Ajker Patrika

রমজানের কাজা রোজা আদায়ের বিধান ও নিয়ম

ফয়জুল্লাহ রিয়াদ
রমজানের কাজা রোজা আদায়ের বিধান ও নিয়ম

রমজানের কোনো রোজা যদি শরিয়তসম্মত কারণে ছুটে যায়, তবে পরবর্তী সময়ে তা আদায় করে নেওয়া ফরজ। পবিত্র কোরআনে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ বা সফরে থাকলে সে অন্য সময় সেই সংখ্যা পূরণ করবে।’ (সুরা বাকারা: ১৮৫)। এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, রমজানের রোজা যদি কোনো কারণে আদায় করা না যায়, তবে তার পরিবর্তে অন্য সময়ে সমপরিমাণ রোজা রাখা আবশ্যক। যত দ্রুত সম্ভব কাজা রোজা আদায় করা উত্তম। অযথা বিলম্ব করা উচিত নয়।

নফলের আগে কাজা আদায় করা উচিত

শরিয়তের দৃষ্টিতে ফরজ ইবাদত সব সময় নফলের চেয়ে অগ্রাধিকার পায়। যার ওপর কাজা রোজা বাকি আছে, তার জন্য আগে সেই কাজা আদায় করা উত্তম। তারপর নফল রোজায় মনোনিবেশ করা উচিত। যেমন কেউ যদি শাওয়াল মাসের ছয় রোজা রাখতে চায়, কিন্তু তার রমজানের কিছু রোজার কাজা বাকি থাকে, তাহলে আগে কাজা রোজা পূরণ করা উত্তম। ফরজ দায়িত্ব আদায় না করে নফল ইবাদতে ব্যস্ত হওয়া সঠিক পদ্ধতি নয়। তবে কেউ আগে নফল রোজা রেখে পরে কাজা রোজা আদায় করতে চাইলে সেটারও অবকাশ রয়েছে। রমজানের কাজা রোজা বছরের যেকোনো সময় আদায় করা যায়। তবে পরবর্তী রমজান আসার আগেই কাজা রোজা আদায় করে নেওয়া উত্তম।

কাজা রোজার নিয়ত কখন করবে

প্রতিটি ইবাদতের মতো রোজার ক্ষেত্রেও নিয়ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কাজা রোজার নিয়ত রাতেই করা জরুরি। অর্থাৎ সুবহে সাদিকের সময় বা তার আগেই নিয়ত করতে হবে। রাতে নিয়ত না করলে দিনের বেলা নিয়ত করার মাধ্যমে কাজা রোজা আদায় হবে না। নবীজি (সা.) বলেন, ‘ফজরের আগে নিয়ত না করলে রোজা শুদ্ধ হবে না।’ (সুনানে নাসায়ি: ২৩৩১) নিয়ত মুখে বলা জরুরি নয়, অন্তরের ইচ্ছাই যথেষ্ট।

রোজার কাফফারা

কখনো কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে রমজানের রোজা ভেঙে ফেললে শুধু কাজা করাই যথেষ্ট নয়, বরং তার ওপর কাফফারা ওয়াজিব হয়। কাফফারা হলো একধরনের শাস্তিমূলক ইবাদত, যার মাধ্যমে ব্যক্তি নিজের ভুলের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে। রোজার কাফফারা হলো ধারাবাহিকভাবে ৬০টি রোজা রাখা। যদি কেউ শারীরিকভাবে এত রোজা রাখতে সক্ষম না হয়, তাহলে ৬০ জন গরিবকে দুই বেলা খাবার খাওয়াতে হবে অথবা সমপরিমাণ খাদ্য দান করতে হবে। এটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়, তাই রোজা ভাঙার ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা জরুরি।

যখন কাজা ও কাফফারা উভয়টাই আবশ্যক

রমজানে দিনের বেলা ইচ্ছাকৃতভাবে স্বামী-স্ত্রী সহবাস করলে রোজা ভেঙে যায় এবং এতে কাজা ও কাফফারা উভয়টাই আবশ্যক হয়। একইভাবে কেউ যদি জেনেশুনে এমন কোনো কাজ করে, যা রোজা ভঙ্গ করে। যেমন ইচ্ছাকৃতভাবে খাওয়া বা পান করা। তাহলেও কাজা ও কাফফারা উভয়টা আবশ্যক হবে।

যখন রোজার কাফফারা আবশ্যক নয়

অনেক ক্ষেত্রে রোজা ভেঙে গেলেও কাফফারা আবশ্যক হয় না, বরং কাজা করাই যথেষ্ট। যেমন অনিচ্ছাকৃত কিছু খেয়ে ফেলা, অসুস্থতার কারণে রোজা ভেঙে ফেলা, হায়েজ বা নিফাস শুরু হওয়া ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে শরিয়ত মানুষের কষ্ট ও বাস্তব অবস্থাকে বিবেচনা করেছে। তাই শুধু সেই দিনের রোজা কাজা করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়।

ফিদয়ার বিধান ও পরিমাণ

কিছু মানুষ আছে, যারা স্থায়ী অসুস্থতা বা বার্ধক্যের কারণে রোজা রাখতে সক্ষম নয় এবং ভবিষ্যতেও রোজা রাখার সক্ষমতা অর্জনের আশা নেই, তাদের জন্য শরিয়তে ‘ফিদয়া’ দেওয়ার বিধান রয়েছে। ফিদয়া হলো প্রতিটি রোজার পরিবর্তে একজন দরিদ্র মানুষকে সদকাতুল ফিতর সমমূল্যের খাবার বা নগদ অর্থ দেওয়া। এটি মূলত অসহায় ও অক্ষম মানুষের জন্য একটি সহজ বিধান, যাতে তারা রোজা রাখতে না পারলেও আল্লাহর বিধান পালনে অংশ নিতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জিয়ার নাম না বলায় বিএনপির স্বাধীনতার অনুষ্ঠান বর্জন, ইউএনও বদলি

বিশ্বের সবচেয়ে অপছন্দের দেশের তালিকা প্রকাশ

ইসরায়েলের পরমাণু বোমার তথ্য ফাঁসকারী আরব ইহুদি ভানুনুর ভাগ্যে কী ঘটেছিল

ট্রাম্পের নীতিতে খেপেছে জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্রকে আঘাতে খুঁজছে দুর্বল জায়গা

খারগ দ্বীপের দখলে ভেঙে পড়বে আইআরজিসি, শেষ হবে যুদ্ধ: হোয়াইট হাউস

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত