকে বিশ্বের এক নম্বর শক্তিতে পরিণত করা।

এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের দুই পুত্র—এরিক ট্রাম্প এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র সরাসরি এই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন। তাঁরা ড্রোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘পাওয়ারাস’ (Powerus)-এর সঙ্গে একটি বড় ধরনের একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছেন। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ড্রোনের উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, ‘ইরান এখন ড্রোনের ক্ষেত্রে তাদের আধিপত্য হারাচ্ছে। আকাশপথ এখন সম্পূর্ণভাবে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে।’

প্রতিরক্ষা বিভাগ ইতিমধ্যে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে ৩ লাখ সস্তা ড্রোন দ্রুত সরবরাহের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এই ড্রোন কতটা কাজে দেবে, সেটি দেখার বিষয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত