Ajker Patrika

বিশ্বের সুন্দর পাঁচ সৈকত

ফিচার ডেস্ক
বিশ্বের সুন্দর পাঁচ সৈকত

এ বছর বিশ্বের সুন্দর সমুদ্রসৈকত হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার পিংক বিচ। সম্প্রতি ‘ফোর্বস’ ও ‘এক্সপ্লোর ওয়ার্ল্ড ওয়াইড’-এর ভ্রমণবিশেষজ্ঞদের জরিপে শীর্ষে স্থান পেয়েছে এই সৈকত। ফোর্বসে বলা হয়েছে, সুম্বাওয়া ও ফ্লোরেস দ্বীপের মাঝখানে কোমোডো দ্বীপে অবস্থিত এই গোলাপি সৈকত। যেখানে প্রবালবাগান আঁকড়ে থাকে সামুদ্রিক স্টার ফিশ, চকচক করে খেলে বেড়ায় রিফ ফিশ।

পিংক বিচ কেন অনন্য

ফোর্বসে উল্লেখ করা হয়েছে, সুম্বাওয়া ও ফ্লোরেস দ্বীপের মাঝখানের এই সৈকত লাল প্রবালের গুঁড়া ও ফ্লোরামিনিফেরা নামের ক্ষুদ্র এক সামুদ্রিক প্রাণীর মিশ্রণে তৈরি অনন্য গোলাপি বালির আবরণে মোড়া। এই সৈকতে দেখা পাওয়া যায় রিফ ফিশদের। আর প্রবালের বাগানে আঁকড়ে থাকা সি-স্টার বা সামুদ্রিক তারাগুলো সৃষ্টি করে এক রূপকথার পরিবেশ। স্বচ্ছ পানি আর সমৃদ্ধ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য থাকার কারণে এটি স্নরকেলিংয়ের জন্য আদর্শ গন্তব্য।

মে থেকে অক্টোবর মাস এই জায়গায় বেশি রৌদ্রোজ্জ্বল দিন পাওয়া যায়। এ সময় সৈকত ঘোরার জন্য উপযুক্ত। বছরের বাকি সময় সাধারণত বর্ষাকাল থাকে। কম ভিড় হওয়ায় এখানে প্রকৃতির নিস্তব্ধতা উপভোগ করা যায়। অনেক জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট গন্তব্যের তুলনায় এটি অনেক বেশি শান্ত এবং প্রাকৃতিকভাবে সুরক্ষিত।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয় স্থানে লে মর্ন

মরিশাস দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত একটি উপদ্বীপ লে মর্ন। এটি ৫৩৬ মিটার উঁচু বেসাল্টিক মনোলিথ বা পাথরের স্তূপ নিয়ে গঠিত। এটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবেও স্বীকৃত। এই অঞ্চল ১৮ ও ১৯ শতকের দাসপ্রথার স্মৃতির জন্য বিখ্যাত। লে মর্ন বিচের মসৃণ বালু ও দোল খাওয়া নারকেলগাছে বাঁধা হ্যামক স্বাগত জানায় পর্যটকদের। সেখানে বিচিত্র রঙের রিফ ফিশ ও হালকা রঙের বাটারফ্লাই ফিশ ঘুরে বেড়ায়। স্নরকেলিং করলে আপনি দেখতে পাবেন বিখ্যাত আন্ডারওয়াটার ওয়াটারফল। এই প্রাকৃতিক দৃষ্টিভ্রমের বিষয়টি দেখলে মনে হবে, বালু যেন গভীর সমুদ্রে ঝরে পড়ছে।

মে থেকে ডিসেম্বর লে মর্ন ভ্রমণের সেরা সময়। এই সময় মরিশাসের আবহাওয়া থাকে শীতল ও শুষ্ক, অর্থাৎ এ সময় আবহাওয়া থাকে আরামদায়ক আর বৃষ্টির পরিমাণ থাকে কম। অন্যদিকে জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে গরম ও সাইক্লোন হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে লে মর্নে।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

তৃতীয় স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকা

দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ পেনিনসুলার কোলে বোল্ডার্স বিচ। দানাদার সাদা বালুর সৈকত এটি। এখানে আছে বিশাল বিশাল গ্রানাইট পাথর আর পান্না রঙের পানি। এই সৈকতের বড় আকর্ষণ আফ্রিকান পেঙ্গুইন। এরা পানির কিনারে হেঁটে বেড়ায় আর ঘাস ও পাথরের মাঝে কিচিরমিচির করে। তাদের ডাক শুনতে শুনতে এখানে হাঁটতে হবে কাঠের পথে। এ পথ আপনাকে সোজা নিয়ে যায় গুল্মে ভরা টিলা আর ছায়াঘেরা বনে।

এরপর আসে এমন একটি জায়গা, যেখানে দাঁড়িয়ে দেখা মেলে ড্যাসি নামের একধরনের ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণীর। যারা সেখানে রোদ পোহায়, আর কেপ করমোরান্ট পাখিরা আকাশে ওড়ে। নভেম্বর থেকে মার্চ দক্ষিণ আফ্রিকায় গ্রীষ্মকাল। তখনকার উষ্ণ আবহাওয়া ও সূর্য-ঝলমলে দিনে পেঙ্গুইনদের দেখা যায় বেশি। অন্যদিকে জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত ঠান্ডা আবহাওয়া থাকে সেখানে। সে সময় বৃষ্টিপাত বেশি হয়।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চীন আছে আফ্রিকার পরেই

‘চীনের হাওয়াই’ নামে পরিচিত সৈকত ইয়ালং বে। এটি দক্ষিণ হাইনান দ্বীপের উপকূল ধরে ড্রাগনের হাসির মতো বেঁকে গেছে। এ সৈকতের আইভরি বা হাতির দাঁতের মতো সাদা বালু ঢালু হতে হতে মিশে গেছে পান্না রঙের পানিতে। সেখানে বাটারফ্লাই ফিশ আর সামুদ্রিক কচ্ছপগুলো স্ফটিক স্বচ্ছ জলে সাঁতার কাটে। তীরে, নারকেল দিয়ে সাজানো রিসোর্ট আর বাগান। সাজানো পথ নিয়ে যায় বন ঢাকা পাহাড়ের দিকে। আর কাচের সেতু ঝুলে থাকে গাছের মাথায়। সন্ধ্যায় আকাশে ছড়িয়ে পড়ে প্রবাল রঙের আলো, মাছ ধরার নৌকা ভেসে যায় লংটোউ রকের ছায়ার পেছনে।

অক্টোবর থেকে এপ্রিল ইয়ালং বের আবহাওয়া শীতল। সে সময় সূর্যালোকে ভরা থাকে সৈকত। সেটিই সেখানে কাটানোর আদর্শ আবহাওয়া। মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গরম ও বর্ষার সময়। তখন কখনো কখনো সেখানে টাইফুন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সেরাদের তালিকায় পঞ্চম সানরাইজ বিচ

থাইল্যান্ডের কোহ লিপ দ্বীপের পূর্ব উপকূলে বিস্তৃত সানরাইজ বিচ। সকালে সোনারঙা রোদ সেখানে গড়িয়ে পড়ে বালুতে আর দুলতে থাকা ক্যাসুয়ারিনাগাছের ডালে। সমুদ্রে দীর্ঘ লেজওয়ালা নৌকাগুলো অলসভাবে ভেসে বেড়ায় স্বচ্ছ পানিতে। সৈকতের পাশে থাকা ক্যাফেগুলোয় পরিবেশন করা হয় ম্যাঙ্গো স্মুদি আর গ্রিল করা টাইগার প্রনস। সেখানে স্নরকেলিং করতে গেলে দেখা মেলে ডোরা কাটা অ্যাঞ্জেলফিশ আর ঝলমলে প্যারট ফিশের। দুপুরে ভাটার টানে জেগে ওঠে লুকানো বালুচর। সেই বালুচর ধরে হাঁটতে থাকলে দেখা যাবে সমুদ্র আর আকাশ মিশে গেছে এক রাশি নীলিমায়।

নভেম্বর থেকে এপ্রিল সেখানে শুষ্ক মৌসুম। এই সময়টাই সেখানে ভ্রমণের সেরা সময়। তখন সেখানকার পরিষ্কার আকাশ আর শান্ত সমুদ্র স্নরকেলিং ও বোটিংয়ের জন্য উপযুক্ত থাকে। মে থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত চলা বর্ষাকালে সমুদ্র থাকে উত্তাল। তাই অনেক বোট সার্ভিস বন্ধ থাকে সানরাইজ বিচে।

সূত্র: ফোর্বস, ইভিএন এক্সপ্রেস

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত