Ajker Patrika

শিশুর অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তি: ৩ আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড, দুজনের ১০ বছর

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৭: ৩০
শিশুর অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তি: ৩ আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড, দুজনের ১০ বছর
প্রতীকী ছবি

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় ৭ বছরের এক শিশুকে অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তি করানোর মামলায় তিনজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং দুজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিউর রহমান এই রায় দেন।

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সালাউদ্দিন, মো. শরিফুল ইসলাম ওরফে কোরবান মিয়া ও খন্দকার ওমর ফারুক। ১০ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া দুই আসামি হলেন মো. রমজান ও সাদ্দাম। সেই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় কাউসার ও নাজমা আক্তার নামের দুই আসামিকে মামলা থেকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

যাঁদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, প্রত্যেকের ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রত্যেককে আরও এক বছর করে কারা ভোগ করতে হবে বলে রায়ে বলা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল রায়ে আরও বলেছেন, জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে আসামিদের স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি প্রকাশ্য নিলামে বিক্রয়পূর্বক টাকা আদায় করে ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীর পরিবারকে দিতে হবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে এই টাকা উদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আসামি শরিফুল ইসলাম ও খন্দকার ওমর ফারুক কারাগারে আছেন। তাঁদের সাজা পরোয়ানাসহ কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সালাউদ্দিন, রমজান ও সাদ্দাম পলাতক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এসব তথ্য জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আনোয়ারুল আমিন চৌধুরী। এই মামলায় ২০ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১৬ বছর আগে ২০১০ সালের ৬ মে কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে সাত বছরের এক শিশুকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যান আসামিরা। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল শিশুটিকে আজীবনের জন্য পঙ্গু করে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত করা। এই উদ্দেশ্যে তাঁরা নির্জন স্থানে নিয়ে শিশুটির লিঙ্গ কর্তন করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র ও ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। পরে শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনার পর শিশুটির মা বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা করেন।

তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা শিশুটিকে ভিক্ষাবৃত্তির জন্য তার অঙ্গহানি করেন।

তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ১৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‍্যাব-১-এর সহকারী পরিচালক এএসপি মোহাম্মদ আব্দুল বাতেন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বিটকয়েনে বিলিয়ন ডলারের ধরা খেয়েছে ট্রাম্প পরিবার

কর্মস্থল খাগড়াছড়ির পানছড়ি, চিকিৎসাসেবা দেন টাঙ্গাইলের ক্লিনিকে ক্লিনিকে

নীরবতার চরম মূল্য: ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা যেভাবে হারিয়ে গেল উপসাগরীয় অঞ্চলে

‘বিসিবিতে স্ত্রী কোটায় রাখা হয়েছে রাশনা ইমামকে’

শ্বশুরবাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আ.লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, আটক ২

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত