কাউকে না জেনে না বুঝে কোনো ‘ট্যাগ’ দেওয়ার আগে ভাবুন—এক ট্যাগেই ঘটে যেতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা। যেমনটা হয়েছে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীকে নির্দিষ্ট ট্যাগ দিয়ে তাঁকে এমন পরিস্থিতিতে ফেলা হয়েছে যে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহযোগী অধ্যাপিকাকে হত্যা করে নিজেও আত্মহননের চেষ্টা করেছেন! ৫ মার্চ আজকের পত্রিকার প্রথম পাতায় ছাপা এই খবরটি হয়তো অনেকের নজরে পড়েছে।
ঘটনাটির মূল চরিত্র দুজন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা এবং বিনা বেতনের কর্মচারী খন্দকার ফজলুর রহমান। ৪ মার্চ বিকেলে ফজলুর ছুরিকাঘাতে রুনাকে হত্যা করেছেন এবং নিজের গলায়ও ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যা করতে চেয়েছেন। এই সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কেন ঘটেছে, তার কারণ জানতে হলে একটু পেছনে যেতে হবে। ফজলুর একজন থোক বরাদ্দপ্রাপ্ত কর্মী, চেনা ভাষায়—ডে লেবার। কয়েক বছর ধরে সমাজকল্যাণ বিভাগের সুপারিশে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করে আসছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাঁকে ট্যাগ দেওয়া হয় ‘আওয়ামী দোসর’, বন্ধ করা হয় বেতন। একে তো বেতন বকেয়া ছিল, অপরদিকে সম্প্রতি তাঁকে অন্য বিভাগে বদলিও করে দেন সভাপতি। সবকিছু মিলিয়ে তিনি বেশ ক্ষুব্ধই ছিলেন। দফায় দফায় এ নিয়ে আসমার সঙ্গে তাঁর বাহাস চলত। এসব তথ্য দিয়েছেন ওই বিভাগেরই একাধিক সূত্র।
দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে যাকে ইচ্ছা তাকে ‘আওয়ামী দোসর’ ট্যাগ দিয়ে অনেকে নিজেদের ফায়দা হাসিল করছে। এদিকে ট্যাগ খাওয়া ব্যক্তি কোনো অন্যায়-অপরাধ করুক বা না করুক, মানসিক শাস্তি পাচ্ছেন তো বটেই, মবতন্ত্রেরও শিকার হচ্ছেন। আর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনা তো সবচেয়ে অকল্পনীয় ও অপ্রত্যাশিত। কে ভাবতে পারে, কতটা হতাশাগ্রস্ত হয়ে ওই কর্মচারী হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ করে বসেছেন!
আদালতের বিচারে হয়তো প্রত্যক্ষ অপরাধীর শাস্তি হবে। কিন্তু এ ধরনের অপরাধ করার ক্ষেত্রে কিছু ফ্যাক্টর যারা উসকে দেয়, তাদের মতো পরোক্ষ ‘অপরাধীদের’ শাস্তি কি হয়? দিনের পর দিন ফজলুর রহমানকে যারা ‘আওয়ামী দোসর’ ট্যাগ দিয়ে অপমান করেছে, তাঁর রুটি-রুজি বন্ধ করে দিয়েছে, তারা কি একবারও এই হত্যাকাণ্ড ঘটার আগে ফজলুর কোনো অপরাধ করেছেন কি না, তা যাচাই করেছিল? তারা কি যাচাই করেছিল তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের কোনো অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কি না? এসব যাচাই করলেও কাউকে ‘দোসর’ বলে ট্যাগ দেওয়াটা কতটা স্বাস্থ্যকর? কাউকে ট্যাগ দেওয়া কি তাহলে নব্য ফ্যাশনে পরিণত হলো?
এই ঘটনার দায় ফজলুর স্বীকার করেছেন। তাঁর শাস্তি অবধারিত। কিন্তু তাঁকে হন্তারক বানাতে ট্যাগিং ফ্যাশনের যে দূষিত পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা নির্মল করা না গেলে আরও অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা করা অমূলক নয়। এ ব্যাপারে সরকার-জনগণ সবাইকেই সচেতন হতে হবে।

আচ্ছা, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী তাঁরই সহপাঠীদের আপত্তিকর ছবি তুলেছেন গোপনে, তারপর এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিকৃত করেছেন—এ কথাও আমাদের হজম করতে হবে? শিক্ষার্থী বলতে তো সমাজে এগিয়ে থাকা একজন মানুষকেই বোঝানো হয়, কিন্তু শিক্ষার্থীর যদি এই দশা হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো....
১ ঘণ্টা আগে
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার আজ অষ্টম দিনে গড়িয়েছে। থেমে নেই ইরানও। আক্রান্ত হওয়ার পরপরই তারাও ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ১৫টি দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে। ফলে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, ইতিমধ্যে সারা পৃথিবী তার বিরূপ প্রভাব...
১ ঘণ্টা আগে
৭ মার্চকে হটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বিগত ইউনূস সরকার। ৭ মার্চের জাতীয় ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু তাতে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে যা ঘটেছিল, তা কি উধাও হয়ে যাবে ইতিহাস থেকে?
১ ঘণ্টা আগে
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য হলো, ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার; সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’। এটা শুধু একটি স্লোগান নয়; এটি আমাদের সমাজের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা। অধিকার, ন্যায়বিচার ও কার্যকর পদক্ষেপ—এই তিনটি শব্দ বাস্তবায়িত না হলে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
১ ঘণ্টা আগে