Ajker Patrika

ইরানে ‘ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি’, ‘ধ্বংস ও মৃত্যুর’ মিছিল নামিয়ে আনবে যুক্তরাষ্ট্র

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৯: ২৬
ইরানে ‘ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি’, ‘ধ্বংস ও মৃত্যুর’ মিছিল নামিয়ে আনবে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানে ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় একটু স্কুলে নিহত শিশু শিক্ষার্থীদের কফিনে ফুল ছিটাচ্ছেন এক নারী। ছবি: ইসনা

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান আক্রমণে সাফল্যের দাবি করছেন। তাঁরা জোর দিয়ে বলছেন, ওয়াশিংটন তেহরান সরকারকে ‘দয়ামায়া ছাড়াই’ গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তাঁরা হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরানে ‘ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি’ এবং ‘ধ্বংস ও মৃত্যুর’ মিছিল নামিয়ে আনবে যুক্তরাষ্ট্র।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পেন্টাগন প্রধান বা মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী যুদ্ধের নিয়মকানুন শিথিল করছে এবং অত্যন্ত কম সংযমের সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরই মধ্যে ইরানে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে, যার মধ্যে শত শত বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

হেগসেথ বলেন, ‘ইরানি নেতারা ওপরের দিকে তাকালে প্রতি মিনিটের প্রতি সেকেন্ডে শুধু মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান শক্তিই দেখতে পাচ্ছে। যতক্ষণ না আমরা এটি শেষ করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, ততক্ষণ তারা এটি নিয়ে কিছুই করতে পারবে না।’

হেগসেথ আরও যোগ করেন, ইরানের মার্কিন জেটগুলো বা যুদ্ধবিমানগুলো ‘আকাশ নিয়ন্ত্রণ করছে, লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করছে’ এবং ‘সারা দিন আকাশ থেকে মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞ’ নামিয়ে আনছে। তিনি বলেন, ‘এটি কখনোই কোনো সমানে সমান লড়াই হওয়ার কথা ছিল না, এবং এটি সমানে সমান লড়াই নয়ও। তারা যখন ভূপাতিত, আমরা তখন তাদের ওপর আঘাত করছি—আর বিষয়টি ঠিক এমনই হওয়া উচিত।’

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, হেগসেথের এই মন্তব্য যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি স্বীকারোক্তি। বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘শুধু একটি নাৎসি মানসিকতাই শীতল মাথায় অন্য একটি জাতির ওপর মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে, শুধু তার প্রভুর ইচ্ছা পূরণ করার জন্য।’

তা সত্ত্বেও হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বুধবার মার্কিন প্রতিরক্ষাপ্রধানের ভাষারই প্রতিধ্বনি করেন। লেভিট বলেন, ‘আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আমরা আকাশে সেই আধিপত্য অর্জন করব। এর অর্থ হবে—মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্রের বৃষ্টি বর্ষণ করবে, যাতে ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার (যুদ্ধ মন্ত্রণালয় সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়) কর্তৃক চিহ্নিত নির্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুগুলো ধ্বংস করা যায়।’

এদিকে ইরানি কর্মকর্তারা দেশজুড়ে স্কুল ও হাসপাতালসহ বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে অসংখ্য হামলার খবর দিয়েছেন। বাঘাই বুধবার এমন কিছু ঘটনার তালিকা তুলে ধরেন, যেগুলোকে তিনি বেসামরিক স্থাপনার ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা বলে অভিহিত করেছেন। এর মধ্যে আবাসিক ভবন, রাস্তার বাজার এবং চিকিৎসাকেন্দ্র রয়েছে।

অপর দিকে ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানের শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় ১৬৫ জন নিহত হয়। বুধবার লেভিট বলেন, পেন্টাগন ঘটনাটি ‘তদন্ত’ করছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আবারও নিশ্চিত করছি, ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার এবং মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত