
বিশ্ববিখ্যাত গাড়ি নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান ভক্সওয়াগন তাদের জার্মানির একটি গাড়ি কারখানাকে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা করছে। গতকাল মঙ্গলবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভক্সওয়াগন এরই মধ্যে ইসরায়েলের সরকারি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস’-এর সঙ্গে তাদের ওসনাব্রুক প্ল্যান্টটি পুনর্গঠন নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সম্পন্ন করেছে। এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো গাড়ি উৎপাদনের বদলে সেখানে সরাসরি ইসরায়েলের ‘আয়রন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রাংশ তৈরি করা।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওসনাব্রুক কারখানায় আয়রন ডোমের বেশ কিছু জটিল ও শক্তিশালী হার্ডওয়্যার তৈরি করা হবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—
লঞ্চ প্ল্যাটফর্ম : যেখান থেকে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।
পাওয়ার ইউনিট : প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকারী বিশেষায়িত ইউনিট।
ভারী পরিবহন যান : সম্পূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাটিকে রণক্ষেত্রে দ্রুত স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত ট্রাক ও যান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুব সামান্য নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে এই কারখানায় পূর্ণোদমে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব।
ভক্সওয়াগনের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের এই সিদ্ধান্ত জার্মানির গাড়িশিল্পের গভীর সংকটের বিষয়টি সামনে এনেছে; বিশেষ করে চীনা ইলেকট্রিক গাড়িনির্মাতাদের সাশ্রয়ী ও উন্নত প্রযুক্তির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে ভক্সওয়াগন এখন টিকে থাকার জন্য ভিন্ন পথ খুঁজছে। জার্মানির সরকারও বর্তমানে তাদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের দিকে উৎসাহিত করছে, যাতে দেশের শিল্প সক্ষমতা এবং কর্মসংস্থান বজায় থাকে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক
এই সিদ্ধান্তের একটি বিতর্কিত ঐতিহাসিক দিকও রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে বেশ আলোড়ন তুলেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভক্সওয়াগন তাদের বেসামরিক গাড়ি উৎপাদন স্থগিত করে নাৎসি জার্মানির জন্য অস্ত্র ও সামরিক যান নির্মাণ শুরু করেছিল। কয়েক দশক পর আবারও একটি যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কোম্পানিটির অস্ত্র উৎপাদনের দিকে ঝুঁকে পড়াকে অনেক বিশ্লেষক ‘ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি’ হিসেবে দেখছেন।
ইসরায়েল-জার্মানি প্রতিরক্ষা মৈত্রী এবং বড় অঙ্কের চুক্তি
গাজায় চলমান যুদ্ধের মধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে ইসরায়েল কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও জার্মানি তাদের অন্যতম প্রধান ইউরোপীয় মিত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছে।
গত দুই বছরে জার্মানি ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক চুক্তির পরিমাণ ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ৩ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে ইসরায়েলের ‘অ্যারো ৩’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার অনুমোদন।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের (৬০%) পর জার্মানিই ইসরায়েলের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ, যা ইসরায়েলের মোট আমদানি করা অস্ত্রের প্রায় ৩০ শতাংশ।
আইনি ও আন্তর্জাতিক চাপ
এই সহযোগিতা এমন এক সময়ে আসছে, যখন ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গালান্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে পরোয়ানা জারি করেছেন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলায় গাজায় ‘গণহত্যার ঝুঁকির’ বিষয়টি স্বীকৃত হয়েছে।
এমন আইনি পরিস্থিতিতে জার্মানির এই সরাসরি সামরিক সহায়তা এবং ভক্সওয়াগনের মতো প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ ‘গণহত্যা কনভেনশন’ এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন কি না, তা নিয়ে নতুন করে বৈশ্বিক বিতর্ক ও আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সেনা মোতায়েনের আগে কংগ্রেসের অনুমোদন নেবেন কি না—এই বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। এক ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘এই মুহূর্তে সেটি প্রয়োজনীয় নয়।’
৩ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালিতে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়ে আছেন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থার (আইএমও) মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ। তিনি এই পরিস্থিতিকে বিশ্ব নৌ চলাচল শিল্পের জন্য একটি ‘বিরাট চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
৪ ঘণ্টা আগে
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাতের প্রেক্ষাপটে লেবাননের প্রতি ফ্রান্সের ‘পূর্ণ সমর্থন’ পুনর্ব্যক্ত করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। আজ বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং মানবিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।
৪ ঘণ্টা আগে
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-এর নতুন মহাপরিচালক (ডিরেক্টর জেনারেল) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক গুগল নির্বাহী ম্যাট ব্রিটিন। তিনি গত বছর পদত্যাগ করা টিম ড্যাভির স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। ডেভির পদত্যাগের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ভাষণের বিভ্রান্তিকর সম্পাদনা নিয়ে বিতর্ক ভূমিকা..
৫ ঘণ্টা আগে