Ajker Patrika

ঈদের নামাজের কাজা আদায় করতে হয় কীভাবে?

মুফতি শাব্বির আহমদ
আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৯: ৩৯
ঈদের নামাজের কাজা আদায় করতে হয় কীভাবে?

প্রশ্ন: বছরে মাত্র দুবার ঈদ আসায় অনেক সময় ঈদের নামাজে আমাদের বিভিন্ন ভুল হয়ে যায়। ঈদের নামাজ কীভাবে আদায় করব? এর সঠিক পদ্ধতি কী? এবং কোনো কারণে ঈদের নামাজ ছুটে গেলে কাজা আদায় করতে হয় কীভাবে? এ বিষয়ে ইসলামের বিধান জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

শাহজাহান তালুকদার, ময়মনসিংহ

উত্তর: দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে পুরস্কার হিসেবে আসে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং আনন্দময় ইবাদত হলো ঈদের নামাজ। এ নামাজ আদায়ের সঠিক নিয়ম এবং বিভিন্ন বিশেষ পরিস্থিতি নিয়ে ইসলামের বিধানগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

ঈদের নামাজের হুকুম ও সময়

যাদের ওপর জুমার নামাজ ওয়াজিব, তাদের ওপর ঈদের নামাজ আদায় করাও ওয়াজিব। এটি আদায়ের জন্য কোনো আজান বা ইকামতের প্রয়োজন নেই। সূর্যোদয়ের পর এক বর্শা (প্রায় ২০ মিনিট পর) পরিমাণ উঁচু হওয়ার পর থেকে দ্বিপ্রহর (জোহরের ওয়াক্ত হওয়ার আগে) পর্যন্ত ঈদের নামাজ আদায় করা যায়।

ঈদুল ফিতরের নামাজ কিছুটা দেরিতে পড়া সুন্নত, যাতে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে সদকাতুল ফিতর আদায় করতে পারে।

ঈদের নামাজের নিয়ম

ঈদের নামাজ দুই রাকাত। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো অতিরিক্ত ছয়টি তাকবির।

প্রথম রাকাত: তাকবিরে তাহরিমা বেঁধে সানা পড়ার পর ইমাম সাহেব অতিরিক্ত তিনটি তাকবির দেবেন। প্রথম দুই তাকবিরে হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে এবং তৃতীয় তাকবিরে হাত বেঁধে নিতে হবে। এরপর স্বাভাবিকভাবে কিরাত পড়ে রুকু ও সিজদা করতে হবে।

দ্বিতীয় রাকাত: সুরা-কিরাত শেষ করার পর রুকুতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত তিনটি তাকবির দিতে হবে। প্রতিটি তাকবিরে হাত তুলে ছেড়ে দিতে হবে এবং চতুর্থ তাকবির বলে রুকুতে যেতে হবে।

নামাজ শেষে ইমাম সাহেবের খুতবা দেওয়া সুন্নত এবং তা শোনা মুসল্লিদের জন্য ওয়াজিব। খুতবা চলাকালে কথা বলা, মোবাইল চালানো বা উঠে চলে যাওয়া উচিত নয়।

ঈদের জামাত ছুটে গেলে করণীয়

অনেকেই যাতায়াত বা প্রস্তুতির কারণে জামাতে দেরিতে পৌঁছান। এমন ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধানগুলো হলো:

রুকুতে শরিক হলে: কেউ যদি ইমামকে রুকুতে থাকা অবস্থায় পায় এবং মনে করে যে দাঁড়িয়ে তাকবির বলে ইমামকে রুকুতে ধরতে পারবে, তবে সে দাঁড়িয়েই তাকবির বলবে। আর যদি দেরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে সরাসরি রুকুতে চলে যাবে এবং রুকুতে থাকা অবস্থায় হাত না তুলে মনে মনে অতিরিক্ত তাকবিরগুলো বলবে।

এক রাকাত ছুটে গেলে: ইমাম সাহেব সালাম ফেরানোর পর দাঁড়িয়ে প্রথমে সুরা-কিরাত পড়বেন। এরপর রুকুতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত তিনটি তাকবির দিয়ে স্বাভাবিকভাবে নামাজ শেষ করবেন।

একেবারেই জামাত না পেলে: যদি কোনো কারণে ঈদের জামাত পুরোপুরি ছুটে যায়, তবে অন্য কোথাও জামাত হচ্ছে কি না তা দেখতে হবে। যদি কোথাও জামাত পাওয়া না যায়, তবে এর কোনো কাজা নেই। এমন অবস্থায় তওবা করে চার রাকাত চাশত বা নফল নামাজ (তাকবির ছাড়া) একা পড়ে নেওয়া উত্তম।

উত্তর দিয়েছেন: মুফতি শাব্বির আহমদ, ইসলামবিষয়ক গবেষক

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

নদীর পাড়ে পড়ে ছিল অজ্ঞাতনামা যুবকের গলাকাটা ও মাথাবিহীন লাশ

অপারেশন থিয়েটারে মির্জা আব্বাস, মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার

ভৈরবে ১ কোটি ৮৫ হাজার টাকাসহ আটক দুই স্বর্ণকার, ২১ ঘণ্টা পর মুক্ত

চট্টগ্রামে ৭ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা

ম্যানেজিং কমিটিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলের প্রশ্নই ওঠে না: শিক্ষামন্ত্রী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত