Ajker Patrika

আপনার জিজ্ঞাসা

ইস্তেখারার নামাজ কীভাবে আদায় করতে হয়

মুফতি শাব্বির আহমদ
ইস্তেখারার নামাজ কীভাবে আদায় করতে হয়
নামাজ আদায় করছেন এক মুসল্লি। ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন: গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দোটানায় পড়ে আছি। আমার পাশের দোকানদার বললেন, ইস্তেখারার নামাজ আদায়ের জন্য। ইস্তেখারা কী, কখন করা হয় এবং কীভাবে ইস্তেখারার নামাজ আদায় করতে হয়—বিস্তারিত জানানোর অনুরোধ করছি।

শাফিন চৌধুরী, মৌলভীবাজার, সিলেট

উত্তর: জীবনের প্রয়োজনে আমাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কিন্তু অনেক সময় সিদ্ধান্ত নিতে আমরা হিমশিম খাই। দোটানা ও সিদ্ধান্তহীনতা আমাদের ভোগায়। এ ক্ষেত্রে মহানবী (সা.) নামাজের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর তৌফিক কামনা করতে বলেছেন তিনি। এই নামাজকে ইসলামের পরিভাষায় সালাতুল ইস্তেখারা বা ইস্তেখারার নামাজ বলা হয়।

দুই রাকাত নামাজ আদায় ও বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে দোদুল্যমান কোনো বিষয়ে মন ধাবিত হওয়ার জন্য আশা করা, অর্থাৎ দুটি বিষয়ের মধ্যে কোনটি অধিক কল্যাণকর হবে—এ ব্যাপারে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার নামই ইস্তেখারা।

যখন আপনি একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে যাচ্ছেন এবং করবেন কি করবেন না—সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না, অথবা একাধিক কাজের মধ্যে কোনটি করবেন, তা ঠিক করতে পারছেন না, তখন আপনি ইস্তেখারা করবেন।

ইস্তেখারা কীভাবে করবেন

প্রথমে অজু করতে হবে। তারপর ইস্তেখারার নিয়ত করে দুই রাকাত নামাজ আদায় করতে হবে। নামাজের প্রথম রাকাতে সুরা ফাতিহার পর সুরা কাফিরুন এবং দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ফাতিহার পর সুরা ইখলাস পড়া সুন্নত। (সায়দুল ফাওয়ায়েদ)। নামাজের পর দুই হাত তুলে বিনয়ের সঙ্গে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে। দোয়ার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা এবং নবীজি (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করে হাদিসে বর্ণিত দোয়া পড়তে হবে।

ইস্তেখারার দোয়া

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আস্তাখিরুকা বি-ইলমিকা, ওয়া আস্তাকদিরুকা বি-কুদরাতিকা, ওয়াআসআলুকা মিনফাদলিকাল আযিম। ফা-ইন্নাকা তাকদিরু ওয়ালা আকদিরু, ওয়া তা’লামু ওয়া লা আ’লামু, ওয়া আন্তা আল্লামুল গুয়ুব। আল্লাহুম্মা ইন কুন্তা তা’লামু, আন্না হা-যাল আমরা খাইরুনলি, ফিহ-দ্বীনি ওয়া মা’আশি, ওয়া আ-কিবাতি আমরি, ফাকদুরহুলি, ওয়া-ইয়াসসিরহু লি। সুম্মা বা-রিকলি ফিহি। ওয়া ইন কুনতা তা’লামু, আন্না হা-যাল আমরা, শাররুনলি, ফি দ্বীনি ওয়া মা’আশি, ওয়া আ-ক্কিবাতি আমরি, ফাসরিফহু আন্নি, ওয়াসরিফনি আনহু। ওয়াকদুর লিয়াল খাইরা হাইসু কানা। সুম্মা আরদিনি বিহি।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমি আপনার জ্ঞানের সাহায্য চাইছি, আপনার শক্তির সাহায্য চাইছি এবং আপনার মহান অনুগ্রহ চাইছি। আপনি শক্তি ও ক্ষমতার অধিকারী। আমার কোনো ক্ষমতা নেই। আপনি অফুরন্ত জ্ঞানের অধিকারী। আমার কোনো জ্ঞান নেই। আপনি অদৃশ্য বিষয়ে সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত। হে আল্লাহ, আপনি যদি এ কাজটি আমার জন্য দ্বীনের দৃষ্টিকোণ থেকে, আমার জীবনযাপন ও কাজের পরিণামের দিক থেকে ভালো মনে করেন, তাহলে তা আমার জন্য নির্দিষ্ট করে দিন এবং সহজ করে দিন। তারপর তাতে আমার জন্য বরকত দান করুন। আর যদি আপনি এ কাজটি আমার জন্য দ্বীনের দৃষ্টিকোণ থেকে, আমার জীবনযাপন ও কর্মের পরিণামের দিক থেকে ক্ষতিকর মনে করেন, তাহলে আপনি আমার থেকে তা দূরে সরিয়ে দিন এবং আমাকে তা থেকে বিরত রাখুন। আর যেখান থেকেই হোক আপনি আমার জন্য কল্যাণ নির্ধারণ করে দিন ও তার ওপর আমাকে সন্তুষ্ট রাখুন।’ (জামে তিরমিজি: ৪৮০; সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৩৮০; রিয়াজুস সালিহিন: ৭২২)

‘হা-জাল আমরা’ শব্দটি যখন আসবে, তখন যে কাজটির বিষয়ে ইস্তেখারা করা হচ্ছে, তা মনে মনে রাখতে হবে। এরপর দরুদ পাঠ করে দোয়া শেষ করবেন। (তুহফাতুল আলমায়ি: ২ / ৩৩৮)

উত্তর দিয়েছেন: মুফতি শাব্বির আহমদ, ইসলামবিষয়ক গবেষক

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জিয়ার নাম না বলায় বিএনপির স্বাধীনতার অনুষ্ঠান বর্জন, ইউএনও বদলি

বিশ্বের সবচেয়ে অপছন্দের দেশের তালিকা প্রকাশ

ইসরায়েলের পরমাণু বোমার তথ্য ফাঁসকারী আরব ইহুদি ভানুনুর ভাগ্যে কী ঘটেছিল

ট্রাম্পের নীতিতে খেপেছে জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্রকে আঘাতে খুঁজছে দুর্বল জায়গা

খারগ দ্বীপের দখলে ভেঙে পড়বে আইআরজিসি, শেষ হবে যুদ্ধ: হোয়াইট হাউস

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত