
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পৃথিবীর বুকে টিকে থাকা ছোট্ট সমাজতান্ত্রিক দেশ কিউবার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর কিউবাকে ঘিরে ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক মন্তব্য দ্বীপরাষ্ট্রটির অস্তিত্বকে সংকটে ফেলেছে। অর্থনীতিবিদ গুইলাম লং এবং অ্যালেক্স মেইন মনে করেন, ট্রাম্প যা চাইছেন, তার ফল আমেরিকার জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে বিশ্বখ্যাত কিউবার স্বাস্থ্য খাত এখন ধ্বংসের মুখে। ২০২৪ সাল থেকে কিউবার ডাক্তাররা প্রয়োজনীয় সার্জিক্যাল সরঞ্জাম, রেডিওথেরাপি মেশিনের যন্ত্রাংশ এবং ওষুধের তীব্র সংকটে ভুগছিলেন। জানুয়ারি থেকে আরোপ করা তেল অবরোধ এই পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
জ্বালানির অভাবে অ্যাম্বুলেন্স চলাচল প্রায় বন্ধ। লোডশেডিংয়ের কারণে হাসপাতালগুলো স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারছে না। প্যারাসিটামল থেকে শুরু করে স্যালাইনের ব্যাগ, সবকিছুরই তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এমনকি শিশুদের জন্য ইনকিউবেটর বা কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতো মৌলিক সরঞ্জামও আমদানি করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ট্রাম্প কিউবাকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক ‘অস্বাভাবিক এবং বড় হুমকি’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। আইইইপিএ আইনের আওতায় কিউবায় তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন কোস্ট গার্ড কিউবামুখী তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে পথেই আটকে দিচ্ছে। ১৯৬২ সালের ‘কিউবান মিসাইল ক্রাইসিস’-এর সময়ও কেনেডি প্রশাসন খাদ্য ও তেলের মতো জরুরি পণ্য আমদানিতে বাধা দেয়নি, যা এখন ট্রাম্প করছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করে বলেছেন, এই চাপের মূল লক্ষ্য হলো ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা কিউবার বর্তমান কমিউনিস্ট সরকারের পতন ঘটানো।
ইতিহাস বলে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সব সময়ই সাধারণ মানুষের দেশত্যাগের হার বাড়িয়ে দেয়। ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞার ফলে ৬০ লাখ মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। কিউবাতেও এখন একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। কিউবার উচ্চশিক্ষিত ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়াররা দলে দলে দেশ ছাড়ছেন। একটি বড় শিশু কার্ডিওলজি ক্লিনিকের এক তরুণ ডাক্তার জানিয়েছেন, তাঁর ব্যাচের প্রায় সব ডাক্তারই দেশ ছেড়ে চলে গেছেন।
কিউবা রাষ্ট্র যদি ভেঙে পড়ে, তবে ফ্লোরিডা উপকূলে লাখ লাখ শরণার্থীর ঢল নামবে। এটি আমেরিকার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি করবে।
লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশের তুলনায় কিউবা ঐতিহাসিকভাবে একটি নিরাপদ দেশ হিসেবে পরিচিত। এখানে কোনো বড় ড্রাগ কার্টেল, অপরাধী গ্যাং বা সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী নেই। কিন্তু কিউবার রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়লে দেশটি মাদক পাচারের একটি নতুন রুটে পরিণত হতে পারে। এ ছাড়া রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গেলে সেখানে গৃহযুদ্ধ বা অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ গত তিন দশক ধরে কিউবার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়ে আসছে। বর্তমান তেল অবরোধকে জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা ‘কালেক্টিভ পানিশমেন্ট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা জেনেভা কনভেনশনের লঙ্ঘন। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাম একে ‘বড় মানবিক সংকট’ বলে বর্ণনা করেছেন।
ট্রাম্পের ‘ম্যাক্সিমাম প্রেশার’ বা চরম চাপের নীতি কিউবার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে কি না তা অনিশ্চিত, কিন্তু এটি সাধারণ কিউবানদের জীবনকে নরকতুল্য করে তুলছে। কিউবা যদি একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়, তবে তার খেসারত শুধু কিউবা নয়, বরং খোদ আমেরিকাকেও দিতে হবে। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই জয় সম্ভবত একটি ‘ফিরিক ভিক্টরি’ বা শুধুই নামের জয়ে পরিণত হতে পারে।
ফরেন পলিসি থেকে অনুবাদ করেছেন আবদুল বাছেদ

১৯৮৮ সালে সামরিক ইতিহাসবিদ জেমস স্টোকসবারি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, গণতন্ত্র মূলত দুই ধরনের যুদ্ধে পারদর্শী হয়। একটি ‘খণ্ডযুদ্ধ’, যেখানে পেশাদারেরা লড়েন এবং সাধারণ মানুষের জীবনে তার প্রভাব পড়ে না; অপরটি ‘বড় যুদ্ধ’, যেখানে পুরো সমাজকে একত্র হতে হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্বরাজনীতির মেরুকরণ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এক অঞ্চলের উত্তাপ অন্য অঞ্চলের নিরাপত্তাকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলছে। গত মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং নিশ্চিত করেছেন, পেন্টাগন দক্ষিণ কোরিয়া থেকে তাদের অত্যন্ত শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘থাড’ এবং
৫ ঘণ্টা আগে
ডোনাল্ড ট্রাম্প ৯ মার্চ ঘোষণা করেছেন, দ্বিতীয় সপ্তাহে পা রাখা ‘তৃতীয় উপসাগরীয় যুদ্ধ’ প্রায় শেষের পথে। ইরানের সামরিক সক্ষমতা ‘গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে’ দাবি করে তিনি জানিয়েছেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শিগগির শেষ হবে। ট্রাম্পের আশ্বাস, প্রয়োজনে আমেরিকা নিজেই জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে হরমুজ প্রণালি পার করে দেবে
৬ ঘণ্টা আগে
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন, তখন থেকে বিশ্বজুড়ে এক চরম বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। পেন্টাগন থেকে হোয়াইট হাউস—কোথাও ট্রাম্পের এই যুদ্ধের প্রকৃত লক্ষ্য বা সময়সীমা নিয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর নেই। প্রশ্ন উঠেছে, ট্রাম্প কি আদৌ কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়
৬ ঘণ্টা আগে