Ajker Patrika

নির্বাচন নিয়ে জটিলতা

সম্পাদকীয়
নির্বাচন নিয়ে জটিলতা

ক্ষমতার রাজনীতি এবং রাজনীতির মাঠের হিসাব-নিকাশের ঘেরাটোপে পড়ে গেছে দেশ। ভোটের রোডম্যাপ ঘোষণা এক ব্যাপার আর নির্দিষ্ট দিনে ভোট গ্রহণ করা যাবে কি না, সেটা আরেক ব্যাপার। রাজনৈতিক দলগুলো বহু ব্যাপারেই ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি বলে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

বৃহস্পতিবার আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত মূল সংবাদটি পড়লে না বোঝার কোনো কারণ থাকে না যে, রাজনৈতিক অনৈক্য নির্বাচন নিয়ে জটিল অবস্থা তৈরি করেছে। এনসিপি দলটি এখনো নিবন্ধন পায়নি, তারপরও কোনো না কোনোভাবে তারা ভোটের মাঠের একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। আরও অনেক রাজনৈতিক সংগঠন ভোটের মাঠে থাকলেও বিএনপি আর জামায়াতই এনসিপির পাশাপাশি সবচেয়ে সক্রিয়। এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলে তাতে বিএনপি ভালো ফলাফল করবে। জামায়াত ও এনসিপির মতাদর্শীরা এখন প্রশাসন ও বড় বড় গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাঁদের সেই সব জায়গা থেকে হটিয়ে দেবেন—এ রকম আশঙ্কা আছে জামায়াত আর এনসিপির মধ্যে। তাই তারা নির্বাচন পিছিয়ে নেওয়ার পক্ষে।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার লড়াইটাই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণত দেশের মানুষের অবস্থা ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য কোন কোন পরিবর্তন আনবে, সে কথাগুলো বলে থাকে। কিন্তু এখন সবকিছুই ঘুরছে নির্বাচনটি কবে হবে, কীভাবে হবে—তাকে কেন্দ্র করে। ফলে জনগণ আদতেই এই নির্বাচনের মাধ্যমে তার কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ আছে। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের ক্ষমতার অবসানের পরপরই বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী চাঁদাবাজি, ছিনতাই, বলপ্রয়োগসহ নানা অঘটন ঘটিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি এইসব নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করে দলকে ‘ক্লিন ইমেজ’ দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু যেসব এলাকায় বিএনপির নাম করে দুর্বৃত্তরা লুটপাট চালাচ্ছে, সেসব এলাকার মানুষ বিএনপি সম্পর্কে কী ভাবছে, সেটা লাখ টাকার প্রশ্ন।

গণ-অভ্যুত্থানের পর সবচেয়ে ভালো অবস্থায় রয়েছে জামায়াত। তার একটি উদাহরণ, দেশের ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের সমর্থিত ব্যক্তি উপাচার্য হয়েছেন। প্রশাসনেও তাদের সমর্থিত লোকেরা ভালো পদে আছেন। পাকিস্তানি উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ‘দিল পরিষ্কার’ করার কথা বলে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছেন। সে ব্যাপারে জামায়াতের অবস্থান কী, সেটাও ভোটাররা পরিষ্কারভাবে জানতে চাইবে। এনসিপি এরই মধ্যে এমন কিছু অপরিপক্বতার পরিচয় দিয়েছে, যা তাদের অনভিজ্ঞতার প্রকাশ। আবার এমন কিছু ঘটনা তারা ঘটিয়েছে, যেগুলো জনগণের দিক থেকে তাদের প্রতি আস্থার সংকট সৃষ্টি করেছে। ফলে নির্বাচনের মাঠটিতে আসলে কোন খেলোয়াড় কেমন খেলবে, সে জটিলতা কাটছে না।

তারপরও সবার আশা, দেশে একটি নির্বাচন হওয়া দরকার। যদিও তাতে রাজনৈতিক মাঠের মেঘাচ্ছন্ন আকাশ কতটা পরিষ্কার হবে, তা নিশ্চিত নয়। কিন্তু নির্বাচন না হলে যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে, তাতে জনগণ হতাশই হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

লতিফ সিদ্দিকী, ঢাবি অধ্যাপক কার্জনসহ ডিবি হেফাজতে ১৫ জন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার

পুলিশের ওপর ৪ দফা হামলা, গাজীপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ছিনিয়ে নিল দুর্বৃত্তরা

বড় ভাইসহ ডিবি হেফাজতে থাকা সবার সসম্মানে মুক্তি চাই: কাদের সিদ্দিকী

‘গ্রেপ্তার জাসদ নেতাকে থানায় সমাদর’, ওসিসহ তিন কর্মকর্তা প্রত্যাহার

এবার কাকে বিয়ে করলেন দুবাইয়ের রাজকন্যা শেখা মাহরা

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত