
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, আনন্দে বা দুঃসময়ে একে অন্যকে জড়িয়ে ধরার প্রবণতা আমাদের আদিম পূর্বপুরুষ থেকে আসা এক সহজাত প্রবৃত্তি। বন্য প্রাণীরাও যেমন একে অপরের গায়ের লোম পরিষ্কার করে বা মমতা দিয়ে গা ঘষে সামাজিক বন্ধন তৈরি করে, মানুষের ক্ষেত্রেও স্পর্শ তেমনি নিরাপত্তা ও বিশ্বাসের প্রতীক। আমাদের ত্বকের ভেতরে থাকা ‘সি-ট্যাকটাইল’ নামক বিশেষ স্নায়ু গ্রাহকগুলো হালকা স্পর্শে উদ্দীপিত হয়। এটি সরাসরি মস্তিষ্ককে শান্ত করার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। যখন কেউ কাউকে পরম মমতায় জড়িয়ে ধরে তখন শরীরে ‘অক্সিটোসিন’ বা ‘বন্ডিং হরমোন’ নিঃসৃত হয়, যা মুহূর্তেই ভীতি ও দুশ্চিন্তা কমিয়ে মনে গভীর প্রশান্তি এনে দেয়।
আলিঙ্গনের স্থায়িত্ব ও স্বাস্থ্য়ের ওপর এর প্রভাব
স্পর্শের ধরন এবং স্থায়িত্বের ওপর এর শারীরিক ও মানসিক উপকারিতা নির্ভর করে। ব্রিটিশ সাইকোলজিক্যাল সোসাইটির গবেষণায় দেখা গেছে:
১০ সেকেন্ডের আলিঙ্গন আপনাকে মানসিকভাবে সচেতন ও সতর্ক করে তোলে। এটি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘমেয়াদি বিষণ্ণতার ঝুঁকি কমায়।
২০ সেকেন্ডের আলিঙ্গন হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্য়ের জন্য বিস্ময়করভাবে কার্যকর। দীর্ঘ আলিঙ্গন শরীরে ‘কর্টিসল’ নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কমিয়ে দেয়, ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে এবং হৃৎপিণ্ড শিথিল হওয়ার সুযোগ পায়।

শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত আলিঙ্গনের উপকারিতা
স্পর্শের উপকারিতা শুরু হয় জন্মের একদম প্রথম মুহূর্ত থেকেই। নবজাতকের সঙ্গে মা-বাবার ‘স্কিন-টু-স্কিন’ কন্টাক্ট বা ত্বকের স্পর্শ শিশুর হৃৎস্পন্দন ও শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এমনকি এটি শিশুর কান্না কমাতেও সহায়ক। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও এটি সমানভাবে কার্যকর। ২০০৬ সালে ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা যখন প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন, তখন কেবল সঙ্গীর হাত ধরলেই তাঁরা তাৎক্ষণিক মানসিক শান্তি অনুভব করেন। এমনকি অপরিচিত কারও সহানুভূতিশীল হালকা স্পর্শও মানুষের সামাজিক একাকিত্ব বা বর্জনের কষ্ট কমাতে সাহায্য করতে পারে।
রোগপ্রতিরোধে আলিঙ্গনের ভূমিকা
নিয়মিত আলিঙ্গন আমাদের শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। পেনসিলভানিয়ার কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যাঁরা নিয়মিত প্রিয়জনদের জড়িয়ে ধরেন, তাঁদের সাধারণ সর্দি-জ্বর হওয়ার ঝুঁকি অনেক কম। এমনকি তাঁরা অসুস্থ হলেও খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। বয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রিয়জনের নিয়মিত স্নেহপূর্ণ স্পর্শ শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমাতে সাহায্য করে, যা বার্ধক্যের অনেক রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়।
ডিজিটাল যুগে ‘স্পর্শের আকাল’ ও স্কিন হাঙ্গার
বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে আমরা দিনের বেশির ভাগ সময় কাটাই অনলাইন বা স্মার্টফোনের স্ক্রিনে। ফলে মানুষের সঙ্গে মানুষের সরাসরি দেখা করা বা স্পর্শের অভাব প্রকট হচ্ছে। করোনা মহামারির লকডাউনের সময় বিশ্বজুড়ে মানুষ ‘স্কিন হাঙ্গার’ বা স্পর্শের তীব্র ক্ষুধার সঙ্গে পরিচিত হয়েছে। জাপানে তো এখন টাকা দিয়ে জড়িয়ে ধরা বা পাশে ঘুমানোর জন্য ‘কাডল ক্যাফে’ পর্যন্ত গড়ে উঠেছে। এটি প্রমাণ করে, হাজার হাজার ডিজিটাল সংযোগ কখনোই মানুষের সরাসরি একটি উষ্ণ স্পর্শের বিকল্প হতে পারে না।
সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও অন্যান্য

জমে উঠেছে বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর। পথে-ঘাটে গাড়ি থামিয়ে বড় স্ক্রিনে খেলা দেখতেও ভুল হচ্ছে না এতটুকু। আর রাত জেগে প্রিয় দলের খেলা দেখার ব্যাপারটি তো আছেই। তবে বিশ্বকাপের আমেজ এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। এই উন্মাদনা জার্সি ছাড়িয়ে উঠে এসেছে রোজকার পরিধেয়তেও।
৫ ঘণ্টা আগে
আমাদের মুখমণ্ডলের অন্যান্য অংশের ত্বকের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি পাতলা হয় চোখের চারপাশের ত্বক। তাই রোজ যে ক্লিনজার স্ক্রাব বা ময়শ্চারাইজার আমরা মুখে ব্যবহার করি, তা চোখের চারপাশের ত্বকের জন্য সমান কার্যকর নয়।
৬ ঘণ্টা আগে
ভ্যাপসা গরমে যাঁরা রোজ অফিস করছেন বা যাঁরা বাড়িতে রয়েছেন, তাঁদের সবারই নাজেহাল অবস্থা। কখন বৃষ্টি নামবে, এই ক্ষণ গুনতে গুনতেই চলে এল বর্ষা। তপ্ত রোদ থেকে এবার একটু রেহাই পাওয়ার আশা করা যায়। বর্ষার প্রথম দিনেই আলমারিতে নীল শাড়ির খোঁজ পড়ে।
৭ ঘণ্টা আগে
আষাঢ় মানে বাহারি স্বাদের খিচুড়ির আয়োজন। ঝুম বৃষ্টিতে গরম-গরম সুস্বাদু খিচুড়ি বাঙালির রসনাবিলাসের দারুণ এক উপকরণ। আজ আষাঢ়ের প্রথম দিন, খিচুড়িপ্রেমীদের জন্য আজ থাকছে মুখরোচক মুগ ডালের খিচুড়ির রেসিপি। সবজি, আচার এবং মাংস কষা দিয়ে খাওয়ার জন্য এই খিচুড়ির রেসিপি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা।
৭ ঘণ্টা আগে