Ajker Patrika

ঈদযাত্রা: মহাসড়কে দিনে স্বস্তির যাত্রা, রাতে যানবাহনের চাপ

  • বিভিন্ন জাতীয় মহাসড়কে যানবাহনের চাপ অনেক বেড়েছে।
  • যমুনা ও পদ্মা সেতুতে যান পারাপার বেড়েছে, অপেক্ষা কম।
  • দূরপাল্লার বাসে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ যাত্রীদের।
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ঈদযাত্রা: মহাসড়কে দিনে স্বস্তির যাত্রা, রাতে যানবাহনের চাপ
প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ কাটাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘরমুখী মানুষের ঈদযাত্রা। জয়দেবপুর রেলস্টেশন থেকে তোলা। ছবি: জাহিদুল ইসলাম

ঈদের ছুটির প্রথম দিনেই কর্মস্থল রাজধানী ঢাকা থেকে ঘরমুখী মানুষের সংখ্যা ব্যাপক বেড়েছে। জাতীয় মহাসড়কগুলোতে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। দিনে মহাসড়কে তেমন যানজট না থাকায় স্বস্তিতেই বাড়ি ফিরেছেন অধিকাংশ মানুষ। তবে রাতে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নবীনগর-চন্দ্রা ও সফিপুর-চন্দ্রা অংশে কয়েক কিলোমিটারে জট ও ধীরগতি দেখা দেয়।

পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূল ঈদযাত্রা বলতে গেলে শুরু হয়েছে গত সোমবার বিকেল থেকে। সেদিন ঈদের ছুটির আগে শেষ কর্মদিবসে অফিস থেকে অনেকে আগেভাগে বেরিয়ে ঘরমুখী হয়েছেন। রাতেও অনেকে গেছেন। তবে এবার ঈদের আগে ছুটি বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ গত সোমবার এবং গতকাল মঙ্গলবারও দেখা যায়নি।

আজকের পত্রিকার প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানজটে ঘরমুখী মানুষের ভোগান্তির আশঙ্কা করা হলেও গতকাল তেমন জট হয়নি। যানবাহনের চাপ অনেক বাড়লেও যমুনা সেতু-সিরাজগঞ্জ অংশে গতকাল পর্যন্ত বড় যানজট হয়নি। যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার সেতু দিয়ে ৩৫ হাজার ৬৫৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা আগের দিনের পারাপার হওয়া যানবাহনের তুলনায় ১০ হাজারের বেশি।

উত্তরাঞ্চলমুখী যাত্রীদের চাপে যমুনা সেতুর পশ্চিম মহাসড়কেও যানবাহন বেড়েছে।

পদ্মা সেতুতেও দক্ষিণাঞ্চলমুখী যানবাহনের চাপ বেড়েছে। মুন্সিগঞ্জের মাওয়া টোল প্লাজায় সকাল থেকে বাস ও মোটরসাইকেলের চাপ দেখা গেছে। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। সেতু বিভাগ জানায়, সোমবার রাত থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত আট ঘণ্টায় প্রায় ৯ হাজার ৬০০ যানবাহন পদ্মা সেতু পারাপার হয়েছে।

বাসে যেতে না পেরে নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছেন। তাঁদের একজন সাজিদ। তিনি সিরাজগঞ্জ যেতে সকালে বাস না পেয়ে ৪০০ টাকা ভাড়ায় ট্রাকে যাচ্ছেন। তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক রফিক বলেন, বাসের তুলনায় ভাড়া কম হওয়ায় বাড়ি যেতে পরিবারসহ ট্রাকে উঠেছেন।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রীর চাপ বাড়ছে। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট না থাকায় সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও আশপাশের কাউন্টার থেকে দূরপাল্লার বাসগুলো মোটামুটি নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে যাচ্ছে।

যাত্রীদের প্রধান অভিযোগ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। খুলনাগামী যাত্রী শহিদুল বলেন, ‘আগে ভাড়া ছিল ৬৫০ টাকা, এখন ৯০০ টাকা নিচ্ছে। বিষয়টি সন্তোষজনক নয়। তবে টিকিট পেতে সমস্যা হয়নি।’

বেসরকারি চাকরিজীবী মাহমুদ হাসান বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি যাচ্ছি। ভিড় তুলনামূলক কম থাকায় যাত্রা আগেরবারের চেয়ে স্বস্তির হবে বলে মনে হচ্ছে। তবে ভাড়া বেশি নেওয়ায় খরচ বেড়েছে।’

পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা থেকে বাস সব আসন পূর্ণ করে গেলেও ঢাকায় ফিরছে অনেক আসন খালি নিয়ে। জ্বালানি তেলের সংকটে ব্যয় বাড়ায় ভাড়া কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ীতে একটি পরিবহনের কাউন্টারের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতি ট্রিপে লোকসান এড়াতেই ভাড়া কিছুটা বাড়ানো হয়েছে।

তবে সায়েদাবাদ আন্তজেলা বাস টার্মিনাল শ্রমিক কমিটির সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন বলেন, কেউ নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নিলে তাঁদের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হচ্ছে। সরকার-নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর রাখতে তাঁরা কাজ করছেন।

গতকাল গাবতলী আন্তজেলা বাস টার্মিনাল পরিদর্শনকালে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ঈদযাত্রায় যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে মহাসড়কে বিশেষ ব্যবস্থাপনা নেওয়া হয়েছে। কোথাও যানজট বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিল্প পুলিশের সূত্র জানায়, গাজীপুরে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর আওতাধীন ২ হাজার ৮৩৪টি কারখানার মধ্যে ২ হাজার ৭৫৩টিতে ঈদের ছুটি দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সোমবার ৬২টিতে ও গতকাল ৪৪৪টিতে ছুটি দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার ১ হাজার ৪১৪টি এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার বাকি ৮৩৩টি কারখানায় ছুটি হবে।

পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পোশাক কারখানাগুলো ভাগে ভাগে ছুটি হওয়ায় মহাসড়কে তীব্র যানজট নাও হতে পারে। তবে জ্বালানি তেল নিয়ে তাঁদের দুশ্চিন্তা পুরো কাটেনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

দুই বছরের কন্যাকে নিয়ে ২৩ তলা থেকে বাবার ঝাঁপ, দুজনেরই মৃত্যু

সব লঞ্চার ‘ধ্বংসের’ পরও এত ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র কীভাবে ছুড়ছে ইরান, আর কত অবশিষ্ট

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে বদলি

ইরান এতগুলো দেশে হামলা চালাবে ভাবিনি, আমরা হতবাক: ট্রাম্প

সাবেক সংসদ সদস্য জি এম ফজলুল হক মারা গেছেন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত