
কমিশন নয়, গুমের অভিযোগ তদন্ত করবে পুলিশ তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের তদন্তও করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়ায় এমন বিধান রাখা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় এই খসড়া করেছে।
খসড়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা বাহিনীর হাতে রাখার বিধান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা এবং পরে বাতিল হওয়া গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর মতো গুমের অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের ক্ষমতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেওয়াই যৌক্তিক হতো। কারণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তাঁদের দিয়ে তদন্ত করালে পক্ষপাতিত্বের সুযোগ থাকবে। তাই তাঁরা নতুন আইনে তদন্তের ক্ষমতা অধ্যাদেশের মতো কমিশনের হাতে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে বিভিন্ন বাহিনীর হাতে অনেক মানুষকে গুমের অভিযোগ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবির মুখে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করে। গুমের ঘটনায় র্যাব ও ডিজিএফআইয়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলার বিচারকাজ চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার চলতি বছরের জানুয়ারিতে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি করে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে এই অধ্যাদেশ অনুমোদন করতে বিল উত্থাপন না হওয়ায় তা বাতিল হয়ে গেছে। আইন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনায় ওই অধ্যাদেশকে আইন হিসেবে পাস না করে নতুন করে সংশোধিত আকারে প্রণয়নের মতামত দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার-সংক্রান্ত আইন করতে খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।
দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যন রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মনজিল মোরসেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ব্রিটিশ আমলে যে ফৌজদারি আইন করা হয়েছে তখন মানুষের মন-মানসিকতা, পুলিশ বিভাগের দায়িত্ববোধ অন্য রকম ছিল। এখন অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই প্রতিষ্ঠানের কাছে তদন্ত রাখলে তেমন কোনো ফলাফল পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তদন্তের ক্ষমতা কমিশনকে দিয়ে অধ্যাদেশ করা হয়েছিল। সেটাই ঠিক ছিল। ডিজিএফআই, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে পুলিশ কি তদন্ত করতে পারবে? সে ক্ষেত্রে মানবাধিকার কমিশনকে দিয়ে তদন্ত করানো উচিত। সেই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ বিষয়টাও।
২০২৫ সালের অধ্যাদেশের ৮(১) ধারায় বলা হয়েছিল, গুম-সংক্রান্ত কোনো অপরাধ হলে ভুক্তভোগী নিজে অথবা ঘটনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানেন এমন ব্যক্তি অভিযোগকারী হিসেবে কমিশনের মনোনীত কর্মকর্তার কাছে সরাসরি, অনলাইনে বা ডাকযোগে অভিযোগ দাখিল করতে পারবেন। এ ছাড়া থানার ওসি বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সরাসরি হাজির হয়ে অভিযোগ করতে পারবেন। তবে ওসি বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ করলে তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমিশনে পাঠাতে হবে।
বাতিল হওয়া ওই অধ্যাদেশের ৮(২) ধারায় তদন্তের জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ ও ৮(৬) ধারায় প্রতিবেদন অনুমোদন করে ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর বিষয়ে বলা হয়েছিল।
এদিকে নতুন আইনের খসড়ার ১৪(১) ধারায় গুমের অভিযোগ গ্রহণের ক্ষমতা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তদন্তের বিষয়ে প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী। খসড়ার ১৯ ধারা অনুযায়ী বিচার হবে দায়রা জজ আদালতে।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, এই আইনের খসড়ার এসব বিধান হচ্ছে আমলাদের বা পুলিশের ক্ষমতা বাড়ানোর একটা বাহানা। তিনি বলেন, গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা মানবাধিকার কমিশন বা একটা স্বাধীন কমিশনের হাতে যাওয়া উচিত। কমিশনে যাঁদের নিয়োগ দেওয়া হবে, তাঁদেরও সৎ হতে হবে। যাঁরা রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব করে বা নৈতিকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত, এ রকম লোক দিয়ে কমিশন গঠন করলে কোনো ফল আসবে না।
২০২৫ সালের গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশের ৭ (ঘ) ধারা অনুযায়ী, কমিশন কোনো অভিযোগ বা আদালতের আদেশ ছাড়াই যেকোনো কারাগার বা আটকস্থল বা যেকোনো স্থাপনায় প্রবেশ ও পরিদর্শন করতে পারত। ৭(ঙ) ও (চ) ধারা অনুযায়ী, কমিশন গোপন আটকস্থল চিহ্নিত করতে যেকোনো স্থাপনায় পরিদর্শন করতে এবং চিহ্নিত হলে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারত। ৭ (ছ) ধারা অনুযায়ী, গুমসংক্রান্ত অভিযোগের অনুসন্ধান বা তদন্ত পরিচালনার স্বার্থে যেকোনো ব্যক্তিকে তলব ও জিজ্ঞাসাবাদ করার ক্ষমতা ছিল কমিশনের।
তবে নতুন আইনের খসড়ার ১৬ (১) ধারায় বলা হয়েছে, আদালত গুম হওয়া ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে আটককেন্দ্র বা অন্য কোনো স্থানে ফৌজদারি কার্যবিধিতে বর্ণিত তল্লাশি পরোয়ানা জারি করতে পারবেন।
নতুন আইনের খসড়া অনুযায়ী, আদালতের আদেশ কেবল নির্দিষ্ট নিখোঁজ ব্যক্তিকে খোঁজার জন্য। কোথায় তল্লাশি করতে হবে তা পরোয়ানায় উল্লেখ করতে হয়। অথচ গুমের ক্ষেত্রে পরিবার বা স্বজনেরা জানেন না ওই ব্যক্তি কোথায় বা কাদের হেফাজতে আছেন। ‘আয়নাঘর’ আবিষ্কার হয়েছিল ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর।
২০২৫ সালের অধ্যাদেশের ধারা ২৪ অনুযায়ী, গুমের শিকার ব্যক্তির চিকিৎসা, ভুক্তভোগীর পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ ও আইনগত সহায়তার লক্ষ্যে কমিশনকে অর্থ সংগ্রহ এবং তহবিল থেকে ব্যয় করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। নতুন আইনের খসড়ার ৩০ ধারায় এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সরকারকে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস আজকের পত্রিকাকে বলেন, খসড়া আইনের ১৪ ধারা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত চাওয়া হচ্ছে না। পুলিশ কি ডিজিএফআইয়ের কারও বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারবে? আগের অধ্যাদেশে তদন্তের ক্ষমতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেওয়া হয়েছিল। তিনি মনে করেন, কমিশনকেই তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন গুম-খুনের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সদস্যরা। আজ রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষের বাইরে সাক্ষাৎ করেন তাঁরা।
৬ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের পৃথক দুটি জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। আজ রোববার বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
৮ ঘণ্টা আগে
জাতীয় সংসদে অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত ১০ জন করে সদস্য নিয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন বিজেপির চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের কমিটির দায়িত্ব পেয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪...
৮ ঘণ্টা আগে
সারা দেশে স্থায়ী পাবলিক পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ রোববার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে নওগাঁ-৪ আসনের ইকরামুল বারী টিপুর প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
৯ ঘণ্টা আগে