রাজশাহীর একটি হাসপাতালে গত বছর অদ্ভুত এক মুহূর্ত এসেছিল। রোগীর এক্স-রে রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে চিকিৎসক যা ধরতে পারেননি, একটি সফটওয়্যার সেটা ধরে ফেলল চোখের পলকে। চিকিৎসক অবাক হলেন না। শুধু বললেন, ‘এটাই এখন সময়ের দাবি।’
এই সময়ের নাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
বাংলাদেশে এআই নিয়ে কথা উঠলে ঘরে দুটি দল হয়। একদল বলে, এ দেশে এসব চলবে না, বিদ্যুৎ নেই, ইন্টারনেট নেই, অবকাঠামো নেই। আরেক দল বলে, এআই দিয়েই সব সমস্যা মিটবে। দুই দলই ভুল। সত্যিটা মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে—অনেকটা আমাদের মতোই।
মাটির কাছের মানুষগুলোর কথা দিয়েই শুরু করা যাক। দেশের ৪০ শতাংশের বেশি মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফসলের গায়ে রোগ ধরা, মাটি পরীক্ষা, বৃষ্টির আগাম খবর জানা, কখন সেচ দিতে হবে—এসব কাজ এখন একটি পুরোনো স্মার্টফোন আর একটি অ্যাপ দিয়ে হয়ে যাচ্ছে। ব্র্যাকের কিছু পাইলট প্রকল্পে কৃষক নিজেই মোবাইল ফোনের ক্যামেরা ধরছেন ধানের পাতার দিকে, কয়েক সেকেন্ডে পরামর্শ আসছে। মধ্যস্বত্বভোগী কমছে, লাভ থাকছে কৃষকের হাতে।
স্বাস্থ্যের ছবিটা আরও জরুরি। ঢাকার বাইরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক খুঁজে পাওয়া মানে ভাগ্যের সঙ্গে লড়াই। একজন রোগী যদি গ্রামে বসে চর্মরোগের ছবি তুলে পাঠান আর এআই সেটা প্রাথমিকভাবে পড়ে দেয়, তাহলে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক অনেক শক্ত জায়গায় দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এটা চিকিৎসক সরানো নয়, এটা চিকিৎসকের পাশে একজন সহযোগী দাঁড় করানো।
শিক্ষায় যে সম্ভাবনার কথা সবচেয়ে কম বলা হয়, সেটা হলো বৈষম্য কমানো। ঢাকার ভালো একটি স্কুলে কোনো শিশু পিছিয়ে পড়লে শিক্ষক আলাদা করে সময় দেন। ময়মনসিংহের একটি সরকারি স্কুলে একজন শিক্ষকের সামনে ৮০ জন! সেখানে কে পিছিয়ে, তা বোঝার সময় নেই। এআই-চালিত শিক্ষা সফটওয়্যার প্রতিটি শিশুর গতি বোঝে, দুর্বলতা চেনে, সে অনুযায়ী প্রশ্ন তৈরি করে। সুযোগটা একটু সমান হয়।
পোশাকশিল্পে আগুনটা জ্বলছেই। ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া এগিয়ে আসছে। এ মুহূর্তে কারখানার গুণমান নিয়ন্ত্রণে, সরবরাহ শৃঙ্খলে, শ্রমিকের দক্ষতা বাড়ানোয় এআই একটা শক্ত হাতিয়ার। ত্রুটিপূর্ণ পণ্য বাজারে পৌঁছানোর আগেই ধরা পড়লে ক্রেতার আস্থা থাকে, অর্ডার ফেরত আসে না।
তাহলে বাধাটা ঠিক কোথায়
দক্ষ মানুষের অভাব সবার আগে। তবে এআই বানাতে না হলেও চালাতে জানতে হয়, বুঝতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পাঠ্যক্রম বদলের গতিতে এখনো অনেক পিছিয়ে। তারপর আছে ভাষার সমস্যা। তবে বেশির ভাগ এআই ইংরেজির মাটিতে বড় হয়েছে। বাংলায় মানসম্পন্ন তথ্যভান্ডার ছাড়া বাংলাদেশের জন্য কার্যকর সমাধান তৈরি হবে না। অন্যের বানানো যন্ত্র আমাদের বাস্তবতা বুঝবে না—এটিই স্বাভাবিক। আর সরকারি নীতির কথা বললে, কাজ শুরু হয়েছে, কিন্তু মাঠে তার ছায়া এখনো পড়েনি। তবে হাল ছাড়ার কারণ নেই। ভবিষ্যৎ আসলে আরও কাছে এসে গেছে, শুধু আমরা টের পাচ্ছি
না। আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের জন্য এআই শুধু একটি প্রযুক্তি থাকবে না, এটা হয়ে উঠবে একটি বিভাজনরেখা। যারা এই যন্ত্রকে নিজেদের করে নিতে পারবে, তারা এগিয়ে যাবে। যারা পারবে না, তারা পিছিয়ে পড়বে আরও গভীরে। এই বিভাজন শুধু দেশে দেশে নয়, দেশের ভেতরেও। ঢাকার একজন তরুণ প্রোগ্রামার আর সিলেটের একজন চা-শ্রমিকের মধ্যে যে দূরত্ব এখন আছে, এআই সেটা ঘোচাতেও পারে, আবার বাড়াতেও পারে। যা নির্ভর করছে আমরা কোন পথে হাঁটব।
বিশ্বজুড়ে যে দেশগুলো এআই ব্যবহারের দিক থেকে এগিয়ে গেছে, তাদের দিকে তাকালে একটা মিল চোখে পড়ে। তারা কেউ শুধু প্রযুক্তি কেনেনি, নীতি বানিয়েছে। নিজেদের ভাষায় তথ্যভান্ডার তৈরি করেছে। স্কুলে শেখানো শুরু করেছে কোড লেখার আগেই চিন্তা করতে। বাংলাদেশের সামনে এখনো সেই সুযোগটা আছে।
বাংলাদেশ আগেও দেরিতে শুরু করে সবাইকে চমকে দিয়েছে। যখন অনেক দেশ ক্রেডিট কার্ডের জটিলতায়, আমরা সরাসরি মোবাইল ফোনে টাকা পাঠাতে শিখে গেছি। এআইতেও সেই লাফ দেওয়ার সুযোগ আছে। শুধু চাই তিনটি সঠিক প্রশ্নের উত্তর নিজেদের কাছে খোঁজা—কীভাবে ব্যবহার করব, কার জন্য করব এবং সিদ্ধান্তটা কে নেবে?
যন্ত্র প্রতিদিন শিখছে। আর আমাদের শেখার সময়টা এখনই।
লেখক: অর্থনৈতিক বিশ্লেষক

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের অন্যতম পথিকৃৎ প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই তাদের ব্যবসায়িক কৌশলে আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। একযোগে অনেক প্রজেক্টে কাজ করার নীতি থেকে সরে এসে কোম্পানিটি এখন কোডিং ও ব্যবসায়িক ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষায়িত সেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে।
১ ঘণ্টা আগে
বিশ্বজুড়ে এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) রাজত্ব। এ অবস্থায় উদ্বেগ বেড়ে গিয়েছে ভারতের প্রযুক্তি খাতের। ৩০০ বিলিয়ন ডলারের ব্যাক-অফিস বা আউটসোর্সিং শিল্পকে ধ্বংস করে দিতে পারে এআই—এমন আশঙ্কায় গত কয়েক সপ্তাহে ভারতের প্রযুক্তি খাতের শেয়ারবাজারে নজিরবিহীন ধস নেমেছে।
৮ ঘণ্টা আগে
স্মার্টফোন ও প্রযুক্তিশিল্পে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্রযুক্তির আবির্ভাব ঘটছে। স্মার্টফোনকে ভিন্ন ভিন্ন রূপে দেখা যাচ্ছে। কোথাও স্মার্টফোনে ড্রোন ব্যবস্থা, কোথাও লুকানো ক্যামেরা। আবার কোনো কোনো স্মার্টফোনে দেখা মিলছে কুলিং ফ্যান। তবে এবার দেখা মিলল সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু।
১৫ ঘণ্টা আগে
মহাকাশবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে ২০২২ সালের একটি পরীক্ষার মাধ্যমে। সে বছর নাসা পৃথিবী সুরক্ষার পরীক্ষা হিসেবে একটি গ্রহাণুর ওপর মহাকাশযান আছড়ে ফেলেছিল। এরপর সাম্প্রতিক গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ বলছে, এই অভিযানের প্রভাব তাদের প্রাথমিক ধারণার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও সুদূরপ্রসারী।
১৫ ঘণ্টা আগে