Ajker Patrika

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি

লোডশেডিং ভোগাবে আরও এক সপ্তাহ

  • প্রতিদিন চাহিদার তুলনায় ১ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি থাকছে।
  • গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানির সংকটের কথা বলছে পিডিবি।
  • আদানির এক ইউনিট বন্ধ, সরবরাহ কম ৮০০ মেগাওয়াটের মতো।
ফয়সাল আতিক, ঢাকা
আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩: ৪৪
লোডশেডিং ভোগাবে আরও এক সপ্তাহ
প্রতীকী ছবি

গরম বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা সাড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। এটা ধরে নিয়ে চাহিদা পূরণের পরিকল্পনা করেছিল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে ১৫ হাজার মেগাওয়াটের সক্ষমতাও স্পর্শ করতে পারছে না বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। মাঝারি গরমের মধ্যেই এখন বিদ্যুতের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে ১ হাজার মেগাওয়াট।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এপ্রিলের শুরু থেকেই গ্রাম কিংবা শহরে বারবার লোডশেডিং শুরু হয়েছে। শহরে ভোগান্তির চিত্র তুলনামূলক কম হলেও গ্রামে দিনে অন্তত দু-তিনবার বিদ্যুতের আসা-যাওয়া নিত্য ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

এপ্রিলের প্রথম দিনে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ২১৮ মেগাওয়াট। সেদিন তেমন লোডশেডিং ছিল না। পরদিন বৃহস্পতিবার চাহিদা পৌঁছায় ১৪ হাজার ৮০০ মেগাওয়াটে। সেদিন ঘণ্টায় ৩৭৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং শুরু হয়। রাতের দিকে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোডশেডিংও বাড়তে থাকে। গত শনিবার মধ্যরাতে দেশে ১ হাজার ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দেয়, যা চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ। রাত ১২টায় ১৫ হাজার ১০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয় ১৩ হাজার ৯৬৯ মেগাওয়াট।

কাজে আসছে না সক্ষমতা

বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাবে দেশে সরকারি, বেসরকারি ও যৌথ মালিকানার ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৩২ হাজার ৩৩২ মেগাওয়াট (ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্যসহ)। আবার পিডিবির হিসাবে বিদ্যুতের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট।

এর মধ্যে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট, ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৫ হাজার ৬৪১ মেগাওয়াট, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৭ হাজার ৭৬৯ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারত থেকে আমদানি করা হয়। এ ছাড়া সৌর, হাইড্রো (জলবিদ্যুৎ), বায়ু ও অন্যান্য উৎস থেকে বাকি বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে।

তবে জ্বালানির অভাবে এসব কেন্দ্রের সক্ষমতার অর্ধেকও কাজে আসে না। গত বছর জুলাই মাসে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড ছিল।

গত শনিবার রাত ৮টার দিকে ১৪ হাজার ৯৩৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৫ হাজার ২০৯ মেগাওয়াট, তরল জ্বালানি থেকে ২ হাজার ৯৬৯ মেগাওয়াট, কয়লা থেকে ৪ হাজার ৮৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। সেই সময়েও ৭২৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে।

পিডিবির কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, ভারতের ঝাড়খন্ডে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি গত মার্চের শেষ দিকে মেরামতের জন্য একটি ইউনিট বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে সেখান থেকে বর্তমানে ঘণ্টায় ৭৫০ থেকে ৭৬০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ আসছে না। একইভাবে কয়লার অভাবে মাতারবাড়ী ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে।

এ ছাড়া গ্যাস সংকটের কারণে ছোটবড় ১৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে বলে পিডিবির প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘অন্য বছর গরমের মৌসুমে কেবল গ্যাসের কিছুটা সংকট থাকত। তবে এবার একই সঙ্গে গ্যাস, কয়লা এবং তরল জ্বালানির কিছুটা সংকট রয়েছে। এসব কিছু সত্ত্বেও সক্ষমতার সর্বোচ্চটুকু কাজে লাগিয়ে আমরা চাহিদা পূরণের চেষ্টা করছি।’

জহুরুল ইসলাম জানান, এপ্রিল-মে মাসে সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। সেটা ধরেই উৎপাদনের পরিকল্পনা চলছে। এর মধ্যে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৫ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৫ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট, ফার্নেস তেল থেকে প্রায় ৩ হাজার ১০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

পেট্রোবাংলার কাছে দৈনিক ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস চাওয়া হয়েছে জানিয়ে জহুরুল ইসলাম বলেন, সেখান থেকে সময়ে সময়ে সর্বোচ্চ ৯৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

তরল জ্বালানির জোগান কম

বাংলাদেশ ইনডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রোডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপপা) সাবেক সভাপতি ইমরান করিম জানান, সরকারের কাছে বিপুল পরিমাণ বকেয়া থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো জ্বালানি আমদানি করতে পারছে না। বর্তমানে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছে ১ লাখ ৪৭ হাজার টন ফার্নেস তেলের জোগান রয়েছে। তবে এই তেল দিয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় চালালে আগামী ১৪-১৫ দিনের মধ্যে মজুত শেষ হয়ে যাবে। আর সরকার যদি এখনই বকেয়া পরিশোধ করে, তাহলে সেই টাকা দিয়ে তেল আনতে ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লেগে যাবে। বিদ্যুৎ খাতও যে জ্বালানি সংকটের মধ্যে রয়েছে, সেটা কয়েক মাস ধরে বলা হচ্ছে।

পিডিবির সদস্য জহুরুল ইসলাম জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা সংকট দূর হবে। এ ছাড়া পটুয়াখালীতে আরএনপিএলের একটি নতুন ইউনিট থেকে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হবে। এ ছাড়া আদানিও ১৫ এপ্রিলের মধ্যে বন্ধ ইউনিট চালু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে আগামী সপ্তাহ নাগাদ চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া গেলে চলমান সংকট কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

যশোরে খোদ বিচারকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা, বাদী গ্রেপ্তার

চীনকে নিয়ে হরমুজ নিয়ন্ত্রণ করবে ইরান! ভারতের জন্য বিপদ

পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আর্টেমিস নভোচারীদের ৪০ মিনিট, কী ঘটবে তখন

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের পাল্টা ১০ দফা

অভিজ্ঞতা ছাড়াই প্রাইম ব্যাংকে নেবে ট্রেইনি অফিসার

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত